
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এপ্রিল মাসে, বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, একই প্রশ্নে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ৮০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়া হবে। আর ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়া হবে বেসরকারি অর্থাৎ কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের।
# প্রাথমিক বৃত্তির সংখ্যা হবে: মোট ৮২ হাজার ৫০০টি।
# মেধাবৃত্তির সংখ্যা: ৩৩ হাজার—সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য হবে ২৭ হাজার ৫০০ ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৫ হাজার ৫০০।
# সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা: ৪৯ হাজার ৫০০। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৮ হাজার ২৫০ বৃত্তি।
# মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে।
# শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে (২০২৭ সালে) প্রাথমিক বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর চিন্তা করা হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের তথ্য এন্ট্রি
যেসব শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে তাদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫–এ তথ্য এন্ট্রি করতে হবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই–সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়–সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫’–এর পরীক্ষার্থীর তথ্য (ডিআর) IPEMIS সফটওয়্যারে এন্ট্রি (পরীক্ষার্থীর ছবি ও স্বাক্ষর আপলোডসহ), যাচাইকরণ ও অনুমোদনের কার্যক্রম আগেই শেষ হয়েছে।
দেশের সব উপজেলা বা থানাধীন সব বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর ছবি, স্বাক্ষর আপলোডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য (ডিআর) আকারে IPEMIS সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার কার্যক্রমের (৮–১১ মাচ৴) সময়সীমা নির্ধারণ করা ছিল।
পরীক্ষার সময়সূচি যেমন হতে পারে
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নির্ধারিত বিষয় থাকবে মোট ৫টি। আর পরীক্ষা হবে ৪টি।
পরীক্ষার মোট নম্বর থাকবে ৪০০।
পরীক্ষার বিষয় ও নম্বর থাকবে—
১. বাংলায় ১০০ নম্বর,
২. ইংরেজিতে ১০০ নম্বর,
৩. গণিতে ১০০ নম্বর,
৪. বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে
১০০ নম্বর।
# যারা পরীক্ষা দিয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাবে, তাদের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রণীত নিয়মানুযায়ী মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে।
পরীক্ষার সিলেবাস
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাটি পঞ্চম শ্রেণির সিলেবাস অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। আর এই সিলেবাসটি প্রণয়ন করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। সেই নির্ধারিত সিলেবাসটি এরই মধ্যে তোমার কাছে সংগ্রহ করা আছে। যাদের কাছে সিলেবাসটি সংগ্রহ করা নেই তাদের জন্য ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে তা প্রকাশ করা হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার তারিখ
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি এখনো প্রকাশ করেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন আগামী এপ্রিল মাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার বিস্তারিত সময় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রকাশ করবে খুব তাড়াতাড়ি। বৃত্তির সময়সূচি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এ পাতায় জানানো হবে।
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে কিছু নিয়মাবলি মানতে হবে
১. ঈদের ছুটির পর এপ্রিল মাসে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হবে।
২. তোমরা এখন যষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে পড়েছ, পড়ার তিন মাস অতিবাহিত হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বইগুলো তোমার হাতের কাছে জোগাড় করে রেখে নিয়মিত রিভিশন দাও, ভালো করে প্রস্তুতি নাও।
৩. প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সিলেবাসটি দেখে নাও।
৪. ‘নেপ’ নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও।
৫. বৃত্তি পরীক্ষা তোমার জন্য মেধা যাচাইয়ের একটা সুযোগ। ভালো প্রস্তুতির মাধ্যমে এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে।
৬. বাংলা, ইংরেজি, গণিত, প্রাথমিক বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ওপর পরীক্ষা হবে। বিস্তারিত তোমার স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে জেনে নাও।
৭. সঠিক প্রস্তুতির জন্য প্রাথমিক সিলেবাস দেখে পড়া রিভিশন শুরু করে দাও। এতে তোমার প্রস্তুতি অনেক ভালো হবে।
খন্দকার আতিক, িশক্ষক
উইল্স লিট্ল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা