নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ‘Celebrating Young Minds in Research and Innovation’ শিরোনামে এ এস ইসলাম স্কুল অব লাইফ, স্কুল অব বায়োইনফরমেটিকস ও চিলড্রেন রিসার্চ ফান্ডের সমাপনী পর্ব। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ১৫ ক্ষুদে বিজ্ঞানী, দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও বিজ্ঞানী অংশ নেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি), গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশি বায়োটেকনোলজিস্ট (জেএনওবিবি) ও মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারের (ম্যাসল্যাব) যৌথ উদ্যোগে তরুণদের গবেষণা নিয়ে এ উদ্যাপন করা হয়।
এ আয়োজনের শুরুতে ১৫ ক্ষুদে বিজ্ঞানী তাদের গবেষণা নিয়ে তৈরি করা পোস্টার প্রদর্শনী করে। এ সময় উপস্থিত অতিথিদের সামনে তারা তাদের গবেষণার উদ্দেশ্য থেকে শুরু করে কার্যপ্রণালি ও কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করে। পাশাপাশি উপস্থিত দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেয় তারা। অনুষ্ঠানের মূল পর্বের শুরুতে এই তিন প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কী শিখেছে, তাদের গবেষণা নিয়ে ভবিষ্যতে কী করতে চায়, এ সবকিছু নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা শোনায়। পাশাপাশি এসব গবেষণা নিয়ে তাদের পরিকল্পনাও জানায় তারা। আয়োজনের এক ফাঁকে প্রোগ্রামগুলোর দায়িত্বে থাকা মেন্টর, ভলান্টিয়াররাও তাঁদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। পরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
মূল আয়োজনের সমাপনীতে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি দেশে কীভাবে গবেষণা আরও বেশি করা যায়, এ নিয়ে মতামত প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিকস বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক খন্দকার সিদ্দিক-ই-রাব্বানী। এ সময় তিনি নিজের কিছু গবেষণার ইতিহাস ও গল্পও বলেন। দেশের চলমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য নিজেদের গবেষণাকে কাজে লাগানোর কথাও বলেন জাপানের আইওয়েট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবিদুর রহমান।
বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের সাধারণ সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সভাপতি মুনির হাসান শিক্ষার্থীদের গবেষণা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ আয়োজনে ঢাবির রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরীসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের শুরুতে ম্যাসল্যাব ও এসপিএসবির উদ্যোগে শুরু হয় চিলড্রেন রিসার্চ ফান্ড। এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশু–কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞান গবেষণায় আগ্রহী করা এবং এ–বিষয়ক সহায়তা দেওয়া। আগ্রহী দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র থেকে পাঁচজনকে বিজয়ী করা হয় এবং তাদের গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়। তারা সফলভাবে তাদের গবেষণার কাজ শেষ করে।
এ ফান্ডের পাশাপাশি শুরু হয় এ এস ইসলাম স্কুল অব লাইফ। শিক্ষার্থীদের জীববিজ্ঞানে আরও আগ্রহী করতে ও জীববিজ্ঞানের নানা জানা-অজানা বিষয় নিয়ে তাদের শেখাতে শুরু হয় এই কার্যক্রম। জুনিয়র ও সিনিয়র দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করে করানো হয় অনলাইন ক্লাস কর্মশালা। মোট ১৬০ শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসে অংশ নেয় এবং সেখান থেকে বাছাইকৃত সেরা ২৫ জনকে নিয়ে আয়োজিত হয় চার দিনের অফলাইন কর্মশালা। এ সময় তারা তত্ত্বীয় ক্লাসের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। চতুর্থ দিনে শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও মলিকুলার বায়োলজি ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ল্যাব পরিদর্শন করানো হয়। এখান থেকে বাছাইকৃত সেরা ছয়জনকে পরে দেশের বিখ্যাত গবেষণাগারগুলোয় ইন্টার্নশিপের সুযোগ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি তারা তাদের গবেষণাপত্রও জমা দেয়। এ ছাড়া কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বায়োইনফরমেটিকস ও জেনোমিকসের বিস্ময়কর দুনিয়া সম্পর্কে আগ্রহী করতে আয়োজিত হয় স্কুল অব বায়োইনফরমেটিকস।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি), গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশি বায়োটেকনোলজিস্ট (জেএনওবিবি) ও মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগারের (ম্যাসল্যাব) যৌথ উদ্যোগে তরুণদের গবেষণা নিয়ে এ তিনটি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিজ্ঞপ্তি