অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

এসএসসি পরীক্ষা–২০২৬ 

ধ্বনি হলো ভাষার প্রাণ, প্রতীক হলো বর্ণ

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, তোমরা ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এখন ব্যাকরণ অংশের নির্ধারিত পরিচ্ছেদগুলো পড়ে প্রস্তুতি নেবে।

বাংলা ২য় পত্র: ব্যাকরণ

পরিচ্ছেদ–৫: ধ্বনি ও বর্ণ

ধ্বনি

ভাষায় ধ্বনির গুরুত্ব অপরিসীম। ধ্বনি হলো ভাষার মৌলিক উপাদান, যার মাধ্যমে শব্দ গঠিত হয় এবং ভাবের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ সম্ভব হয়। এককথায় বলতে গেলে, ভাষার ক্ষুদ্রতম একককে ধ্বনি বলে।

ধ্বনির প্রকারভেদ

ধ্বনির প্রকৃতি, উচ্চারণের পদ্ধতি ও ভাষায় তাদের কার্যকারিতা সহজে বোঝার জন্য বাংলা ভাষার ধ্বনিগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনি।

স্বরধ্বনি

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে। স্বরধ্বনিই হলো ভাষার প্রাণ, যা ভাষাকে শ্রুতিমধুর ও অর্থবহ করে তোলে।

ব্যঞ্জনধ্বনি

যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাক্​প্রত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে। ব্যঞ্জনধ্বনি ছাড়া শব্দের গঠন পূর্ণতা পায় না।

মৌলিক ধ্বনি

মৌলিক ধ্বনি হলো ভাষার সেই ক্ষুদ্রতম ধ্বনিগত একক, যা আর বিভাজ্য নয়। বাংলা ভাষায় ৩৭টি মৌলিক ধ্বনি রয়েছে। মৌলিক স্বরধ্বনি ৭টি: [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ], [ও], [উ] এবং মৌলিক ব্যঞ্জনধ্বনি ৩০টি: [প্], [ফ্], [ব্], [ভ্], [ত্], [থ ্], [দ্​], [ধ্​], [ট্], [ঠ্], [ড্​], [ঢ্], [চ্], [ছ্], [জ্], [ঝ্], [ক্], [খ্], [গ্], [ঘ্], [ম্], [ন্], [ঙ্], [স্], [শ্], [হ্], [ল্], [র্], [ড়্], [ঢ়্]।

বর্ণ

ধ্বনির প্রতীককে বলা হয় বর্ণ। এই বর্ণ কানে শোনার বিষয়কে চোখে দেখার বিষয়ে পরিণত করে। বর্ণ ছাড়া ভাষাকে দৃশ্যমান (লিখিত) রূপে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বর্ণের মাধ্যমে ভাষাকে ধাপে ধাপে শেখা ও শেখানো সহজ হয়।

বর্ণের প্রকারভেদ

ধ্বনির সঙ্গে মিল রেখে বাংলা বর্ণমালাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ।

স্বরবর্ণ

স্বরধ্বনির প্রতীক বা লিখিত রূপকে বলা হয় স্বরবর্ণ। 

ব্যঞ্জনবর্ণ

ব্যঞ্জনধ্বনির প্রতীক বা লিখিত রূপকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ।

বর্ণমালা

বর্ণমালা হলো একটি ভাষার সব বর্ণের ধারাবাহিক ও নির্দিষ্ট ক্রমে সাজানো তালিকা, যা ভাষার লিখিত রূপ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ ভাষার সব বর্ণকে একত্রে বলা হয় বর্ণমালা। বাংলা বর্ণমালায় বর্ণের সংখ্যা ৫০। মূল বর্ণগুলো স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণে বিভক্ত। মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ।

স্বরবর্ণ

অ আ ই ঈ উ ঊ ঋ এ ঐ ও ঔ = ১১টি

ব্যঞ্জনবর্ণ

ক খ গ ঘ ঙ

চ ছ জ ঝ ঞ

ট ঠ ড ঢ ণ

ত থ দ ধ ন

প ফ ব ভ ম

য র ল

শ ষ স হ

ড় ঢ় য় ৎ

ং ঃ ঁ= ৩৯টি

অতিরিক্ত বর্ণ

মূল বর্ণের পাশাপাশি বাংলা বর্ণমালায় রয়েছে নানা ধরনের কারবর্ণ, অনুবর্ণ, যুক্তবর্ণ ও সংখ্যাবর্ণ। 

কারবর্ণ

স্বরবর্ণের মোট ১০টি সংক্ষিপ্ত রূপ রয়েছে, এগুলোর নাম কারবর্ণ। কারবর্ণের স্বতন্ত্র ব্যবহার নেই। এগুলো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে, পরে, ওপরে, নিচে বা উভয় দিকে যুক্ত হয়। কোনো ব্যঞ্জনের সঙ্গে কারবর্ণ বা হ চিহ্ন না থাকলে ব্যঞ্জনটির সঙ্গে একটি [অ] আছে বলে ধরে নেওয়া হয়।

অনুবর্ণ

ব্যঞ্জনবর্ণের বিকল্প রূপের নাম অনুবর্ণ। অনুবর্ণের মধ্যে রয়েছে ফলা, রেফ ও বর্ণসংক্ষেপ।

ফলা

ব্যঞ্জনবর্ণের কিছু সংক্ষিপ্ত রূপ অন্য ব্যঞ্জনের নিচে অথবা ডান পাশে যুক্ত হয়, সেগুলোকে ফলা বলে, যেমন ন-ফলা (ন), ব-ফলা (ব), ম-ফলা (ম), য-ফলা (্৵), র ফলা (্্  ৶), ল-ফলা (ল)।

রেফ

র-এর একটি অনুবর্ণ রেফ। যখন র বর্ণটি কোনো ব্যঞ্জনবর্ণের আগে যুক্ত হয়, তখন তাকে রেফ বলা হয়।

বর্ণসংক্ষেপ

যুক্তবর্ণ লিখতে অনেক সময় বর্ণকে সংক্ষেপ করার প্রয়োজন হয়। যেমন ভ, দ, ন, ত  ইত্যাদি। এ ছাড়া ৎ বর্ণটি ত-এর একটি বর্ণসংক্ষেপ, যা বাংলা বর্ণমালায় স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে স্বীকৃত।

যুক্তবর্ণ

একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না। এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ ও অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ

ক্ট, জ্ঞ, জ্ঝ, ঞ্ঝ, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, প্স, জ্জ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, ষ্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ

ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্+র), ক্ষ (ক্+ষ),

ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্+স), গু (গ্+উ), গ্ধ (গ্​+ধ) 

ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্+ঞ), ঞ্চ (ঞ্+চ),

ঞ্ছ (ঞ্+ছ), ঞ্জ (ঞ্​+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত),

ত্থ (ত্+থ), ত্র (ত্+র), ণ্ড (ণ্+ড), দ্ধ (দ্+ধ),

ন্ধ (ন্​+ধ) ব্ধ (ব্+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।

সংখ্যাবর্ণ: সংখ্যাবর্ণ বলতে সংখ্যা প্রকাশ করার জন্য ব্যবহৃত চিহ্ন বা প্রতীককে বোঝানো হয়। বাংলা ভাষায় সংখ্যা নির্দেশের জন্য ১০টি সংখ্যাবর্ণ রয়েছে। যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ০।

প্রকাশ কুমার দাস, সহকারী অধ্যাপক
মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা