নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনেকেই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন
নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অনেকেই অনিশ্চয়তায় পড়েছেন

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন, চাপে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও

অস্ট্রেলিয়ায় অস্থায়ী ভিসায় থাকা বিদেশিরা দেশটির ভেতর থেকে আর শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করতে পারবেন না। আজ শুক্রবার থেকে দেশটিতে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

এক ভিসা থেকে আরেক ভিসায় পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর প্রবণতা (ভিসা হপিং) ঠেকাতে অভিবাসন আইনে নতুন এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়মে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও চাপে পড়েছেন।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের শিক্ষার্থী ভিসায় যেতে হলে দেশটির বাইরে গিয়ে আবেদন করতে হবে। দেশটির ভেতর থেকে এ ধরনের আবেদন আর গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষার্থী ভিসায় নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য যুক্ত করার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হয়েছে। মূল শিক্ষার্থী ভিসা অনুমোদনের পর নতুন করে কোনো পরিবারের সদস্যকে সেই ভিসায় যুক্ত করা যাবে না।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমান মূল কোর্স শেষ করতে সর্বোচ্চ আরও ১২ মাস প্রয়োজন হলে অস্ট্রেলিয়ায় থেকেই আবেদন করা যাবে। এ ছাড়া আগের চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রিতে ভর্তি হলে—যেমন স্নাতক শেষে স্নাতকোত্তরে, পিএইচডি বা বিদ্যালয় পর্যায়ে পড়াশোনা করলে কিংবা সরকারি বৃত্তি থাকলেও দেশটির ভেতর থেকে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশি একজন শিক্ষার্থী বলেন, হঠাৎ করে অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে ভিসার আবেদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, দেশে ফিরে গিয়ে নতুন করে আবেদন করা সময়সাপেক্ষ। একই সঙ্গে এতে বড় ধরনের আর্থিক চাপও তৈরি হবে। তাঁর মতো অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নতুন নিয়মের কারণ ব্যাখ্যা করে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনমন্ত্রী টনি বার্ক বলেছেন, কিছু ব্যক্তি স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবেন না জেনেও এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। আপিল প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাঁরা যতটা সম্ভব অস্ট্রেলিয়ায় থাকার চেষ্টা করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টনি বার্ক বলেন, সরকার এমন একটি সাধারণ নিয়ম চালু করছে, যাতে ভিসার ক্ষেত্রে যোগ্যতার মাপকাঠিতে শুধু ওপরের দিকে যাওয়ার সুযোগ থাকে। শুধু অভিবাসনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বারবার কোর্স পরিবর্তনের পথও বন্ধ করা হচ্ছে।

অভিবাসনব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকাতে অসাধু অভিবাসন আইনজীবীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। আন্তর্জাতিক শিক্ষা, নাগরিকত্ব ও অভিবাসনবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেছেন, কোনো ভিসা আবেদনের সফল হওয়ার বাস্তব বা আইনি ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও জেনেশুনে তা জমা দিলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন পেশাজীবীদের কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

অভিবাসন আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে দুর্বল প্রবাসীদের শোষণ এবং ভুয়া তথ্য দিয়ে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা ঠেকাতে পেশাগত সনদ বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতে অনিয়ম ঠেকাতে নির্দিষ্ট কোর্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের ক্ষমতাও প্রয়োগ করেছে সরকার। ৫ অক্টোবর থেকে ‘গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা অব ম্যানেজমেন্ট’ কোর্সে নতুন করে কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানতে পেরে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থীর ভর্তির তারিখ এগিয়ে আনার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছে সরকার। জুলিয়ান হিল সতর্ক করে বলেছেন, নিয়ম ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

শিক্ষার্থীদেরও তাড়াহুড়া করে নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জুলিয়ান হিল। এজেন্ট বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন তিনি। একই সময়ে দুটি পূর্ণকালীন কোর্সে পড়াশোনার মতো বেআইনি বা অবাস্তব কর্মকাণ্ডে জড়ালে শিক্ষার্থীদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ভিসা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।