ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষা মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে, কবে হবে বিসিএস

আগামী ১০ মার্চ সমন্বিত ৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার দিন ধার্য করেছে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি। ওই দিন শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই সময়ে ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া রয়েছে। এ অবস্থায় মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে কি না, সেটি সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পিএসসিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি।

জানতে চাইলে পিএসসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রশ্নের মডারেশন শেষ। অর্থাৎ আমরা প্রশ্ন ছাপার জন্য পুরোপুরি তৈরি আছি। এখন আমাদের নির্ধারিত প্রেস থেকে কোনো সবুজ সংকেত পাইনি। এটি জানা গেলেই কেবল বলা যাবে পরীক্ষা মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে কি না।’ ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আমরা বিজ্ঞপ্তিতে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখের কথা বলেছিলাম। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি, তাতে কোনো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রেস থেকে খবর এলে ও এই সময়ের মধ্যে প্রশ্ন ছাপার বিষয়ে ইতিবাচক হলেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব।’

‘প্রশ্নের মডারেশন শেষ। আমরা প্রশ্ন ছাপার জন্য তৈরি আছি। আমাদের নির্ধারিত প্রেস থেকে কোনো সবুজ সংকেত পাইনি। এটি জানা গেলেই কেবল বলা যাবে পরীক্ষা মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে হবে কি না।’
পিএসসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা

একই দিনে ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির প্রধান মো. সাইদূর রহমান খানকে কয়েকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, ১০ মার্চ ব্যাংকের পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তাঁরা পাননি। পরীক্ষা পেছানোর বিষয়ে তাই তাঁরা জানেন না। অর্থাৎ ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরীক্ষা হচ্ছে বলেই জানান ওই কর্মকর্তা। ৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ১ হাজার ৭৬৩টি পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কতজন অংশ নেবেন, সেই তালিকাও এখনো প্রকাশ করেনি ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি।

পিএসসি বলছে, ৪৫তম বিসিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এতে আবেদন করেছেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার প্রার্থী। গত বছরের ৩০ নভেম্বর পিএসসির ওয়েবসাইটে ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ১০ ডিসেম্বর আবেদন শুরু হয়ে শেষ হয় ৩১ ডিসেম্বর। ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৩০৯ জন ক্যাডার নেওয়া হবে। নন-ক্যাডারে নেওয়া হবে ১ হাজার ২২ জনকে।

৪৫তম বিসিএসে ২ হাজার ৩০৯ ক্যাডারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ হবে চিকিৎসায়। সহকারী ও ডেন্টাল সার্জন মিলিয়ে ৫৩৯ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। চিকিৎসার পর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পাবেন ৪৩৭ জন। এ ছাড়া পুলিশে ৮০, কাস্টমসে ৫৪, প্রশাসনে ২৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তর দিলে প্রতিটি ভুলের জন্য মোট প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূন্য দশমিক ৫০ নম্বর করে কাটা যাবে।

এদিকে ৪৫তম বিসিএসের আবেদন করতে গিয়ে সমস্যা হওয়ায় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের কোড সংশোধন করেছে পিএসসি। এবারই প্রথমবারের মতো ক্যাডার পদের পাশাপাশি নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পিএসসি।

আবেদনের সময় ক্যাডার পদে যেমন পছন্দ নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়, তেমনি নন-ক্যাডার পদেও পছন্দের তালিকা নির্দিষ্ট করে দিতে পেরেছেন প্রার্থীরা। কিন্তু আবেদন করতে গিয়ে কিছু সমস্যায় পড়েন আবেদনকারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের কোড সংশোধন করে পিএসসি।