সাদ কই?

২০১৮ সালে বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান প্রজেক্ট মার্কেটে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, প্রযোজক জেরেমি চুয়াও এবং সহ–প্রযোজক রাজীব মহাজন
ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিন ধরেই সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিওর সাংবাদিকেরা তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন। তাঁর নাগাল পেতে কেউ আবার ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির শিল্পী ও কলাকুশলীর শরণও নিচ্ছেন। কিন্তু কোনো উপায় কাজে লাগছে না। কোথাও তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফোনটা পর্যন্ত বন্ধ। বলছি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের কথা। তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা রেহানা মরিয়ম নূর বাংলাদেশের জন্য এনে দিয়েছে বিরল এক সম্মান। কান চলচ্চিত্র উৎসবের অফিশিয়াল বিভাগ আঁ সার্তেঁ রিগায় স্থান করে নিয়েছে তাঁর ছবি। খবরটা চাউর হওয়ার পর থেকেই আরও আড়ালে চলে গেছেন সাদ।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির সাফল্যের খবরে অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা ঢাকার গুলশানে সাদের কার্যালয়ে একত্র হয়েছিলেন, সাফল্য উদ্‌যাপনে কেটেছিলেন কেক

তবে এই মুহূর্তে পাওয়া না গেলেও সামনে পাওয়া যাবে, এমনটাই আভাস দিলেন ছবির সহপ্রযোজক রাজীব মহাজন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও তখন কথা বলবেন। এখন ছবিকে উৎসব উপযোগী করে তোলার কাজ নিয়ে তিনি ব্যস্ত। গুলশান অফিসে চলছে ছবিটির মিউজিক, পোস্টারসহ নানা কাজ। এখন সেদিকেই তাঁর মনোযোগ। উৎসবে রেহানা মরিয়ম নূর ছবির প্রিমিয়ার হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন সাদ।

সাদের পরিচিতজন ও আশপাশের সবাই জানালেন, চুপচাপ নিজের মতো করে কাজ করতেই পছন্দ করেন সাদ। নিভৃতচারী সাদকে হাসিমুখেও দেখা যায় না। ছবি তোলেন না খুব একটা। যেদিন কান চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজক কমিটি ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবিটির অফিশিয়াল সিলেকশনের খবর দিল, সেদিনের এক স্থিরচিত্রে সবাইকে হাসিমুখে দেখা গেলেও দেখা যায়নি সাদকে। ছবির সাফল্যের খবরে অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা ঢাকার গুলশানে সাদের কার্যালয়ে একত্র হয়েছিলেন, সাফল্য উদ্‌যাপনে কেটেছিলেন কেক। রাজীব মহাজন জানালেন, সাদ ছবিই তুলতে চায় না। তাই জোর করাও হয় না।

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ ও অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন

সাদের নিভৃতচারিতার বিষয়টি এভাবে ব্যাখ্যা করলেন পরিচালক অমিতাভ রেজা, ‘কথায় নয়, কাজে বিশ্বাস করে সাদ। কথা বলে কাজ হয় না, কাজ হয় কাজের মাধ্যমে—এটা সাদ আমাদের নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়েছে।’ ছবির সহপ্রযোজক রাজীব মহাজন বললেন, ‘সাদ চায় তাঁর দৃশ্যগুলো তাঁকে তুলে ধরুক। তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিক। আমার মনে হয়, প্রত্যেক শিল্পীরই নিজস্ব কিছু চিন্তা থাকে। তাই তাঁর এ সিদ্ধান্তকে আমরা মেনেই নিয়েছি। আড়ালে থেকে কাজ করাটা হয়তো সেই চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ। এটাকে আমরা শ্রদ্ধাও করি।’

২০১৯ সালে প্রথম আলোর সঙ্গে এক আলাপে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ তাঁর এই নিভৃতে থাকার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন, ‘অনেকেই হয়তো আমাকে ভুল বোঝেন, কিন্তু আমাকে নিয়ে মাতামাতিটা আমার আন-ইজি লাগে, বিব্রত হই।’

‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ ও অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন

কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বানিয়ে হাত পাকিয়ে ২০১২ সালে দেশ টিভির জন্য একটি অপ্রকাশিত কবিতা নামের ফিকশন নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। ওয়াহিদ তারেকের ছবি আলগা নোঙ্গর-এর চিত্রনাট্যও তাঁর লেখা। প্রথম চলচ্চিত্র লাইভ ফ্রম ঢাকা–এর জন্য ২৭তম সিঙ্গাপুর ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল সেরা পরিচালক হন সাদ। এরপরই বাংলাদেশি চলচ্চিত্রপ্রেমী, চলচ্চিত্রকর্মীদের মধ্যে অচেনা এই মেধাবী তরুণ পরিচালককে জানার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু সেই সুযোগ তিনি আজ পর্যন্ত কাউকে দেননি। কোনো সংবাদপত্রের সাক্ষাৎকার, টিভির টক শো—কোনো কিছুতেই তাঁর উপস্থিতি নেই। প্রচারবিমুখ এই মেধাবী তরুণ নীরবে কাজ করে চলেছেন।