বিশাল গর্গ
বিশাল গর্গ

৯০০ কর্মী ছাঁটাই করা সিইও গার্গের বিরুদ্ধে আদালতে বেটার হোম

প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিশাল গার্গের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্তত ৩০ দিনের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন চাওয়া থেকে বিরত রাখতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বেটার হোম।

বেটার হোমের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে করা এক মামলায় বেটার হোমের অভিযোগ, গার্গ ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছেন। ইতিমধ্যে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে গার্গ কোনো অনুমোদন বা সমর্থন আদায় করে থাকলে সেগুলোও বাতিলের আবেদন করেছে কোম্পানিটি।

৩ আগস্ট বেটার হোমের পরিচালনা পর্ষদ গার্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেয়। তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা হয় ড্যানিয়েল লুইসকে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে তাদের মোট নিট লোকসান ১৫০ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। একই সময়ে গার্গের মেয়াদে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

সিইও পদে ফিরতে গার্গের প্রচারণা

সিইও পদ থেকে অপসারণের পর গার্গ বিনিয়োগকারীদের সমর্থন নিয়ে আবার কোম্পানির নেতৃত্বে ফেরার চেষ্টা করছেন। তাঁর এই প্রচারণাকে ঘিরেই আদালতে নতুন করে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে বেটার হোম।

গার্গ এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে ৯০০ কর্মীকে একটি ভিডিও কলে মাত্র ৭৯ সেকেন্ডে ছাঁটাই করে আলোচনায় এসেছিলেন। ওই ঘটনায় তাঁর নেতৃত্ব ও কর্মী ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়। এবার শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করায় তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন।

আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন গার্গ নিজেও

গার্গের দাবি, তাঁর নিজের ও কয়েকজন প্রাথমিক বিনিয়োগকারীর বিশেষ ভোটাধিকারসম্পন্ন ক্লাস বি শেয়ারের মাধ্যমে তিনি প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়েছেন। তিনি আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরোকে নিয়োগ করেছেন এবং ১৩ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাঁকে আবার সিইও করার দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন।

গার্গ জানিয়েছেন, কোম্পানি লাভজনক না হওয়া পর্যন্ত বছরে মাত্র ১ ডলার বেতনেও কাজ করতে প্রস্তুত তিনি। পরে কোম্পানি স্থিতিশীল হলে সিইও পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন।

পুরোনো বিতর্কও পিছু ছাড়ছে না

২০২১ সালের ডিসেম্বরে জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত হন বিশাল গার্গ। পরে তিনি ছুটিতে যান। একটি হুইসেলব্লোয়ার মামলাও বাদ পড়ে এবং তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০২৩ সালের এসপিএসি একীভূতকরণের পর বেটারের শেয়ারদর প্রায় ৯৩ শতাংশ পড়ে যায়।

গার্গ স্বীকার করেছেন, ওই ছাঁটাই তাঁর এবং কোম্পানির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে তাঁর দাবি, কোম্পানির ওপর তিনি যথেষ্ট চাপ দিচ্ছেন না—লুইস তাঁকে এমনটাই বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া