রাইড শেয়ারিং সেবা সংস্থা উবার তাদের বৈশ্বিক জনবলের ১০ শতাংশ বা প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কর্মীকে করপোরেট চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। ব্যবস্থাপনা সহজ করা, খরচের দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের লক্ষ্যেই ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় এই ছাঁটাইপ্রক্রিয়া শুরু করল মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।
উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খসরোশাহি গত বুধবার কর্মীদের পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, উবারকে আরও সহজ ও গতিশীল সংস্থা হিসেবে গড়ে তুলতে এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের ইতিমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব দেশে স্থানীয় আলাদা শ্রম আইন রয়েছে, সেখানে সেই নিয়ম অনুসরণ করা হবে।
বিগত পাঁচ বছরে সংস্থাটি দ্রুত বড় হয়েছে এবং ব্যবসায়িক সাফল্যও পেয়েছে। তবে এই বৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রশাসনিক জটিলতা ও স্তরের সংখ্যা বেড়ে যায়। মূলত এই বাড়তি স্তর কমাতেই ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ছোট ছোট টিম একত্র করা হচ্ছে এবং কর্মকর্তাদের অধীনে থাকা মাইক্রো-টিম প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হচ্ছে।
একই সঙ্গে কর্মীদের অফিসে ফেরা নিয়ে বার্তা দিয়েছে উবার। এখন থেকে ৯৯ শতাংশ কর্মীকেই সরাসরি অফিসে এসে কাজ করতে হবে। দূর থেকে কাজের সুযোগ পাবেন মাত্র ১ শতাংশের কম কর্মী। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন অফিসে এসে কাজ করার নিয়ম এখন থেকে মেনে চলতে হবে।
কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে উবার। চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় গাড়ি ‘রোবোট্যাক্সি’ তৈরিতে সংস্থাটি ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ওয়েভ নামের একটি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতিমধ্যে অংশীদারত্ব করেছে উবার।
অন্যদিকে খাবার সরবরাহের বিশ্ববাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে উবারইটস বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি তারা ১ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারে জার্মান প্রতিষ্ঠান ‘ডেলিভারি হিরো’ কেনার চুক্তি করেছে। ডোরড্যাশের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতেই এই বিনিয়োগ।
২০১০ সালে সান ফ্রান্সিসকো থেকে যাত্রা শুরু করে উবার। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ১৫ হাজার কোটি (১৫০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি। করোনা মহামারির পর এত বড় ছাঁটাই প্রতিষ্ঠানটি আর দেখেনি। ২০২০ সালে মহামারির তীব্র প্রভাবে কাজ হারিয়েছিলেন ৬ হাজার ৭০০ জন কর্মী।
গার্ডিয়ান অবলম্বনে