হুমায়ূন আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদ

এসএসসি পরীক্ষা–২০২৬

‘১৯৭১’ উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের ছবি

বাংলা ১ম পত্র: বর্ণনামূলক প্রশ্ন

সহপাঠ–১৯৭১

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, শুভেচ্ছা রইল। বাংলা ১ম পত্রের সহপাঠ ‘১৯৭১’ উপন্যাস থেকে একটি দরকারি বর্ণনামূলক প্রশ্ন দেওয়া হলো। তোমরা মনোযোগসহকারে পড়বে।

প্রশ্ন

ক. মীর আলীকে মেজর এজাজ কেন সালাম দিলেন? ব্যাখ্যা করো।

খ. নিস্তরঙ্গ গ্রামীণ জীবনে যুদ্ধের বর্বরতা ‘১৯৭১’ উপন্যাসে কীভাবে রূপায়িত হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তর–ক

মীর আলীকে দেখে নিজের অন্ধ বাবার কথা মনে পড়ায় তাকে মেজর এজাজ সালাম দেয়। ‘১৯৭১’ উপন্যাসে নীলগঞ্জ গ্রামে যে পাকিস্তানি মিলিটারিদের দল এসে ক্যাম্প করেছে, তাদের কমান্ডার হলো মেজর এজাজ। সে একদিন তার সহচর বাঙালি যুবক রফিককে নিয়ে গ্রামে ঘুরতে বের হয়। সে সরেজমিন সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে চায়। পথিমধ্যে বৃদ্ধ মীর আলীকে সে দেখতে পায় বাড়ির বাইরে টুলের ওপর বসে থাকতে। রফিকের মাধ্যমে সে জানতে পারে যে লোকটি অন্ধ। বাড়ির বাইরে বসা অন্ধ বৃদ্ধ লোকটিকে বসে থাকতে দেখে তার নিজের বাবার কথা মনে পড়ে। রেশোবা গ্রামে তার বৃদ্ধ অন্ধ বাবাও এমনিভাবে বাড়ির বাইরে বসে থাকে। সে কথা মনে হতেই সে মীর আলীকে সালাম দেয়।

উত্তর–খ

জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখায় বারবার উঠে এসেছে দেশ, দেশের মানুষ, ইতিহাস–ঐতিহ্য প্রভৃতি। ‘১৯৭১’ তাঁর লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনাবলির মধ্যে অন্যতম। এ উপন্যাসের শুরুতে নীলগঞ্জ গ্রামের যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তাতে গ্রামটিকে আবহমান বাংলার আর দশটা সাধারণ গ্রামের মতোই মনে হয়। তবে গ্রামে পাকিস্তানি মিলিটারি প্রবেশ করার পর থেকে ধীরে ধীরে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।

নীলগঞ্জ গ্রামের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক একে দরিদ্র, শ্রীহীন, ৩০–৪০টি ঘরের একটি বিচ্ছিন্ন জনপদ বলেছেন। বিস্তীর্ণ জলাভূমি গ্রামটিকে  কাস্তের মতো দুই দিকে ঘিরে আছে। কৃষিকাজ করেই মূলত এখানকার লোকজনের জীবিকার সংস্থান হয়। গ্রামের অধিকাংশ ঘরেই খড়ের ছাউনি। সম্প্রতি কয়েকটি টিনের ঘর হয়েছে। বদিউজ্জামানের মতো হাতে গোনা দু–একজন কাজের জন্য গ্রামের বাইরে যায়। গ্রামে একটি মসজিদ ও একটি প্রাইমারি স্কুল রয়েছে। এলাকার বাইরের মানুষ বলতে মসজিদের ইমাম সাহেব ও স্কুলমাস্টার আজিজুর রহমান মল্লিক। গ্রামের সাধারণ জনগণের বাইরে নীলগঞ্জের জলাভূমিটার পাশে একদল কৈবর্ত বসবাস করে। গ্রামের সঙ্গে অবশ্য তাদের খুব একটা সংযোগ নেই। মাছ ধরার সিজনে তারা জলমহালে মাছ ধরতে যায়। আবার ফিরে আসে।

এ রকম একটা গণ্ডগ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করার পরই নিস্তরঙ্গ গ্রামটিতে ভিন্ন ধরনের কাণ্ডকারখানা ঘটতে থাকে। মসজিদের ইমাম সাহেব ও আজিজ মাস্টারকে বন্দী করে মেজর এজাজের নেতৃত্বে নির্যাতন শুরু করা হয়। আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করতে চিত্রা বুড়ির ছেলে হত্যার বিচারের নামে মনা ও তার ছোট ভাইকে ইমাম ও মাস্টারের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। মিলিটারিরা হত্যা করে সেনবাড়ির একমাত্র উত্তরাধিকারী নীলু সেনকেও। সফদরউল্লাহর বাড়িতে ঢুকে তার স্ত্রী ও শ্যালিকার ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায় মিলিটারিরা অথচ তাদের কারও সঙ্গে মুক্তিবাহিনী বা মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্কই ছিল না।

ওপরের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে যে নীলগঞ্জ গ্রামের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের কোনো সম্পর্ক না থাকলেও মেজর এজাজের নেতৃত্বে থাকা মিলিটারি দলটি তাদের কার্যকলাপের মাধ্যমে গ্রামটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। ফলে উপন্যাসের নীলগঞ্জ গ্রাম আর সাধারণ একটি গ্রাম হয়ে থাকেনি—মুক্তিযুদ্ধের একটা জলজ্যান্ত ছবি হয়ে উঠেছে।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা