বাংলা: মূল ভাব লিখন
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে মূল ভাব লেখো।
অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার একটাই পুত্র। রাজপুত্রের সঙ্গে সেই রাজ্যের রাখাল ছেলের খুব ভাব। দুই বন্ধু পরস্পরকে খুব ভালোবাসে। রাখাল মাঠে গরু চরায় আর রাজপুত্র গাছতলায় বসে তার জন্য অপেক্ষা করে। নিঝুম দুপুরে রাখাল বাঁশি বাজায়। রাজপুত্র তার বন্ধু রাখালের পাশে বসে সেই সুর শোনে। বন্ধুর জন্য বাঁশি বাজিয়ে রাখাল বড় সুখ পায়। আর তা শুনে রাজপুত্রের মন খুশিতে নেচে ওঠে। রাজপুত্র বন্ধুর কাছে প্রতিজ্ঞা করে, বড় হয়ে রাজা হলে রাখালকে তার মন্ত্রী বানাবে।
মূল ভাব: এক রাজপুত্রের সঙ্গে এক রাখাল ছেলের ভালো বন্ধুত্ব ছিল। রাখাল গরু চরাত আর রাজপুত্র গাছতলায় বসে থাকত। রাখাল বাঁশি বাজাত আর রাজপুত্র সেই সুর শুনে খুশি হতো। তারা একে অপরকে খুব ভালোবাসত। রাজপুত্র কথা দেয়, বড় হয়ে রাখালকে মন্ত্রী বানাবে।
প্রশ্ন: ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতাটির মূল ভাব লেখো।
উত্তর: ‘শিক্ষাগুরুর মর্যাদা’ কবিতার মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে শিক্ষা হলো একটি জাতির মেরুদণ্ড আর শিক্ষক হলেন কান্ডারি। তিল তিল করে নীরবে–নিভৃতে শিক্ষক তাঁর আদর্শ দ্বারা জাতীয় আকাঙ্ক্ষার উপযোগী ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন। সমাজ ও দেশের জন্য শিক্ষকের অবদান অপরিসীম। তাই সমাজে শিক্ষকের মর্যাদা সবার ওপর। বাদশাহ আলমগীর উপলব্ধি করেছিলেন যে ছাত্র তার শিক্ষককে যথাযথ মর্যাদা দিতে জানে না, শিক্ষকের সেবা করতে জানে না, সে কখনো পরিবার, সমাজ ও দেশের উপযোগী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে না।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে মূল ভাব লেখো।
হাতিটা এমন ভাব করতে শুরু করল, সেই বুঝি বনের গুরুগম্ভীর ভারিক্কি চালের কেশর দোলানো প্রবল শক্তিধর সিংহ। হাতিটার কাছে আসতে ভয় পায়। হালুম বাঘ মামা, সে–ও হাতিটার কাছে ঘেঁষতে চায় না। বনের সবাই ভয়ে তটস্থ ও শঙ্কিত। কখন কী হয়। একবার হাতি নিরীহ একটা হরিণকে শুঁড়ে জড়িয়ে ছুড়ে দিল দূরে। আরেকবার ছোট্ট একটা খরগোশকে পায়ের তলায় পিষে ফেলল। সেই থেকে বনের কোনো প্রাণী হাতিটার ছায়াও মাড়াত না। দিনে হাতিটা হয়ে উঠল আরও অহংকারী। এ নিয়ে বনের কারও শান্তি নেই।
মূল ভাব: হাতিটি বনের রাজার মতো আচরণ করতে শুরু করল। শক্তিধর সিংহ-বাঘ তার কাছে যেতে ভয় পেত। একদিন হাতিটি একটি হরিণকে শুঁড়ে জড়িয়ে ছুড়ে ফেলল, একটি খরগোশকে মেরে ফেলল। এরপর বনের কোনো প্রাণী হাতির কাছে ঘেঁষতে সাহস পেত না। এভাবে সে দিন দিন আরও অহংকারী হয়ে উঠেছিল আর বনের প্রাণীরাও ভয়ে ছিল।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে মূল ভাব লেখো।
জগদীশচন্দ্র বসু নানা বিষয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন যে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক মিল আছে। ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র সরলা সৃষ্টি আবিষ্কার করেন। কোনো ভার ছাড়া ভরাল এক স্থান থেকে অন্য স্থানে প্রেরণে সফলতা অর্জন করেন। তারই প্রয়োগ ঘটছে আজকের সেতার, টেলিভিশন, রাডারসহ বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান–প্রদান এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি তাঁর এই সাফল্যের স্বীকৃতি পাননি। তাঁর করা পরীক্ষণগুলো ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের চমকে দেয়। কিন্তু দেশের কল্যাণের জন্যই তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন।
মূল ভাব: জগদীশচন্দ্র বসু ছিলেন একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। তিনি দেখিয়েছিলেন গাছেরও প্রাণ আছে। তিনি বেতার তরঙ্গ আবিষ্কার করেন, যা রেডিও ও টেলিভিশন ছাড়া নানা কাজে লাগে। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা তাঁর কাজ দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। দেশের জন্য কাজ করতে তিনি বিদেশে না থেকে নিজের দেশেই ফিরে আসেন।
প্রশ্ন: নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে মূল ভাব লেখো।
দৈত্যের কাহিনি শুনে জেলে বুঝতে পারল, আজ আর তার রক্ষা নেই। মৃত্যুর ভয়ে ভীত হলেও জেলে বুদ্ধি হারাল না। হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে বলল, ভাই, আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না যে তোমার অত বড় শরীরটা কেমন করে এই জালার মধ্যে ছিল। সত্য বলছ কি মিথ্যা বলছ, তা তুমিই জান। কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি, তোমাকে দেখলে এ কথা কেউই বিশ্বাস করবে না। জেলের কথা শুনে দৈত্য দাঁত কড়মড় করে মেঘের গর্জন তুলে বলল, কী! আমি মিথ্যা কথা বলছি? এই জালার মধ্যে আমি থাকতে পারি না? বেশ, মরার আগে জেনে যাও, দৈত্য মিথ্যা কথা বলে না। সত্য কথাগুলো বলে। অহংকারী দৈত্য চোখের পলকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে জালাটার ভেতরে ঢুকে গেল।
মূল ভাব: দৈত্যের কথা শুনে জেলে ভয় পেল, কিন্তু সাহস হারাল না। সে কৌশলে দৈত্যকে বোঝাল যে তার মতো বড় দেহ কীভাবে জালার ভেতরে ছিল, তা সে বিশ্বাস করে না। দৈত্য রেগে গিয়ে প্রমাণ করার জন্য আবার ধোঁয়া হয়ে জালার ভেতরে ঢুকে পড়ল। তখন জেলে তাড়াতাড়ি জালার মুখে ঢাকনা লাগিয়ে দিল। বুদ্ধির জোরে জেলে নিজের প্রাণ রক্ষা করল।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা