
বাংলাদেশ এমন এক সময় অতিক্রম করছে, যা একটি দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে দুর্লভ। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের ( ইএনএফপিএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘জনমিতিক লভ্যাংশ (Demographic Dividend)। এটি একটি বিরল সুযোগ, যা সঠিক নীতি ও কার্যকর বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা সময়সীমা দ্বারা আবর্তিত। বিশ্লেষক ও জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৩ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যেই এই সুযোগের সময়সীমা শেষ হয়ে যাবে। সেই লক্ষ্যে এখনই সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যা তরুণদের আগামী অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত করবে।
জনমিতিক লভ্যাংশের মূল শক্তি মানুষের সংখ্যা নয়, তাদের দক্ষতা। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও ও পুরোপুরি নয়। ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির যৌথ পরিচালনায় ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী চার হাজারের বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ তরুণ নিজেদের ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতায় আত্মবিশ্বাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ থাকলেও অনেক তরুণের মধ্যে প্রযুক্তি, যোগাযোগ, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা সমস্যা সমাধানের মতো মৌলিক দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে এমন বাস্তবতা উদ্বেগজনক। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই যুগে শুধু সনদ নয়, প্রয়োজন ব্যবহারিক দক্ষতা ও তার প্রয়োগ। তাই সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে মূলধারায় আনতে হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে ইংরেজি, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রোগ্রামিং ও আর্থিক সাক্ষরতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন উদ্যোক্তা তৈরির অনুকূল পরিবেশ। বিশ্বের সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়—মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষানীতি এবং শিল্পনীতির সমন্বয়ই অর্থনৈতিক রূপান্তরের ভিত্তি। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়া বাধ্যবাধকতামূলক কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি লক্ষ্যভিত্তিক শিল্প অর্থায়নের মাধ্যমে বার্ষিক ৮ থেকে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল, যার ফলে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ১৯৬১ সালের ৯৪ ডলার থেকে বেড়ে ১৯৯৫ সালে ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। ভিয়েতনামও একইভাবে কারিগরি প্রশিক্ষণকে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন খাতের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) সঙ্গে যুক্ত করে বার্ষিক ৬.৫ থেকে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং ১৯৯০ সালের ১০০ ডলারের মাথাপিছু জিডিপি আজ ৪,৩০০ ডলারে উন্নীত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম পরিকল্পিত কারিগরি শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে কয়েক দশকের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশও সেই পথ অনুসরণ করতে পারে, যদি দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত ইতোমধ্যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়েছে। নীরবে এই খাতটি দেশের যুব অর্থনীতির উন্নয়নে অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার সক্রিয় বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার বছরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক আয় দেশে নিয়ে আসছেন, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশের সমান। সরকার প্রবর্তিত ফ্রিল্যান্সার আইডি এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং সুবিধা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত এই খাতের সম্ভাবনা কেবল ব্যক্তিগত আয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে, দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার রপ্তানিকারক কোম্পানি এবং বৈশ্বিক উদ্যোক্তায় রূপান্তরের জন্য অর্থায়ন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে। ফিলিপাইনের ‘ডিজিটাল সিটিজ’ কর্মসূচি এবং এস্তোনিয়ার ডিজিটাল নগদ প্রবাহ যাচাইকরণ ব্যবস্থার আদলে বাংলাদেশেও ডিজিটাল ক্যাশ-ফ্লোভিত্তিক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা। বাংলাদেশে তরুণদের জন্য উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও অর্থায়নের একটি প্রাথমিক কাঠামো ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড ৫০০ কোটি টাকার একটি ইকুইটি তহবিল পরিচালনা করছে, যার মাধ্যমে ২৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউ এন্টারপ্রেনিউরস রিফাইন্যান্স স্কিম কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের (CMSME) জন্য জামানতবিহীনভাবে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত কার্যকরী মূলধন ও মেয়াদি ঋণ দিচ্ছে, যার সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। একইভাবে উইমেন এন্টারপ্রেনিউর রিফাইন্যান্স ফান্ডের আওতায়সহ জামানত দিতে অক্ষম নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যক্তিগত জামানতের ভিত্তিতে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং বিকাশমান ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ১ কোটি টাকা পর্যন্ত মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ঋণের সুযোগ তৈরি করেছে। এ ছাড়া কর্মসংস্থান ব্যাংকের মতো বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানও সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করছে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নানা ধরনের সহায়তা স্কিম থাকলেও তথ্যের অভাব, জটিল আবেদনপ্রক্রিয়া এবং সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তাই একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল অর্থায়ন প্ল্যাটফর্ম এই সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে। এ লক্ষ্যে একটি জাতীয় ইউনিফায়েড স্টার্টআপ ফাইন্যান্স পোর্টাল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা, এসএমই কর্মসূচি, আইসিটি বিভাগের তহবিল, আত্মকর্মসংস্থান ঋণ, সরকারি উদ্যোক্তা সহায়তা এবং তরুণদের জন্য বিদ্যমান সব অর্থায়ন কর্মসূচি এক প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত থাকবে। কে আবেদন করতে পারবে, কত সুদে ঋণ পাওয়া যাবে, কত দিন গ্রেস পিরিয়ড থাকবে, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং কোন খাত অগ্রাধিকার পাবে—এসব তথ্য সম্বলিত সহজবোধ্য বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। কারণ, অর্থনৈতিক সুযোগ সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার অর্থনৈতিক সুশাসনের অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সুফল অর্জন করতে হলে দেশীয় কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বছরে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠালেও অধিকাংশ তরুণ অভিবাসী এখনো স্বল্পদক্ষ শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যাচ্ছেন এবং দালালনির্ভর অভিবাসনব্যবস্থার কারণে উচ্চ ব্যয়, মৃত্যু ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশের উচিত শ্রম রপ্তানির প্রচলিত মডেল থেকে সরে এ লক্ষ্যে ব্যুরো অব ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (বিএমইটি–BMET)-কে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। জাপানের Specified Skilled Worker সার্টিফিকেশন, জার্মানির Dual Vocational Training মডেল কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কাঠামোর সঙ্গে দেশীয় কারিগরি শিক্ষাকে সমন্বয় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষাগত প্রস্তুতিকে বাধ্যতামূলক করতে হবে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা বিদেশের শ্রমবাজারে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে যাচাইকৃত কর্মচুক্তির ভিত্তিতে দ্রুত, ডিজিটাল ও জামানতবিহীন অভিবাসন ঋণ চালু করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) জনশক্তি প্রেরণ বাড়ালে দালালনির্ভরতা কমবে এবং কর্মীরা অধিক সুরক্ষা ও ন্যায্য সুযোগ পাবে। শুধু স্বল্পদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, ভাষাগত দক্ষতা এবং আধুনিক কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি উচ্চ আয়ের শ্রমবাজারে প্রবেশ নিশ্চিত করা গেলে জীবন মানোন্নয়নের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি আয় যেমন বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রার আনুষ্ঠানিক প্রবাহও শক্তিশালী হবে, রেমিট্যান্স বাড়বে এবং অভিবাসী কর্মীদের ঝুঁকি কমবে।
অন্যদিকে কৃষি, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, ব্লু ইকোনমি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং ফুলচাষের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় আম, হলুদ, বিভিন্ন মসলা, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রাসায়নিকমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে, যার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক—উভয় বাজারেই ক্রমবর্ধমান চাহিদা তৈরি হচ্ছে। একইভাবে পোলট্রি, হাঁস ও দুগ্ধশিল্প ইতোমধ্যেই সম্প্রসারণযোগ্য খাত হিসেবে নিজেদের সম্ভাবনা প্রমাণ করেছে। ফুল চাষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু মানুষের জীবনমান বদলে দিয়েছে; উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা, ব্র্যান্ডিং এবং সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে এই শিল্পকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমির আওতায় কাঁকড়া, ঝিনুক ও শামুক চাষের মতো উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত খাতগুলোকেও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানোকে শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে দেখতে হবে। নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা ঋণ, শিশুযত্ন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাও দেশের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অন্যতম শর্ত।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ছিল ৪১.৫ শতাংশ, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা ৮০.৭ শতাংশ। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থানের ধরন বদলে যাচ্ছে; তাই তরুণ নারীদের মেশিন পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল লজিস্টিকস ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতায় প্রশিক্ষণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই সম্ভাবনাকে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তি, কৃষি, নারী অংশগ্রহণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান—সবকিছুকে একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের আওতায় আনতে হবে। বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন সুসংহত ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং দ্রুত ও দৃঢ় বাস্তবায়ন। তাহলেই জনমিতিক লভ্যাংশ কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই ত্বরান্বিত করবে না; বৈষম্য কমিয়ে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
আজ নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী প্রজন্মের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ। জনমিতিক লভ্যাংশকে যদি আমরা দক্ষ মানবসম্পদ, উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতায় রূপ দিতে পারি, তবে বাংলাদেশ শুধু উচ্চ প্রবৃদ্ধির দেশই নয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নেরও অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠতে পারবে।
*লেখক: উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), ঢাকা ব্যাংক পিএলসি