ম্যাকডোনাল্ডস
ম্যাকডোনাল্ডস

১০ বছরে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ম্যাকডোনাল্ডস, বদলাবে মেনু ও সেবা

ফাস্টফুডের বাজারে নেতৃত্ব ধরে রাখতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে বিপুল বিনিয়োগ করছে ম্যাকডোনাল্ডস। ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে মার্কিন এই ফাস্টফুড চেইন।

ম্যাকডোনাল্ডস জানিয়েছে, রেস্তোরাঁ সংস্কার; ২০ লাখ কর্মীকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বেশি প্রোটিন খেতে আগ্রহী গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে মেনুতে নতুন খাবার যোগ করায় এই অর্থ খরচ করা হবে।

আগামী সাড়ে তিন বছরে প্রায় পাঁচ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে মূলধনি সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ভাড়া কমানোর ব্যবস্থাও থাকবে।

ম্যাকডোনাল্ডসের এই কৌশলের নাম ‘নেক্সট’। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস কেম্পচিনস্কি বলেন, এর লক্ষ্য হলো আরও বেশি গ্রাহকের কাছে প্রথম পছন্দের রেস্তোরাঁ হয়ে ওঠা, যেখানে মানুষ আরও ঘন ঘন যাবে। সেই সঙ্গে রেস্তোরাঁগুলোর পরিচালন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

জানা গেছে, চলতি বছরে ম্যাকডোনাল্ডসের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।

কী পরিবর্তন আসছে

ভাড়া কমানো ও মূলধনি সহায়তার পাশাপাশি কয়েক শ কোটি ডলারের এই বিনিয়োগের বড় অংশ ব্যয় হবে রেস্তোরাঁ সংস্কারে। ম্যাকডোনাল্ডসের নিয়ম অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজি রেস্তোরাঁগুলোতে ১০ বছর পরপর সংস্কার করতে হয়।

গত বুধবার রেস্তোরাঁ সংস্কারের নকশা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁগুলোতে খাবারের জায়গার পরিসর আরও বড় হবে; সেই সঙ্গে থাকবে শিশুদের জন্য বড় খেলার স্থান ও উন্নত আলোর ব্যবস্থা। রান্নাঘরেও পরিবর্তন আনা হবে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ানো হবে। কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, এতে খরচ কমবে। ফলে প্রতিটি রেস্তোরাঁর বার্ষিক নগদ প্রবাহ প্রায় ১ লাখ ডলার বাড়তে পারে।

নতুন প্রতিযোগীদের মোকাবিলায় মেনুতেও পরিবর্তন আনছে ম্যাকডোনাল্ডস। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা হচ্ছে সেগুলো হলো, বার্গার কিং, নতুন পানীয় ব্র্যান্ড ও মুরগির মাংসভিত্তিক ফাস্টফুড চেইন। এসব প্রতিষ্ঠান চিকেন নাগেট ও টেন্ডারের মতো খাবার নিয়ে বাজারে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে।

এ ছাড়া আগামী ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্বজুড়ে ম্যাকডোনাল্ডসের ২০ লাখ কর্মীকে নতুন করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বার্গার কিং ও স্টারবাকসের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের কর্মসূচি চালু করছে।

ম্যাকডোনাল্ডসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে বার্গার কিং। গত প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের চলমান রেস্তোরাঁগুলোর বিক্রি গত প্রান্তিকে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এই হিসাবে তারা সবচেয়ে বড় ব্যবধানে ম্যাকডোনাল্ডসকে ছাড়িয়ে গেছে।

বুধবার কোম্পানির ইনভেস্টর ডেতে (বিনিয়োগকারীদের জন্য আয়োজিত বৈঠক) ম্যাকডোনাল্ডস ইউএসএর প্রেসিডেন্ট স্কাই অ্যান্ডারসন বলেন, গ্রাহকেরা এখন আরও বেশি প্রোটিন চান। খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা আরও স্বাধীনতা চান। এমন খাবার চান, যে খাবার বেশি ভারী না হলেও খেলে মনে হয়, পেট ভরা আছে।