বাবা-মেয়ের আখ্যান
বাবা-মেয়ের আখ্যান

বাবা-মেয়ের আখ্যান

মেয়ে ওভাকে নিয়ে বাবা মেহমেতের সংসার। বাবা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তবু দুজনের সুখের জীবন। একদিন হুট করেই একটি দুর্ঘটনা ঘটে যায়। জেলে যেতে হয় মেহমেতকে। তার বিরুদ্ধে ভয়ংকর অভিযোগ। একটি শিশুকে খুন করেছেন তিনি। বিচারে মৃত্যুদণ্ড হয় তাঁর। আলাদা হয়ে যায় বাবা–মেয়ে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সেলে মেহমেতের জায়গা হয়। সেলের নম্বর সাত। ওই সেলের সবাই মেহমেতকে ঘৃণা করে। কারণ, একটি শিশুকে খুন করেছেন তিনি। কিন্তু মেহমেতের শুধু একটিই ভাবনা। কীভাবে আবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করবেন?

ধীরে ধীরে সেলের অন্য দাগি সব আসামির সঙ্গে মিশতে থাকেন মেহমেত। আস্তে আস্তে সেলের সবার ভালোবাসার পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি। তার কাছ থেকে আসল ঘটনা জানতে পারে আসামিরা। আসলে মেহমেতের বিরুদ্ধে এটা ছিল ষড়যন্ত্র। এমন কাজ তিনি করেননি। এ ঘটনায় ওই সেলের দাগি আসামিদেরও মন গলে যায়। কী করে বাবার কাছে মেয়েকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তারই পরিকল্পনা শুরু করে তারা।

বাবা–সন্তানের ভালোবাসাকেন্দ্রিক এ গল্প নিয়েই মিরাকল ইন সেল নম্বর সেভেন। এ গল্প নিয়ে ২০১৩ সালে প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি হয় একটি ছবি। মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটি এতই জনপ্রিয় হয় যে নানা দেশে এটি রিমেক করা হয়। ভারতে কন্নড় ভাষায় এবং ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াতেও হয়েছে।

রিমেক হয় তুর্কিতেও। নামও একই থাকে। তবে গল্পে আনা হয় সামান্য পরিবর্তন। তুরস্ক থেকে ছবিটি ২০১৯ সালে সেরা আন্তর্জাতিক ছবি হিসেবে অস্কারে যায়। শুধু তা–ই নয়, তুরস্কের বক্স অফিসে ছবিটি ঝড় তোলে। তুরস্কে ওই বছর সবচেয়ে বেশি দেখা হয় এই সিনেমা। তুরস্কের নির্মাতা মেহমেত আদ ওজতেকিন রিমেক বানাতে তুর্কি অভিনয়শিল্পী আরাস বুলুত ইয়েনেমলি ও নিসা সোফিয়া আকসঙ্গুরকে নেন। তুর্কি এ ছবিই এবার দেখা যাবে বাংলা ভাষায়। চরকিতে আজ রাত ৮টা থেকে দেখা যাবে।