রোকেয়া বেগম চার বছরের শিশু রাইয়ানকে নিয়ে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে এসেছেন
রোকেয়া বেগম চার বছরের শিশু রাইয়ানকে নিয়ে কুমিল্লার চান্দিনা থেকে এসেছেন

চার বছরের ছেলেকে নিয়েই আন্দোলনে সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক রোকেয়া বেগম

চার বছরের ছেলে রাইয়ানকে কোলে নিয়েই আগস্টেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগের আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন কুমিল্লার চান্দলার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক রোকেয়া বেগম। চাকরির অনিশ্চয়তা আর সন্তানকে রেখে আসার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই তাকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন তিনি।

আজ রোববার সকালেই বাসে কুমিল্লা থেকে রওনা দিয়ে সরাসরি শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেন রোকেয়া বেগম। পদায়নের দাবিতে এক হাজারের বেশি সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

ছেলেকে সঙ্গে আনার কারণ জানতে চাইলে রোকেয়া বেগম বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আগে কখনো আন্দোলনে আসিনি। বাসায় বাচ্চাকে রেখে আসার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই বাধ্য হয়ে সঙ্গে এনেছি। চাকরিটা আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন, তা শুধু আমরাই জানি।’ তিনি জানান, আপাতত রাতে ঢাকায় থাকার পরিকল্পনা নেই। তবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে হোটেলে থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

একই আন্দোলনে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছেন আরেক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক পরিবারের সদস্য। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে পাঁচ বছরের মারজিয়া ও চার বছরের নিশাত। শিশুদের বাবা বলেন, ‘আমার স্ত্রীর চাকরিটা খুব প্রয়োজন। তাই বাধ্য হয়েই এসেছে। বাচ্চারাও মায়ের সঙ্গে আসার বায়না করেছিল। তাই আমিও ওদের সঙ্গে এসেছি।’

আন্দোলনস্থলে ঘুরে দেখা গেছে, রোকেয়া বেগমের মতো আরও অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক সন্তানদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। কারও কোলে শিশু, কারও পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট সন্তান। তাঁদের ভাষ্য, চাকরির দাবির এই আন্দোলনে যেমন থাকা জরুরি, তেমনি সন্তানদের রেখে আসার মতো পরিস্থিতিও অনেকের নেই।