‘ক’ গ্রুপের জন্য ৫০০ নম্বরের এবং ‘খ’ গ্রুপের জন্য ৫০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত মুক্তহস্ত অঙ্কনের ২০০ নম্বরসহ মোট ৭০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে
‘ক’ গ্রুপের জন্য ৫০০ নম্বরের এবং ‘খ’ গ্রুপের জন্য ৫০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত মুক্তহস্ত অঙ্কনের ২০০ নম্বরসহ মোট ৭০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে

চুয়েটে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, উপস্থিতি ৮৭%

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) স্নাতক প্রথম বর্ষে (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার চুয়েট ক্যাম্পাসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরের আরও দুটি উপকেন্দ্রে (হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ এবং চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ) একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টা হতে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বহুনির্বাচনী পরীক্ষা ও দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা ১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত মুক্তহস্ত অঙ্কন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় পুর ও পরিবেশকৌশল; তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল; যন্ত্রকৌশল এবং স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদগুলোর মোট ১২টি বিভাগে সংরক্ষিত ১১টিসহ মোট ৯৩১টি আসনের বিপরীতে মোট ১৩ হাজার ৯৪২ পরীক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার জন্য যোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় স্থান দেওয়া হয়। এর মধ্যে আজ ১২ হাজার ৯৯ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ৮৭ শতাংশ।

ভর্তি পরীক্ষা শেষে বেশ উচ্ছ্বসিত দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। ঢাকার ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ইস্মাত আরা ফাতেমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রশ্ন কিছুটা কঠিন লেগেছে। তবে আমরা সাবলীলভাবেই পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পেরেছি। চুয়েটে পরীক্ষা দিতে এসে সবচেয়ে ভালো লেগেছে এখানকার ভাই-আপুদের আত্মীয়তা দেখে। তাঁরা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন।’

চট্টগ্রামের ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী শরীফ সায়হান জানান, ‘আমরা কোনো সমস্যা ছাড়াই পরীক্ষা দিতে পেরেছি। ইংরেজি ও রসায়ন প্রশ্নগুলো কিছুটা কঠিন লেগেছে। রসায়নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হয়েছে। তবে চুয়েট কর্তৃপক্ষ খুবই আন্তরিক ছিল। আমরা ভালোভাবে পরীক্ষা দিতে পেরেছি।’

জানতে চাইলে চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল। তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। সব কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সব কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যবস্থাপনায় বেশ সহযোগিতা করেছে। যত দ্রুত সম্ভব বাকি কাজগুলো সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।’

এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ১২টি বিভাগে সংরক্ষিত ১১টিসহ মোট ৯৩১টি আসনের বিপরীতে মোট ১২ হাজার ৯৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলো এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ নিয়ে ‘ক’ গ্রুপ; ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলো, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এবং স্থাপত্য বিভাগ নিয়ে ‘খ’ গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। গ্রুপ ‘ক’ ও গ্রুপ ‘খ’–এর জন্য গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও ইংরেজি বিষয়ের ওপর বহুনির্বাচনী পদ্ধতিতে এবং গ্রুপ’–এর স্থাপত্য বিভাগের জন্য অতিরিক্তভাবে মুক্তহস্ত অঙ্কন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ক’ গ্রুপের জন্য ৫০০ নম্বরের এবং ‘খ’ গ্রুপের জন্য ৫০০ নম্বরের বহুনির্বাচনী পরীক্ষার পাশাপাশি অতিরিক্ত মুক্তহস্ত অঙ্কনের ২০০ নম্বরসহ মোট ৭০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়েছে। পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকা প্রকাশ হবে ৩১ জানুয়ারি (শনিবার)।