ইরান যুদ্ধের কারণে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি) প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুনাফা করেছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি–মার্চ) ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফার পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের গ্রাহক ও পণ্য বিভাগ ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা আগের প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণের বাড়তি খরচের ওপর ভিত্তি করে মুনাফা করেছে বিপি। এ নিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের নতুন প্রধান নির্বাহী মেগ ও’নিল বলেন, সংঘাত ও জটিলতার পরিবেশ সত্ত্বেও কোম্পানি তেল, গ্যাস ও পরিশোধিত পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে ভূমিকা রাখছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি সীমিত করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ–সংকটের মুখে পড়েছে, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
গত মার্চ মাসে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠেছিল, পরে জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ ছাড় দেওয়ায় বাজার কিছুটা ঠান্ডা হয়। যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ইরাকে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়মামের রুমাইলা তেলক্ষেত্র ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়।
ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের নতুন প্রধান নির্বাহী মেগ ও’নিল বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য ও দক্ষভাবে উৎপাদন সচল রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় স্থানে জ্বালানি পৌঁছে দিচ্ছেন তাঁরা। যাতে মানুষের জীবনে যুদ্ধের প্রভাব কমানো যায়।
মুনাফার সমালোচনা কেন
সমালোচকেরা বলছেন, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের এই বিরাট মুনাফা এসেছে লাখো জ্বালানি ভোক্তার খরচের ভিত্তি করে।
গ্রিনপিস ইউকের জলবায়ুকর্মী মাজা ডার্লিংটন বলেন, ‘এই যুদ্ধ তেলশিল্প ছাড়া সবার জন্য একটি বিপর্যয়। ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের মুনাফা বাড়ছে, ট্রাম্পের বোমা তাদের জন্য বিলিয়ন ডলার আনছে। আর আমাদের জন্য আনছে বড় বিল।’
অ্যান্ডফুয়েল পভার্টি কোয়ালিশনের সমন্বয়ক সাইমন ফ্রান্সিস বলেন, ‘এই বিপুল মুনাফা দেখিয়ে দেয় যে যখন সংঘাত তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ায়, তখন জ্বালানি কোম্পানিগুলো লাভ করে। আর পরিবারের খরচ বাড়ে।’
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের কারণে জুলাই থেকে পরিবারের জ্বালানি বিল বছরে প্রায় ২ হজার পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে।