
প্রতিদিনই অনলাইনে বিভিন্নভাবে প্রকাশ পাচ্ছে ঈদের সিনেমার আয়ের তথ্য। কেউ কেউ এসব আয়কে বাড়িয়ে বলছেন সিনেমা ব্যবসাসফল। এবার এসব আয়ের তথ্য দেখে চটলেন নায়ক ওমর সানী। শুধু তা–ই নয়, তিনি ফেসবুক স্ট্যাটাসে ভর্ৎসনাও করেছেন। কেউ কেউ এই নায়কের সিনেমার আয় নিয়েও তামাশা করেছেন।
ওমর সানী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ঈদের সিনেমার ব্যবসার রিপোর্ট শুনি, কোনোটার ২ কোটি, কোনোটার ৩ কোটি, ৫ কোটি, ১০ কোটি টাকা। এবার আমি বলি টাকা...’ পরে তিনি আর বাক্য শেষ করেননি। এমন স্ট্যাটাসে নানা রকম মন্তব্যে উত্তেজিত হয়েছেন এই নায়ক। চিত্রনাট্যকার আবদুল্লাহ জহির বাবু লিখেছেন, ‘এদের সঙ্গে বাজে কথা বইলেন না বস।’
আফসানা আক্তার নামের এক ভক্ত ওমর সানীকে উদ্দেশ করে সেখানে মন্তব্যে লিখেছেন, ‘আপনি নায়ক হিসেবে টাকাই পেয়েছেন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ। এখনকার নায়কের বাজেটই তিন কোটি। আপনার আদিম যুগের কাহিনি বাদ দেন। এখনকার নায়কের টাকা দিয়ে ওই যুগের ৫০ ছবি বানানো যাবে। লিখলেই টাকা আসে না, আমরা ছবি বানাইছি।’ এমন প্রশ্নে ওমন সানী পাল্টা মন্তব্য করেন, ‘আমি তখন কত টাকা পেতাম আপনার বাবাকে জিজ্ঞাসা করবেন।’
ওমর সানীর মন্তব্যে মজা করে শাহিন আলম নামের এক ভক্ত লিখেছেন, ‘আপনার করা লাস্ট “ডেডবডি” সিনেমা। এই সিনেমা ১০০ কোটি ব্যবসা করেছে। এটা বিশ্বাস হয়।’ সেখানে ওমর সানীর মন্তব্য, ‘এটা হতেই পারে না।’
মূলত ‘ডেডবডি’ সিনেমার আয় ছিল কয়েক লাখ টাকা। সেই সময় ‘ডেডবডি’ সিনেমার প্রযোজক মোহাম্মদ ইকবাল একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁর সিনেমার বাজেট মাত্র ৫৫ লাখ টাকা।
ইকবাল বলেছিলেন, ‘আমি টেলিভিশন, ইউটিউব রাইটস থেকে চোখ বন্ধ করে ৩০ লাখ টাকা সেল করতে পারব। ভারতে স্বত্ব বিক্রি করে পাব আরও ১০ লাখ টাকা। ৪০ লাখ তো আমার এখানেই উঠে গেছে। তিনটা স্পনসর ছিল। সবকিছু মিলিয়ে এই ছবি থেকে ১-২ লাখ টাকা হলেও লাভ করব।’
ঈদে দেশের প্রেক্ষাগৃহে এবার মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি সিনেমা—রেদওয়ান রনির ‘দম’, তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’, মেহেদী হাসানের ‘রাক্ষস’ ও রায়হান রাফীর ‘প্রেশার কুকার’।
ছবিগুলোয় দেখা গেছে দেশের বড় তারকাদের উপস্থিতি—একদিকে শাকিব খান, আফরান নিশো, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, শরীফুল রাজ; অন্যদিকে আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, নাজিফা তুষি, তাসনিয়া ফারিণ ও সাবিলা নূর। মুক্তির পর থেকেই সিনেমাগুলো নিয়ে দর্শকের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। এসব নিয়েই নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন আয়–ব্যয়ের তথ্য আসছে।