মিড ডে মিল: কোনো কোনো স্কুলে পচা কলা, নষ্ট ডিম দেওয়ার অভিযোগ, খাবারের ধরন বদলের চিন্তা

কিছু এলাকায় পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি ও নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের অভিযোগ। খাবারের ধরন পরিবর্তনের চিন্তা।

নরসিংদী শহরের বৌয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ৩৩৯ জন। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ওই বিদ্যালয়ে দেখা যায়, উপস্থিত ২৪০ শিক্ষার্থীকে একটি করে সেদ্ধ ডিম এবং দুই পিস করে বানরুটির একটি প্যাকেট দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলল, প্রতিদিনই তারা খাবার পাচ্ছে। খাবার নিয়ে অভিযোগ নেই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপর্ণা রানী দেবী বললেন, অন্য কোনো বিদ্যালয়ে খাবারের মান খারাপ পড়ার কথা শুনেছেন, কিন্তু এই বিদ্যালয়ে এখনো খারাপ পড়েনি।

নরসিংদীর এই বিদ্যালয়ে কোনো অভিযোগ না থাকলেও ভিন্ন চিত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে গত ২২ এপ্রিল ফিডিং কর্মসূচির বানরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বানরুটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঘটনার দিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ ছাড়া ফরিদপুর সদর উপজেলার ৯৩ নম্বর শহীদ সালাহ উদ্দীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ এপ্রিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাওয়ার অনুপযোগী কাঁচা কলা বিতরণ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় বিদ্যালয়টির এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।

পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধা প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় বাধা—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ নামে পরিচিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই খাবার দেওয়া হয়।
চর কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাইস কুকারে ডিম সেদ্ধ করে দেওয়া হচ্ছে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ নামে পরিচিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় দেশের আরও কিছু এলাকায় পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি এবং নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের ঘটনা সামনে এসেছে।

পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধা প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম বড় বাধা—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ নামে পরিচিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে এই খাবার দেওয়া হয়।

খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্র সরবরাহকারীদের শোকজ করা হচ্ছে এবং সতর্ক করা হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের নিম্নমানের খাবার পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দিতে এবং গ্রহণ না করতে। তদারকি জোরদার করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ঢাকায় এনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ

এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিক্ষার্থীর উপস্থিতি বাড়ানো, ঝরে পড়া কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা। খাবারের তালিকায় রয়েছে বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট (বাড়তি পুষ্টিসমৃদ্ধ)।

একসময় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের বিস্কুটজাতীয় খাবার দেওয়া হতো। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে গরম খাবার (খিচুড়ি) দেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও পরে খাবারের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ামাত্র সরবরাহকারীদের শোকজ করা হচ্ছে এবং সতর্ক করা হচ্ছে। বিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোনো ধরনের নিম্নমানের খাবার পাওয়া গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দিতে এবং গ্রহণ না করতে। তদারকি জোরদার করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের ঢাকায় এনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিশুদের সপ্তাহে ৫ দিন দেওয়া হচ্ছে বনরুটি, ডিম ও কলা। ডিম-রুটি-কলা পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

খাবার কী, খরচ কত

এখন শনি থেকে বৃহস্পতিবার ছয় দিন খাবার দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী শনি, রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। সোমবার বানরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং মঙ্গলবার দেওয়া হয় ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও কলা। ইউএইচটি (আলট্রা হাই টেম্পারেচার) হলো দুধ সংরক্ষণের পদ্ধতি। এই দুধ প্যাকেট খুলে সরাসরি পান করা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতিটি ডিম ১৪ টাকা, কলা ১০ টাকা, বানরুটি ২৫ টাকা, দুধ ২৯ টাকা ও বিস্কুট ১৯ টাকা ধরে হিসাব করা হয়েছে।

খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে। দুধ সরবরাহ করে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান, বিস্কুট দুটি এবং বানরুটি-ডিম-কলা প্যাকেজ দেয় ১২টি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে সরবরাহে অনিয়ম, কম দামে নিম্নমানের পণ্য কেনা, আগে থেকে খাবার প্রস্তুত রাখা এবং পরিবহনে ত্রুটির কারণে মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এখন শনি থেকে বৃহস্পতিবার ছয় দিন খাবার দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী শনি, রবি, বুধ ও বৃহস্পতিবার বানরুটি ও সেদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। সোমবার বানরুটি ও ইউএইচটি দুধ এবং মঙ্গলবার দেওয়া হয় ফর্টিফায়েড বিস্কুট ও কলা। ইউএইচটি (আলট্রা হাই টেম্পারেচার) হলো দুধ সংরক্ষণের পদ্ধতি। এই দুধ প্যাকেট খুলে সরাসরি পান করা যায়।

মান নিয়ে অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, বানরুটি, কলা ও ডিমের বিতরণ পর্যায়ে সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এসব খাবার সংগ্রহ করে সরবরাহ করা হয় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো এজেন্টদের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দামে বরাদ্দ বেশি হলেও কোথাও কোথাও ১৪-১৫ টাকায় বানরুটি কেনা হয়। ডিম অনেক আগে থেকেই সেদ্ধ করে রাখা হয়। আবার কলা কাঁচা বা পচাও থাকে।

গত মার্চে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছানো হয়েছিল পচা ও কাঁচা কলা। ফলে উপজেলার অধিকাংশ স্কুল এসব কলা ফিরিয়ে দিয়েছে। পচা ও কাঁচা কলার ছবি–ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ফলে প্রায় বিদ্যালয়ে বিস্কুট পেলেও সেদিন কলা পায়নি শিক্ষার্থীরা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৮-১০টি স্কুলে এ সমস্যা হয়েছে।

৮ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলায় এই খাবার খেয়ে উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৭ শিক্ষার্থীকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

গত মাসে নরসিংদীতে পরিদর্শনে গিয়ে খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে ঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা গেলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এ ছাড়া অভিযোগের কারণে বানরুটি, কলা ও ডিম পরিবর্তনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রথম দিকে সব খাবার দেওয়া হতো, এখন খাবার কম দেওয়া হয়। বিশেষ করে শুধু বানরুটি যেদিন দেওয়া হয়, সেদিন খেতে কষ্ট হয়।

শিক্ষার্থী উপস্থিতি বেড়েছে

গত বৃহস্পতিবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা–বাগানের ভাড়াউড়া চা–বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, এদিন শুধু বানরুটি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহেদা শরমিন প্রথম আলোকে বলেন, যে খাবার দেওয়া হয়, সেগুলোর মান মোটামুটি ভালো। তবে সরকারের দেওয়া রুটিন অনুযায়ী তাঁরা খাবার পাচ্ছেন না। দুধের সঙ্গে বিস্কুট, ডিমের সঙ্গে বানরুটি এবং কলার সঙ্গে বানরুটি দেওয়ার কথা থাকলেও এখন ‘সিঙ্গেল আইটেম’ দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রথম দিকে সব খাবার দেওয়া হতো, এখন খাবার কম দেওয়া হয়। বিশেষ করে শুধু বানরুটি যেদিন দেওয়া হয়, সেদিন খেতে কষ্ট হয়।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার দক্ষিণ মাধুপুর নয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় দেখা যায়, সেদ্ধ ডিম সরবরাহ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর বরাদ্দ করা ৫৫টি বানরুটি আগের দিন বিকেলে বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক জানান। স্কুলের প্রধান শিক্ষক শেলিনা বেগম সরকার বললেন, মিড–ডে মিল চালুর ফলে গত বছরের তুলনায় এ বছর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে।

বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু উপস্থিতি বাড়ায় না, শেখার ফলাফল উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তবে খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী

সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

বর্তমানে ১৫০ উপজেলায় বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির তিন বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর থেকে আরও ৩৪৮ উপজেলায় এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। মোট শিক্ষার্থী ২ কোটি ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৬ লাখের বেশি। ২০২৪ সালে ঝরে পড়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

সময়োপযোগী উদ্যোগ

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু উপস্থিতি বাড়ায় না, শেখার ফলাফল উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তবে খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। যেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য কিনতে হয়, তাই কোনো সিন্ডিকেটের কবলে যেন না পড়ে, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তদারকির ক্ষেত্রে মায়েদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এই কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

 [প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন প্রথম আলোপ্রতিনিধি নরসিংদীশ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) এবং বিরামপুর (দিনাজপুর)]