এআই/ প্রথম আলো
এআই/ প্রথম আলো

এসএসসি ২০২৬। ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র— প্যারাগ্রাফ লেখার নিয়ম–কানুন জেনে নাও

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রে প্যারাগ্রাফ লিখতে হয়। আজ আমরা জেনে নেব কীভাবে প্যারাগ্রাফ লিখতে হয়।

প্যারাগ্রাফ কী?

Paragraph শব্দটির আভিধানিক অর্থ অনুচ্ছেদ। এটি কম্পোজিশনের সংক্ষিপ্ত রূপ। এর দ্বারা নির্ধারিত কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু বাক্যে যথাযথ বর্ণনা দেওয়া হয়। তাই প্যারাগ্রাফ স্বয়ংসম্পূর্ণ, বস্তুনিষ্ঠ ও সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। এটি একটিমাত্র প্যারায় লেখার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এর মধ্যে সূচনা, মূল বক্তব্য ও সমাপ্তিসূচক বক্তব্য থাকতে হয়। প্রতিটি প্যারাগ্রাফের ‘শিরোনাম’ থাকতে হবে। একটি প্যারাগ্রাফে মাত্র একটি বিষয় থাকবে। বিষয়টিকে Introduction বা সূচনা, Middle বা মূল বক্তব্য ও Concluding Remark বা সমাপ্তিসূচক বক্তব্য মিলে একটিমাত্র প্যারায় উপস্থাপন করতে হয়।

প্যারাগ্রাফের বৈশিষ্ট্য

একটি সার্থক প্যারাগ্রাফের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক। প্যারাগ্রাফে একটি আইডিয়া বা পরিকল্পনা থাকবে, যা Controlling idea হিসেবে বিবেচিত হবে। Controlling ideaকে সহযোগিতা করার জন্য যথাযথ বর্ণনা প্রয়োজন। প্যারাগ্রাফে অবশ্যই একটা সূচনা, মূল বক্তব্য ও সমাপ্তিসূচক বক্তব্য থাকবে।

প্যারাগ্রাফের অংশ

১. ভূমিকার অংশ: প্যারাগ্রাফটির প্রথম বাক্য এমন হতে হবে, যাতে এর দ্বারা প্যারাগ্রাফের বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ফুটে ওঠে। তাই কোনো একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থপ্রদ বাক্য দ্বারা প্যারাগ্রাফ শুরু করতে হয়।

২. মধ্য অংশ: প্যারাগ্রাফে ভূমিকা, মূল বক্তব্য ও সমাপ্তিসূচক বক্তব্য আলাদা আলাদাভাবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই। তাই সূচনা বাক্যের মধ্যে মূল বক্তব্যের আভাস দিয়ে সরাসরি মূল বক্তব্য তুলে ধরতে হয়। আর তা করতে হয় সুনির্বাচিত ও অর্থপূর্ণ বাক্যের মাধ্যমে। প্রতিটি বাক্যের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করাও জরুরি। তা ছাড়া মূল বক্তব্যে উত্থাপিত উদ্ধৃতি ও উদাহরণ সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত।

৩. উপসংহারের অংশ: প্যারাগ্রাফের সূচনা অংশে যেমন সার্থক বাক্য থাকা আবশ্যক, তেমনই সমাপ্তিসূচক বক্তব্যেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বাক্য ব্যবহার করা উচিত। এ ক্ষেত্রে তা দু–একটি বাক্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর সেগুলো সমগ্র প্যারাগ্রাফের সারসংক্ষেপে উপস্থাপন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

কীভাবে প্যারাগ্রাফ লিখবে

প্যারাগ্রাফ লেখার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে।

১. প্যারাগ্রাফটি একটি আকর্ষণীয় বাক্য দিয়ে শুরু করতে হবে। অর্থাৎ প্রথম বাক্যে প্যারাগ্রাফের বিষয়ভিত্তিক ধারণা উপস্থাপন করতে হবে।

২. প্যারাগ্রাফের বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলো গুরুত্বের ক্রমানুসারে সাজিয়ে উপস্থাপন করতে হবে।

৩. প্যারাগ্রাফের বাক্যগুলো হবে সহজ এবং শব্দগুলো হবে পরিচিত। একটি বাক্যের সঙ্গে আরেকটি বাক্যের সম্পৃক্ততা থাকবে।

৪. প্যারাগ্রাফে একটি সমাপ্তিসূচক বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে। এতে নিজের মতামত থাকতে পারে।

প্যারাগ্রাফের ধরন

প্যারাগ্রাফ বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্যারাগ্রাফের কিছু ধরন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো—

১. লিস্টিং অনুচ্ছেদ: লিস্টিং অনুচ্ছেদের রয়েছে যেখানে অনুচ্ছেদ পরিচিতিকারী এবং অনুচ্ছেদ টার্মিনেটরের মধ্যে কোনো জিনিস বা ব্যক্তি

সম্পর্কে কিছু দেওয়া থাকে। এ–জাতীয় অনুচ্ছেদ প্রক্রিয়া বর্ণনা করার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই প্যারাগ্রাফগুলো সব সময় তালিকা সংযোগকারী দ্বারা লেখা হয়।

২. বর্ণনামূলক অনুচ্ছেদ: বর্ণনামূলক অনুচ্ছেদগুলো অতীত বা বর্তমানের কোনো ঘটনার বর্ণনা দেওয়া থাকে। বিষয়গুলো হতে পারে ব্যক্তিগত সর্বজনীন। তাই কোনো প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করার বর্ণনাই এ–জাতীয় প্যারাগ্রাফের আলোচ্য বিষয়।

৩. তুলনা ও বৈসাদৃশ্যের অনুচ্ছেদ: তুলনা ও বৈসাদৃশ্য অনুচ্ছেদগুলো সাধারণ বিষয়ের দৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য প্রদর্শন করে। এ–জাতীয় প্যারাগ্রাফগুলো  নকশা লিখতে পারে।

ক. দৃশ্যমান বিষয়বস্তু দৃশ্যমান ও বৈসাদৃশ্যজ্ঞাপক পয়েন্টগুলো বর্ণনার সময় অন্যটি সম্পর্কে বলে শেষ করে এবং উত্তর উপসংহার দিতে হবে।

খ. দৃশ্যের দৃশ্যমান চিত্রকল্পগুলোকে একটা বলতে হবে। পরবর্তী সময়ে বৈসাদৃশ্যজ্ঞাপক পয়েন্ট উল্লেখ করতে হয়।

  • মো. জসিম উদ্দীন িবশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক
    ঢাকা েরসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ঢাকা