
সমাজকর্ম ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
অধ্যায়–১
বিভা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। যার সম্মান ও মাস্টার্স উভয় শ্রেণিতে ৬০ কর্মদিবসের মাঠকর্ম রয়েছে। বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রশ্ন
ক. Introduction to Social Welfare গ্রন্থটি কার লেখা?
খ. ‘সমাজকর্ম একটি পদ্ধতিনির্ভর সমাধানের প্রক্রিয়া’—ব্যাখ্যা করো।
গ. বিভা যে বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে, তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা বিষয়টি পাঠের আবশ্যকতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. Introduction to Social Welfare গ্রন্থটি ওয়াল্টার এ ফ্রিডল্যান্ডারের লেখা।
খ.
সমাজকর্ম হলো একটি সুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া। যেকোনো ধরনের আর্থসামাজিক সমস্যার স্থায়ী, কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধানের জন্য সমাজকর্ম কতগুলো সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির আওতায় সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এতে তিনটি মৌলিক ও তিনটি সহায়ক পদ্ধতির মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করা হয়। এসব পদ্ধতির সাহায্যে সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে স্বাবলম্বী করে তোলে। তাই বলা হয়, সমাজকর্ম একটি পদ্ধতিনির্ভর সমাধানের প্রক্রিয়া।
গ.
বিভা সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছে।
সমাজের সব স্তরের মানুষের আর্থ-মনো–সামাজিক সমস্যার বাস্তবমুখী সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্ম পেশার উদ্ভব হয়েছে। তাই সাধারণভাবে একে কল্যাণধর্মী বিষয় ও পেশা হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এর বেশ কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
সমাজকর্মের নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতির আওতায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণি, বয়স লিঙ্গভেদে সবাই সেবা লাভের অধিকারী। এটি একটি বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতানির্ভর সেবাকর্ম। এখানে সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থী—উভয়ের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। আবার বিভিন্ন পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমাধান এবং উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ লক্ষ্যে সমাজকর্মের কার্যক্রম প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়ন—এ তিনটি ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এ ছাড়া প্রতিটি পেশার মতো সমাজকর্মের কিছু মূল্যবোধ ও ব্যবহারিক নীতিমালা রয়েছে। উদ্দীপকে বিভার ক্ষেত্রেও আমরা একই রকম চিত্র দেখি। সে সমাজকর্ম বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছে। ওপরে তার পঠিত বিষয়ের বৈশিষ্ট্য আলোচিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা বিষয়টি অর্থাৎ সমাজকর্ম পাঠের আবশ্যকতা রয়েছে। আধুনিক সমাজ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত জটিল ও বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত। শিল্পায়ন ও শহরায়ণ, বিশেষ করে আধুনিকায়নের কারণে আমাদের সমাজব্যবস্থা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করছে। যেকোনো দেশের সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস, অসচেতনতা প্রভৃতি। সমাজকর্ম এসব কুসংস্কার ও কু-প্রথার প্রকৃতি, কারণ ও সমাধানের কৌশল নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে। আবার সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির কল্যাণে দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের কর্মসূচিগুলো সফলভাবে পরিচালনা করতে গেলে সমাজকর্ম জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বর্তমানে আমাদের দেশে আর্থসামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্দীপকের বিভা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন এক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছে, যার সম্মান ও মাস্টার্স—উভয় শ্রেণিতে ৬০ কর্মদিবস মাঠকর্ম রয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিভার বিষয়টি হলো ‘সমাজকর্ম’। আর সমাজকর্ম বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম পাঠের আবশ্যকতা রয়েছে।
মাহমুদ বিন আমিন, প্রভাষক
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা