ক্যাডেট কলেজে ভর্তি - বাংলা (১০)

মোট ৩০০ নাম্বারের পরীক্ষায় বাংলায় থাকবে ৬০ নম্বর। এর মধ্যে বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (ব্যাকরণ অংশ সহ) , ভাব-সম্প্রসারণ, অনুচ্ছেদ লিখন, অনুধাবন, সারাংশ ও সারমর্ম—থাকবে

বাগ্​ধারা

১. ঠোঁট কাটা (স্পষ্টভাষী): আফাজ মিঞার মুখে কিছুই আটকায় না, ঠোঁট কাটা যাকে বলে।

২. ডুমুরের ফুল (অদৃশ্য বস্তু): চাকরি পেয়ে ডুমুরের ফুল হয়ে উঠলে যে দেখাই পাওয়া যায় না।

৩. ঢাকের কাঠি (মোসাহেব): তুমি তো বড় সাহেবের ঢাকের কাঠি, তিনি যা বলেন, তুমিও তা–ই বলো।

৪. তীর্থের কাক (সাগ্রহ প্রতীক্ষাকারী): প্রবাসী ছেলের বাড়ি ফেরার প্রতীক্ষায় মা–বাবা তীর্থের কাকের মতো বসে আছেন।

৫. থ বনে যাওয়া (স্তম্ভিত হওয়া): তার কাণ্ড দেখে আমি তো থ বনে গেলাম।

৬. দহরম মহরম (ঘনিষ্ঠতা): ম্যানেজারের সঙ্গে আজমল সাহেবের খুব দহরম মহরম।

৭. দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু): টাকা থাকলে দুধের মাছির অভাব হয় না।

৮. ধামাধরা (চাটুকারিতা): সমাজে ধামাধরা লোকের অভাব নেই।

৯. নয় ছয় (অপচয়): জাভেদ জমি বিক্রির টাকাগুলো নয় ছয় করে ফেলল।

১০. পুকুর চুরি (বড় রকমের চুরি): অসাধু কর্মচারীরা পুকুর চুরি করে ব্যবসায় লালবাতি জ্বালিয়েছেন।

১১. বকধার্মিক/বিড়াল তপস্বী (ভণ্ড সাধু): মুখে নীতিবাক্য আওড়ালেও লোকটা আসলে বকধার্মিক/বিড়াল তপস্বী।

১২. ভরাডুবি (সর্বনাশ): দোকানে আগুন লেগে ফজলু মিঞার ভরাডুবি হয়েছে।

১৩. ভেজা বিড়াল (কপটচারী): সে একজন ভেজা বেড়াল, তাকে চেনা সহজ নয়।

১৪. যক্ষের ধন (কৃপণের কড়ি): যক্ষের ধনের মতো সে তার টাকাকড়ি আগলে আছে, কাউকে দুই পয়সার সাহায্যও করে না।

১৫. রাঘব বোয়াল (সর্বগ্রাসী ক্ষমতাসীন ব্যক্তি): উচ্চপদে নিয়োজিত ব্যক্তিরা যদি রাঘব বোয়াল হন, তাহলে দেশের উন্নতি হবে কেমন করে?

১৬. লেফাফাদুরস্ত (বাইরের ঠাট বজায় রেখে চলেন যিনি): আলম মিঞা এমন লেফাফাদুরস্ত যে বাইরে থেকে তাঁর দারিদ্র্য বোঝা যায় না।

১৭. শাঁখের করাত (উভয় সংকট): সত্য বললে বাবা বিপদে পড়েন, আর মিথ্যে বললে মা বিপদে পড়েন। আমি পড়েছি শাঁখের করাতে।

১৮. শাপে বর (অনিষ্টে ইষ্ট লাভ): বড় সাহেব হারুনকে শাস্তি না দিয়ে দিলেন প্রমোশন, একই বলে শাপে বর।

১৯. হ-য-ব-র-ল (বিশৃঙ্খলা): জিনিসপত্র ছড়িয়ে ঘরটাকে তো একেবারে হ-য-ব-র-ল করে রেখেছ।

মো. আফলাতুন, সহযোগী অধ্যাপক, ফেনী সরকারি কলেজ, ফেনী