জ্বালানি তেল
জ্বালানি তেল

তেলের দাম আবার ১০০ ডলার ছাড়াল, ২০০ ডলার ছাড়াতে পারে বলে ইরানের সতর্ক বার্তা

মাঝে দুই দিন দাম কমার পর আজ বৃহস্পতিবার আবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে ইরানের সতর্কবার্তা, বিশ্ববাজারে তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

আজ এশিয়ার বাজারে সকালের লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫০ ডলারে ওঠে। যদিও গতকাল বুধবার বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা সমন্বয়কারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির(আইইএ) ৩২ সদস্যদেশ ঘোষণা করেছে, সরবরাহের ঘাটতির আশঙ্কা মোকাবিলায় তারা সম্মিলিতভাবে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। খবর বিবিসির

আইইএর এই ঘোষণার পরও বাজারে তেলের দাম আর কমেনি, বরং আজ আবার উল্টো বাড়তে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, শিগগিরই ইরান যুদ্ধ শেষ হবে। এই ঘোষণার প্রভাবেও তেলের দাম কমেছিল।

এদিকে ইরান ছেড়ে কথা বলছে না। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন যেকোনো জাহাজে হামলা করা হতে পারে। তাঁর ভাষায়, কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না, বাজার নির্ভর করবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। ফলে বিশ্ববাসীকে প্রস্তুত থাকতে হবে, তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের দিক থেকে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে নিরাপত্তা না থাকলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে।

জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তটিও নজিরবিহীন। এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে, তখন আইইএ সদস্যরা যে পরিমাণ তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, এবার তার দ্বিগুণেরও বেশি তেল বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

মাঝে দুই দিন তেলের দাম কমলেও বাজারে অস্থিরতা ছিলই। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বিমান হামলা শুরু করার পর বৈশ্বিক তেলবাজারে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে তেল পরিবহন করা হয়, তার মূল ভোক্তা এশিয়ার দেশগুলো। ফলে এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলো বেশি চাপে পড়েছে। ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের পেট্রলপাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। জ্বালানির সংকট হতে পারে—এই আশঙ্কায় মানুষ আগেভাগেই জ্বালানি মজুত করছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য থাইল্যান্ড সরকার অধিকাংশ সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একইভাবে ফিলিপাইন সরকার জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সরকারি দপ্তরে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে। তেলের দাম বাড়তে থাকলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর পড়বে।