ঘন কালো মেঘ আর অঝোর বৃষ্টি মানে কি শুধুই মৌসুমি প্রাকৃতিক ঘটনা? মোটেও নয়, বরং চলচ্চিত্রের পর্দায় বর্ষণ-দৃশ্যের প্রতীকী তাত্পর্য অনেক।
কুশলী পরিচালকেরা তাঁদের ছায়াছবির মাধ্যমে দর্শকদের নাড়া দিতে চান। আর সেই লক্ষ্য পূরণের চাবিকাঠি হিসেবে প্রকৃতির বিভিন্ন ঋতুর দৃশ্যায়ন করেন। বলা বাহুল্য, বৃষ্টির দৃশ্য এ ক্ষেত্রে খুবই সফল। কৃত্রিম হলেও সেগুলো অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্র-মুহূর্ত তৈরি করতে পেরেছে। চলুন জেনে নিই হলিউড চলচ্চিত্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এ রকম কয়েকটি বিখ্যাত দৃশ্যের কথা।
দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন (১৯৯৪)
ফ্র্যাঙ্ক ড্যরাবন্টের পরিচালনায় এ ছবির মূল চরিত্র কারাগার থেকে মাটির নিচ দিয়ে একটি দীর্ঘ নর্দমা পেরিয়ে মুক্ত হন। তখন ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দশার মধ্যেও অফুরান আনন্দে দাঁড়িয়ে গায়ের পোশাক খুলে নেন। তারপর আকাশপানে দুই হাত বাড়িয়ে দেন। সেই মুহূর্তে আকাশ ভেঙে তাঁর ওপর বৃষ্টিপাত হতে থাকে। এই বর্ষণ মূলত একজন মানুষের মুক্তির প্রতীকায়ন।
সেভিং প্রাইভেট রায়ান (১৯৯৮)
যুদ্ধ নিয়ে নির্মিত মার্কিন চলচ্চিত্রে বৃষ্টি থাকবে না, এমনটা যেন অকল্পনীয়। স্টিভেন স্পিলবার্গের এই ছবিতে বৃষ্টি অনেকটা মৃত্যুদূতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। কাদামাখা মানবদেহ জীবিত ও মৃত—আছে এই ছবির উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে। ভয়ংকর হলেও দৃশ্যগুলো সুন্দর।
কাস্ট অ্যাওয়ে (২০০০)
রবার্ট জেমেকিস পরিচালিত ছবিটিতে ঝড়-বৃষ্টি দেখেই টম হ্যাঙ্কস প্রথম উপলব্ধি করেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপটির পরিবেশ পরিস্থিতি। পরে আরও কয়েকবার বৃষ্টি-দৃশ্য আছে। চারটি বছর সেই দ্বীপে আটকা পড়ে ছিলেন ফেডেক্সকর্মী লোকটি (হ্যাংকস)। একপর্যায়ে বাড়ি ফিরে দেখতে পান, তাঁর পুরোনো প্রেমিকা বিয়ে করে সুখী জীবন যাপন করছেন। বৃষ্টিভেজা একটি চুম্বন-দৃশ্যও আছে এই চলচ্চিত্রে।
স্পাইডারম্যান (২০০২)
স্যাম রাইমির এই ছবিতে সুপারহিরো স্পাইডারম্যান উঁচু ভবন থেকে নিচের দিকে ঝুলে প্রেমিকার মুখোমুখি হন। সেই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ছিল অঝোর বৃষ্টি। নিঃসন্দেহে মনে রাখার মতো দৃশ্য।
দ্য ম্যাট্রিক্স রেভল্যুশনস (২০০৩)
ওয়াচোস্কিসের পরিচালনায় এ ছবিতে অসাধারণ মানসিক ক্ষমতাসম্পন্ন এক ব্যক্তি যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করেন। সে লড়াইয়ের দৃষ্টিতে বৃষ্টি আছে। মার্শাল আর্টের তীক্ষ্ণ কয়েকটি দৃশ্যায়ন হয়েছে বৃষ্টির মধ্যে।
দ্য নোটবুক (২০০৪)
নিক ক্যাসাভেটসের এ ছবিতে প্রেমিক-প্রেমিকার পুনর্মিলন দৃশ্যে বৃষ্টির ছোঁয়া আছে। এ সময় তাঁদের সংলাপগুলোও মনোমুগ্ধকর। আর তাঁদের মুখ বেয়ে বৃষ্টির জল যেভাবে গড়িয়ে পড়ছিল, সেগুলো অনেক অব্যক্ত কথা বলে দেয়।
লাইফ অব পাই (২০১২)
অ্যাং লির পরিচালনায় এ ছবিতে প্রায় পুরোটা সময়ই জলরাশি দেখা যায়। তবে যখন পাই নৌকার মধ্যে একটা বাঘের সঙ্গে নিজের ভাগ্যকে পুরোপুরি মেনে নেন, তখন শুরু হয় বৃষ্টি। এমনকি বিদ্যুত্চমক এবং তার আওয়াজেও সেই বৃষ্টির প্রতি পাইয়ের মনোযোগ সরে না।
আশিসআচার্য , মিড-ডে ও স্কাইমেটওয়েদার অবলম্বনে