অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে চান অনেকেই। শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনে জেনুইন স্টুডেন্ট (জিএস) নামের একটি শর্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৩ মার্চ বা তার পর থেকে জমা দেওয়া সব স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জিএস শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে। এর আগে জমা পড়া আবেদনগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে আগের জেনুইন টেম্পোরারি এন্ট্রান্স (জিটিই) নীতির আওতায়।
এই শর্তের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার যাচাই করে যে আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান কি না এবং সেখানে অবস্থান করবেন একজন সত্যিকারের শিক্ষার্থী হিসেবে।
জিএস শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান। পড়াশোনাই যে তাঁর প্রধান লক্ষ্য—এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা ও প্রস্তুতি দেখাতে হবে।
এই নীতিতে বলা হয়েছে, প্রকৃত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। ভবিষ্যতে এমন অভিপ্রায় থাকলেও তা GS মূল্যায়নে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য হবে না।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিএস–এর শর্তসংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর সরাসরি অনলাইন স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন ফরমেই দিতে হবে। প্রতিটি উত্তরের জন্য সর্বোচ্চ ১৫০ শব্দ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সব উত্তর দিতে হবে ইংরেজিতে।
আবেদনকারীর পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, পূর্ববর্তী শিক্ষা ও চাকরির ইতিহাস, কেন নির্দিষ্ট কোর্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া হয়েছে এবং এই কোর্স ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে কীভাবে সহায়ক হবে—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
জিএস মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু বক্তব্য নয়, সমর্থনযোগ্য নথি, প্রমাণসহ তথ্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে দেশটিতে আগত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থেই পড়াশোনার উদ্দেশ্যে আসছেন। এ ছাড়া স্টুডেন্ট ভিসা–ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।