আহসান হাবীব
আহসান হাবীব

এসএসসি পরীক্ষা–২০২৬

গ্রামীণ প্রকৃতির সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক রয়েছে

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

কবিতা: আমি কোনো আগন্তুক নই

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, বাংলা ১ম পত্র বিষয়ে ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার ওপর আলোচনা করা হলো। এটি একটি সৃজনশীল প্রশ্ন। নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।

আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ খেত ভালোবেসে

জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এ সবুজ করুণ ডাঙায়;

হয়তো দেখিবে চেয়ে সুদর্শন উড়িতেছে সন্ধ্যার বাতাসে;

হয়তো শুনিবে এক লক্ষ্মীপেঁচা ডাকিতেছে শিমুলের ডালে;

হয়তো খইয়ের ধান ছড়াইতেছে শিশু এক উঠানের ঘাসে;

রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে

ডিঙা বায়; —রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে

দেখিবে ধবল বক; আমারেই পাবে তুমি ইহাদের ভিড়ে।

প্রশ্ন

ক. বিস্তর জোনাকি কোথায় দেখা যায়?

খ. ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’—কবি এ কথা বলেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা চিত্রের সঙ্গে ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. ‘উদ্দীপকের সঙ্গে “আমি কোনো আগন্তুক নই” কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি’—যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. বিস্তর জোনাকি রাতে বাঁশবাগানে দেখা যায়।

খ. কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর আজীবনের সম্পর্ক বোঝাতে আলোচ্য কথাটি বলেছেন।

জন্মভূমির সঙ্গে আত্মার সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই মানুষ সমগ্র দেশকে আপন করে নেয়। দেশ মানে শুধু চারপাশের প্রকৃতি নয়; বরং একে আপন সভায় অনুভব করাকে বোঝায়। দেশ যেখানে আপন, সেখানে দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক খুব নিবিড়। কবি এই বোধ প্রকাশ করতেই প্রশ্নোক্ত কথাটির অবতারণা করেছেন।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার গ্রামীণ প্রকৃতি ও জীবনের নিবিড় সম্পকের্র দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় নানা অনুষঙ্গের অবতারণা করে দেশের মানুষের চিরন্তন সম্পর্কের দিকটি বর্ণনা করেছেন কবি। এ কবিতায় তিনি জন্মভূমিকে নিজ সভায় অনুভব করেছেন। কবি এ দেশের সব চেনা–জানা অনুভূতির সঙ্গে প্রকৃতির সৌন্দর্য মিশিয়ে অপূর্ব রূপের বর্ণনা করেছেন। শুধু প্রকৃতি নয়, তিনি জীবনবোধের তুলনাও করেছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্যের সঙ্গে জীবনের যোগাযোগের সাক্ষীস্বরূপ প্রকৃতির বর্ণনা করেছেন কবি। উদ্দীপকে নদী, মাঠ, খেত ও জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার করুণ ডাঙার কথা যেমন উঠে এসেছে, তেমনভাবে এসেছে খইয়ের ধান ছড়ানো শিশুও।

একইভাবে ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায়ও পল্লি-প্রকৃতির পাশাপাশি এসেছে কদম আলী ও দারিদ্র্যপীড়িত জমিলার মায়ের প্রসঙ্গ। সুতরাং বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের জীবনপ্রবাহ উদ্দীপকে ফুটে ওঠায় তা ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকের সঙ্গে ‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার কিছু সাদৃশ্য লক্ষ করা গেলেও চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি।

‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতায় কবি জন্মভূমির প্রতি তাঁর আবেগ ও চিরন্তন সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। কবি গ্রামের প্রকৃতি ও জীবনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সবকিছুকে সাক্ষী রেখে। কবি গ্রামীণ জীবনেই বেড়ে উঠেছেন। গ্রামের মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তরের খেতের সরু পথ, তার পাশে ধানের সমারোহ যেমনভাবে তুলে ধরেছেন, তেমনভাবে আকাশ, জমিন, নদী, মাঝি, জীবন ইত্যাদির কথাও প্রকাশ করেছেন।

উদ্দীপকে কবি মৃত্যুর পরও বাংলার বুকে ফিরে আসতে চেয়েছেন। এ দেশের প্রকৃতির অপরূপ রূপে মুগ্ধ হয়ে কবি বাংলায় ফিরে আসার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। এ দেশের প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি উদ্দীপকে কবির গভীর জীবনবোধের প্রকাশ ঘটেছে। প্রকৃতির শ্যামল রূপের নানা উপাদানে কবি নিজেকে আবিষ্কার করতে চেয়েছেন।

উদ্দীপকে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীবনবোধের চেতনা থাকলেও প্রকাশ পেয়েছে মৃত্যুর পরবর্তী দিকগুলো। উদ্দীপকের কবিতায় কবি মৃত্যুর পরের জীবনের স্বপ্নিল বর্ণনা করেছেন। আলোচ্য কবিতায় কবি যেমন জীবনের নানা সংযোগ দেখিয়েছেন; উদ্দীপকের কবি তেমনি ফিরে আসতে চেয়েছেন এই প্রকৃতিতে, তবে মৃত্যুর পরে। চেতনাগত দিক থেকে একদিকে জীবন ও প্রকৃতির নানা সভাকে সাক্ষী মানার মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বকে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, অন্যদিকে মৃত্যুর পরের জীবনে প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের মধ্য দিয়ে ফিরে আসার বাসনা।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা