
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানোর চিরাচরিত প্রথা ভেঙে অনেক ও/এ লেভেল শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য বানাচ্ছেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও সিলেবাসের ভিন্নতা সামলে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা মেডিকেল কলেজের মেধাতালিকায় জায়গা পাওয়া অনেকটাই কৌশলনির্ভর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরাও দেশের মূলধারার প্রতিযোগিতায় বেশ দাপটের সঙ্গেই টিকে থাকছেন।
দেশের মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি পরীক্ষা মূলত জাতীয় শিক্ষাক্রমের (এনসিটিবি) পাঠ্যবইকেন্দ্রিক। ও/এ লেভেলের শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘পরিভাষা’ বা ‘টার্মিনোলজি’। মেডিকেল ভর্তির ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান ও রসায়নের অনেক তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন থাকে, যা ও/এ লেভেলের ‘কনসেপচুয়াল’ পড়াশোনা থেকে কিছুটা ভিন্ন। তবে ও/এ লেভেলের শিক্ষার্থীদের গভীর বেসিক তাঁদের ফিজিকস ও কেমিস্ট্রিতে অনেকটা এগিয়ে রাখে। অন্যদিকে বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের জটিল সমস্যার সমাধান করতে হয়। এ লেভেলের সিলেবাসের সঙ্গে বুয়েটের পাঠ্যক্রমে উল্লেখযোগ্য মিল থাকলেও গাণিতিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের ক্ষেত্রে এনসিটিবির শর্টকাট টেকনিকগুলো আয়ত্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের জন্য মূল বাধা হলো ভাষা ও তথ্যের ব্যাপ্তি। বিষয়টি সমন্বয় করার জন্য প্রথমেই শিক্ষা বোর্ড থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় গ্রেড পয়েন্ট কনভার্ট করে সমমানের সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। ও/এ লেভেলের পাঠ্যবই মূলত ধারণাভিত্তিক হলেও দেশের ভর্তি পরীক্ষায় অনেক সময় সরাসরি তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তাই বিশেষ করে জীববিজ্ঞান ও রসায়নের জন্য মূল বাংলা পাঠ্যবইগুলো শুরু থেকেই পড়ার অভ্যাস করা প্রয়োজন। ইংরেজিতে যা ‘ফটোসিনথেসিস’, বাংলায় তা-ই ‘সালোকসংশ্লেষণ’—এই ছোটখাটো টার্মগুলোর বাংলা প্রতিশব্দ না জানলে পরীক্ষার হলে প্রশ্ন বুঝতে সমস্যা হতে পারে। তাই মূল বইয়ের পাশাপাশি ব্রিটিশ কাউন্সিলের গাইডলাইন এবং সমমানের মডিউলগুলো অনুসরণ করলে এ জড়তা দ্রুত কেটে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ও/এ লেভেলের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আসন না থাকলেও তাঁরা সাধারণ মেধাতালিকায় সমানতালে প্রতিযোগিতা করতে পারেন। সাফল্যের জন্য এ লেভেল শেষ হওয়ার পর হাতে সময় খুব কম থাকে, বিধায় সেকেন্ড ইয়ার থেকেই প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় এনসিটিবির বইয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
গত এক দশকের প্রশ্নব্যাংক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু টপিক থেকে বারবার প্রশ্ন আসে, যা ও/এ লেভেলের শিক্ষার্থীদের জন্য প্যাটার্ন বুঝতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটে যাঁরা পরীক্ষা দিতে চান, তাঁদের জন্য আইইএলটিএস মানের ইংরেজি দক্ষতা একটি বড় শক্তির জায়গা হিসেবে কাজ করে। এর সঙ্গে নিয়মিত সাধারণ জ্ঞান চর্চা করলে মেধাতালিকায় ভালো অবস্থানে থাকা অনেক সহজ হয়ে যায়।
ও/এ লেভেলের পাঠ্যক্রম অত্যন্ত আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীদের মেধা ও জ্ঞানকে যদি সঠিক কৌশলে জাতীয় ভর্তি পরীক্ষার ছাঁচে ঢালা যায়, তবে বুয়েট বা মেডিকেলের মেধাতালিকায় ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীদের সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন কেবল পাঠ্যবইয়ের সঠিক সমন্বয় এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেশীয় ভর্তি পরীক্ষার কাঠামোর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।