
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে ‘রিপিট ক্যাডার’ সংশোধন, নন-ক্যাডার পদের বৈষম্য নিরসন এবং পুনরায় পছন্দক্রমের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন সংক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা। আজ রোববার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, ৪৫তম বিসিএসের ফলাফল বর্তমান সময়ের বৈষম্যহীন নীতি ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আদর্শের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিকদের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীরা জানান, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় শতাধিক রিপিট ক্যাডার সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে একই প্রার্থী বারবার একই পদে সুযোগ পাচ্ছেন অথচ যোগ্য মেধাবীরা বেকার থেকে যাচ্ছেন। ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল তিনবার সংশোধন করে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হলেও ৪৫তম বিসিএসের ক্ষেত্রে পিএসসির এমন কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে ১ হাজার ২২টি নন-ক্যাডার পদের কথা উল্লেখ থাকলেও মাত্র ৫৪৫ জনকে সুপারিশ করে বাকি ৪৫৭টি পদ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য নতুন পদ যুক্ত করার পরিবর্তে পদ হ্রাস করার এ ঘটনাকে প্রার্থীরা অমানবিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছেন।
আন্দোলনরত প্রার্থীরা আরও বলেন, ২০২২ সালের বিজ্ঞপ্তির পছন্দক্রম অনুযায়ী ২০২৫ সালে এসে ফলাফল দেওয়ায় এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে উচ্চতর গ্রেডে কর্মরত অনেক প্রার্থীকে তাঁদের পুরোনো পছন্দক্রমের কারণে নিম্ন গ্রেডের পদে সুপারিশ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। এ ছাড়া ক্যাডার পদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ঠিক পরদিনই তড়িঘড়ি করে নন-ক্যাডারের ফল প্রকাশ করাকে প্রার্থীরা বিশৃঙ্খল ও বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করছেন।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, ক্যাডার পদের সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের আগেই নন-ক্যাডার সুপারিশ করায় মেধাতালিকায় বড় ধরনের অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে। এ বৈষম্য নিরসনে প্রার্থীরা পিএসসির কাছে সুনির্দিষ্ট তিনটি দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবিগুলো হলো—৪৪তম বিসিএসের গেজেট প্রকাশের পর এখন ৪৫তম বিসিএসের রিপিট ক্যাডার সংশোধন করে দ্রুত সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা, বর্তমান নন-ক্যাডার ফলাফল স্থগিত রেখে বিভিন্ন দপ্তরের শূন্য পদ সংগ্রহের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং ৪৪তম বিসিএসের ন্যায় আবার পছন্দক্রম প্রদানের সুযোগ দিয়ে প্রকৃত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বৈষম্যের শিকার চাকরিপ্রার্থীরা।