
বাংলা ২য় পত্র: ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি (পদ)
প্রশ্ন: ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তর: যে পদ দিয়ে কোনো কাজ করা বা হওয়া ইত্যাদি বোঝায়, সেগুলোকে ক্রিয়াপদ বলে।
যেমন—লেখে, পড়ে, যায়, খায় ইত্যাদি।
অর্থের দিক থেকে ক্রিয়াপদ দুই প্রকার:
১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের প্রয়োগে বাক্যের অর্থ সবটুকু প্রকাশ পায়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: ক্লাস শুরু হয়েছে। ফল বেরিয়েছে।
২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের সাহায্যে বাক্যের অর্থ সবটুকু প্রকাশ হয় না, সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশের জন্য আর কিছু ক্রিয়ার প্রয়োজন পড়ে, সেগুলোকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন: পরীক্ষার জন্য তৈরি হয়ে এসো। ভালো ফল হলে সবাই খুশি। এসব বাক্যে ‘হয়ে’, ‘হলে’ এসব ক্রিয়াপদ পর্যন্ত বললে অর্থের সম্পূর্ণ প্রকাশ হয় না। তাই এগুলো অসমাপিকা ক্রিয়াপদ।
গঠনের দিক থেকেও ক্রিয়াপদকে ভাগ করা যায়–
১. মৌলিক ক্রিয়া: যেসব ক্রিয়াপদ মৌলিক ধাতু থেকে গঠিত হয়, তাকে মৌলিক ক্রিয়া বলে। যেমন: সে ভাত খায় (খা+য়)।
২. যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে অন্য কোনো ধাতু যোগে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন: সে পাস করে গেল।
৩. প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা উদ্যোগে অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে। যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে পড়ান।
ক্রিয়ার কর্ম থাকা না–থাকার দিক থেকে ক্রিয়াপদকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন–
১. সকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার কর্ম থাকে, তাকে সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: ছাত্ররা বই পড়ে। এখানে ‘পড়ে’ ক্রিয়ার কর্ম ‘বই’। সে জন্য ‘পড়ে’ সকর্মক ক্রিয়া।
২. অকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার কর্ম থাকে না, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: সে বাড়ি যায়। এখানে ‘যায়’ ক্রিয়ার কোনো কর্ম নেই বলে তা অকর্মক ক্রিয়া। (‘বাড়ি’ কর্ম নয়, অধিকরণ)
৩. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে, তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক করান। এখানে ‘ছাত্রকে’ ও ‘অঙ্ক’-এ দুটি কর্ম আছে বলে ‘করান’ ক্রিয়াটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
প্রশ্ন: ক্রিয়াপদ কাকে বলে? ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগসহ উদাহরণ দাও।
উত্তর: ক্রিয়াপদ: ধাতুর প্রয়োগগত রূপ হলো ক্রিয়া। বাক্যের আবার দুটি অংশ—উদ্দেশ্য ও বিধেয়। উদ্দেশ্য হলো কর্তা এবং বিধেয় ক্রিয়া। ক্রিয়াপদ বিধেয় অংশে থাকে।
পড়ছে, খেলছে পদগুলো দ্বারা কোনো না কোনো কাজ করা বোঝাচ্ছে, এ জন্য এগুলো ক্রিয়াপদ।
সংজ্ঞা: যে পদ দিয়ে কোনো কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
যে পদের দ্বারা কোনো কার্য সম্পাদন করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে।
ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ–
অর্থ সম্পর্কের দিক থেকে ক্রিয়াপদকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—
১. সমাপিকা ও ২. অসমাপিকা
সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের দ্বারা বাক্যের অর্থ বা ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন: কাল ছাত্ররা আসবে। একসময় ফুটবল খেলতাম।
প্রতিটি বাক্যে ক্রিয়াপদের দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পেয়েছে; অর্থগত কোনো অপূর্ণতা নেই। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্রিয়াপদই সমাপিকা ক্রিয়া।
সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক ও অকর্মক দুই-ই হতে পারে। অনেক দিন ধরে ভাবছি লিখব (অকর্মক-সমাপিকা); কাল তোমাকে চিঠি লিখেছি (সকর্মক-সমাপিকা)।
অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়াপদের দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় না, বাক্যটি সমাপ্ত হয়েছে কি না বোঝায় না এবং বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণতার জন্য একটি সমাপিকা ক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকে, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
‘এ কথা শুনে তিনি হাসলেন’—একটি সম্পূর্ণ বাক্য।
‘হাসলেন’—সমাপিকা ক্রিয়া।
কিন্তু ‘এ কথা শুনে’—এই পর্যন্ত বাক্যটি বললে অর্থ অসম্পূর্ণ থাকে।
‘শুনে’ ক্রিয়াপদটি অসমাপিকা। ‘হাসলেন’ সমাপিকা ক্রিয়ার সাহায্যে ‘শোনা’ ক্রিয়াটির অর্থ অসম্পূর্ণতা পায়।
আমি বাড়ি এসে (অসমাপিকা) তোমাকে দেখলাম (সমাপিকা)।
সমাপিকা ক্রিয়ার মতো অসমাপিকা ক্রিয়ারও কর্তা, করণ, অধিকরণ ও অপাদান থাকতে পারে। অসমাপিকা ক্রিয়ারও কর্ম থাকতে পারে। বাক্যে সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়ার কর্তা ও কর্ম এক অথবা আলাদাও হতে পারে।
আমি খেয়ে এসেছি। ‘খেয়ে’ ও ‘এসেছি’ উভয়ের কর্তা ‘আমি’।
মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা