পুলিশ
পুলিশ

পুলিশে সার্জেন্ট ও কনস্টেবল পদে বড় নিয়োগ: লক্ষ্য জনবল বৃদ্ধি ও সংস্কার

জাতির উদ্দেশে দেওয়া নিজের প্রথম ভাষণে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং বাহিনীর ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই বার্তার পর পুলিশ তার জনবল বৃদ্ধিতে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশে সার্জেন্ট ও কনস্টেবল পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন জনবল নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও জনবলসংকট

পুলিশের এ নিয়োগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সরাসরি নির্দেশনায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের সব পর্যায়ে জনবলসংকটের বিষয়টি সামনে আনেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের তাগিদ দেন। ওই বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পুলিশের সব স্তরেই জনবলের অভাব রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত ২ হাজার ৭০১টি কনস্টেবলের শূন্য পদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদেও দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আস্থার সংকট কাটাতে নতুন প্রজন্মের নিয়োগ

বিগত আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে গভীর অসন্তোষ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ও পুলিশ প্রশাসন এখন এমন একদল কর্মী বাহিনীতে যুক্ত করতে চায়, যাঁদের পেশাদারত্ব ও সততা নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকবে না। বিশেষ করে রাজপথে সরাসরি মানুষের সংস্পর্শে থাকা সার্জেন্ট ও কনস্টেবল পদে নিয়োগের মাধ্যমে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় সদর দপ্তর।

পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগে শারীরিক কসরত পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নেন লিখিত পরীক্ষায়।

সার্জেন্ট ও কনস্টেবল পদের বিস্তারিত

পুলিশ বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ সার্জেন্ট হিসেবে এবার নারী ও পুরুষ—উভয়কেই নিয়োগ দেওয়া হবে। দশম গ্রেডের এই পদের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই স্নাতক পাস হতে হবে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষতা ও কম্পিউটারে অভিজ্ঞ হওয়া বাধ্যতামূলক। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৮ মার্চ থেকে আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদনের এ সুযোগ ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা ১৯ থেকে ২৭ বছর হলেও বিশেষ কোটার ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য।

অন্যদিকে দেশের ৬৪ জেলা থেকে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল নিয়োগের আবেদন শুরু হয়েছে ৫ মার্চ থেকে। এই পদের জন্য ন্যূনতম এসএসসি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণেরা ৩১ মার্চ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জেলাভিত্তিক শূন্য পদের সঠিক সংখ্যা উল্লেখ করা না হলেও মেধা ও কোটার ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে পদগুলো পূরণ করা হবে।

তদবির ও জালিয়াতি রোধে কঠোর বার্তা

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এবারের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কঠোর সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা রাজনৈতিক তদবির প্রার্থীর অযোগ্যতা হিসেবে গণ্য হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রতিটি স্তরে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। যদি কোনো পর্যায়ে প্রার্থীর দেওয়া তথ্যে জালিয়াতি বা অসত্য কিছু পাওয়া যায়, তবে তাৎক্ষণিক আবেদন বাতিলের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়োগের এ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই দুটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পুলিশের নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়ার অংশ। মূলত শূন্য পদসমূহ পূরণের জন্য এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব নিয়োগের মাধ্যমে পুলিশের জনবলসংকট দূর করা হবে।’ তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও পুলিশের নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।