কৌতূহলী মনে বিজ্ঞানের প্রশ্ন

২য় বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড। আজ সকালে রাজধানীর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এই অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
২য় বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড। আজ সকালে রাজধানীর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এই অলিম্পিয়াডের উদ্বোধন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

একেকজনের একেক প্রশ্ন। কেউ জানতে চাইছে, পৃথিবীর কেন্দ্রে g-এর মান শূন্য কেন? কারও জিজ্ঞাসা, ডিএনএ কোড ভেঙে কি মানুষের মধ্যে অন্য প্রাণীর ক্ষমতা আনা যায়? আবার পানি কেন জ্বালানি নয়—সেটিও জানতে চাইছে কেউ। আর এসব প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বিশেষজ্ঞ উত্তরদাতাদেরও বেশ গলদঘর্ম অবস্থা। অনেক ভেবেচিন্তে সঠিক উত্তরটি দিতে হচ্ছে যে!

দ্বিতীয় বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে দেখা গেছে এমন দৃশ্য। রাজধানীর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে সহযোগী হিসেবে রয়েছে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী সংস্থা ডোজ, ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা ক্রো-ল্যাব ও অন্য রকম বিজ্ঞান বাক্স।

সকাল নয়টায় বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। প্রথমেই অনুষ্ঠিত হয় দেড় ঘণ্টার পরীক্ষাপর্ব। তাতে তিনটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

পরীক্ষা চলাকালেই অডিটোরিয়ামের বাইরে কথা হয় সুবল চন্দ্র দাশের সঙ্গে। যশোর থেকে মেয়েকে নিয়ে এসেছেন তিনি। তাঁর মেয়ে সুস্মিতা বিশ্বাস দশম শ্রেণিতে পড়ে। বিজ্ঞান নিয়ে তাঁর আগ্রহ বেশ। নিজের আগ্রহেই রেজিস্ট্রেশন করেছিল সে। মেয়ের আগ্রহে বাধা দেননি বাবা-মা।

সুবল চন্দ্র দাশ বলেন, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মেয়ে কোনো পুরস্কার না জিতলেও মন খারাপ হবে না তাঁর। তিনি বলেন, সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নিলে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতেও ভালো করবে সুস্মিতা।

পরীক্ষার পর কিছুক্ষণের বিরতি দিয়ে শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। উত্তরদাতা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী রেজাউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুজ্জামান খান ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। সেখানেই নানা প্রশ্ন নিয়ে হাজির হয় শিক্ষার্থীরা। উত্তরদাতারাও বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের কৌতূহল মেটানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। তবে সময় সীমিত থাকায় অনেকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এরপর সময় ঘনিয়ে আসে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহসভাপতি মুনির হাসানের সঞ্চালনায় তাতে বক্তব্য দেন সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক স্বপন কুমার ঢালী। তিনি বলেন, একবিংশ শতাব্দীর ছাত্রদের জন্য একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী শিক্ষক প্রয়োজন। সরকার ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সেদিক থেকে এমন সায়েন্স অলিম্পিয়াডের আয়োজন প্রশংসনীয়। এ সময় অধ্যাপক স্বপন কুমার ঢালী ভবিষ্যতে এমন আয়োজনের ক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এরপরই একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। পরীক্ষার ফলাফলে ৬০ জনকে নির্বাচন করা হয়। তাদের হাতে মেডেল ও সার্টিফিকেট তুলে দেন উপস্থিত অতিথিরা।

জুনিয়র সেকশনে পুরস্কার জিতে বেশ উল্লসিত ছিল মালিহা ইসলাম। এখন আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেবে বলে জানায় সে। পুরস্কার সেই প্রস্তুতিতে যে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হবে, সেটিও বলে হাস্যোজ্জ্বল মালিহা।

তবে পুরস্কার না পেয়েও কিন্তু মন খারাপ করেনি নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আমানুর রহমান। সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। আমানুর বলে, ‘এবার প্রশ্ন দেখতে এসেছি। পুরস্কার না পেলেও ক্ষতি নেই। আগামীবার আবার চেষ্টা করব।’

গলায় পদক, হাতে সনদ। ২য় বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে বিজয়ীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে দল নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হলো। পরবর্তী সময়ে ক্যাম্প ও সিলেকশন টেস্টের মাধ্যমে দল নির্বাচন করা হবে। নির্বাচিত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (আইজেএসও) অংশ নেবে।

এর আগেও অবশ্য আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে দল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় হয়ে যাওয়া সেই আসরে অংশ নিয়ে ফারহান রওনক ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছে। এবার আরও উন্নতি করার আশায় রয়েছেন আয়োজকেরা।