ইউএসটিআরের লোগো
ইউএসটিআরের লোগো

জোরপূর্বক শ্রম

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব ইউএসটিআরের

বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে আরও ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন এই শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি কমাতে ব্যর্থ হয়েছে এই দেশগুলো। এই শুল্ক আরোপ হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ২৯ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ৬০টি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়। এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপানসহ যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সব দেশকে অবশ্য একই হারে শুল্ক দিতে হবে না।

ইউএসটিআরের প্রস্তাব, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যে পূর্ণ বা আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। যেসব অর্থনীতি এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেনি, তাদের জন্য শুল্কের হার হবে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ।

কোন দেশকে কত শুল্ক দিতে হবে, সে বিষয় ইউএসটিআরের বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার না হলেও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হতে পারে। এ তালিকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন রয়েছে। বাকি দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্য।

অন্যদিকে বাকি ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তালিকাভুক্ত ৬০টি দেশই জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে বা সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মার্কিন শ্রমিকেরা ‘অসম প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের’ সম্মুখীন হয়েছেন বলে ইউএসটিআরের মূল্যায়ন।

ইউএসটিআরের সিদ্ধান্ত, যে ৬০ দেশের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে, তারা জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, এই ব্যর্থতা অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি)(১) ধারার আওতায় এসব দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা।

বাংলাদেশের শুল্ক কত হবে

চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কহার ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এখন তার সঙ্গে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হলে মোট শুল্কহার হবে ২৯ শতাংশ। এতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় প্রভাব পড়বে, এমন আশঙ্কা আছে। তবে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর পণ্যেও শুল্ক আরোপিত হলে বাস্তবতা বোঝা যাবে।

আরও তদন্ত

সোমবার ইউএসটিআর জানিয়েছে, ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্যনীতি ও অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার তদন্তের অংশ হিসেবে দেশটির অনেক পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ১৬টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের মধ্যে চীনসহ আরও কয়েকটি দেশের অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতাসংক্রান্ত আরেকটি বড় তদন্তের ফলাফলও শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

গত ১১ মার্চ এই তদন্ত শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর ইউএসটিআর জানায়, তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি, পদক্ষেপ বা উৎপাদনকাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক কি না, সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূলত তৈরি পোশাক ও সিমেন্ট খাতের অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করবে যুক্তরাষ্ট্র।

জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে ইউএসটিআর জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট পণ্য প্রস্তাবিত শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, বিরল খনিজ ও নির্দিষ্ট কিছু ধাতু, গরুর মাংস, কফি, নির্দিষ্ট ফল ও সবজি, ওষুধ, জৈব রাসায়নিক ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ।