‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমার পোস্টারে রণবীর সিং। এক্স থেকে
‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ সিনেমার পোস্টারে রণবীর সিং। এক্স থেকে

৫০ জনে ‘ডাকাত’, ১৩০০ জনে সারা—ফিরল ‘ধুরন্ধর’

মুক্তির আগেই প্রিভিউ শোতে উচ্ছ্বাস, আর আজ থেকেই প্রেক্ষাগৃহে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। কী আছে এই ছবিতে, যে কারণে দর্শকদের এত অপেক্ষা? জেনে নিন ভেতরের গল্প।

ভারতে বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ অবশেষে আজ ১৯ মার্চ মুক্তি পেয়েছে। মুক্তির আগেই ছবিটি ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ। গতকাল বুধবার দেশটির কয়েকটি শহরে পেইড প্রিভিউ শো হয়েছে। সেখানেও দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম কিস্তির বিপুল সাফল্যের পর থেকেই ‘ধুরন্ধর’-এর পরবর্তী গল্প জানার অপেক্ষায় ছিলেন দর্শক। এবার সেই অপেক্ষার অবসান।

চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, ‘ধুরন্ধর’ ছবির শক্তি ছিল এর চরিত্রগুলো। প্রতিটি চরিত্রই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। তবে এই চরিত্রগুলোর জন্য শিল্পী খুঁজে পাওয়া মোটেও সহজ ছিল না। কাস্টিং ডিরেক্টর মুকেশ ছাবড়া জানিয়েছেন, পুরো কাস্টিং প্রক্রিয়াতেই সময় লেগেছে প্রায় দেড় বছর।

‘রহমান ডাকাত’—৬০ জনের অডিশন
ছবির সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ‘রহমান ডাকাত’। এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন অক্ষয় খান্না। এই একটি চরিত্রের জন্যই অডিশন দিয়েছিলেন ৬০ জন অভিনেতা। ছিলেন ওটিটি তারকা থেকে দক্ষিণ ভারতের অভিনেতারাও। শেষ পর্যন্ত সবাইকে ছাড়িয়ে যান অক্ষয় খান্না। তাঁর অভিনয় এতটাই প্রশংসিত হয়েছিল যে অনেকেই তাঁর জন্য অস্কারের দাবিও তুলেছিলেন।

মজার বিষয় হলো, শুরুতে এই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি ছিলেন না অক্ষয় খান্না। প্রথম প্রস্তাবে সন্তুষ্ট হননি তিনি। পরে প্রায় চার ঘণ্টার দীর্ঘ ন্যারেশন শোনানো হয়। ন্যারেশন শেষে তিনি শুধু দুটি শব্দ বলেন, ‘মুকেশ, দুর্দান্ত।’ এরপরই চূড়ান্ত হয় তাঁর কাস্টিং।

‘ধুরন্ধর ২’ সিনেমায় রণবীর। আইএমডিবি

বয়সের ব্যবধান নিয়ে বিতর্ক
ছবিতে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে আছেন সারা অর্জুন। তাঁদের বয়সের ব্যবধান প্রায় ২০ বছর। এ নিয়ে শুরুতে সমালোচনা হয়েছিল। তবে কাস্টিং ডিরেক্টর জানান, এটি ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘গল্পের প্রয়োজনেই কম বয়সী অভিনেত্রী নেওয়া হয়েছে। হামজা চরিত্রটি মেয়েটিকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে। তাই এই বয়সের ব্যবধান জরুরি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা পার্ট ২-তে সব উত্তর পাবেন।’

১৩০০ মেয়ের মধ্য থেকে সারা
সারা অর্জুনকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল সময়সাপেক্ষ ও পরিকল্পিত। এই চরিত্রের জন্য দেশজুড়ে একাধিক শহরে অডিশন নেওয়া হয়। কাস্টিং টিম নতুন মুখের খোঁজে ডিজিটাল অডিশন, ওয়ার্কশপ এবং স্ক্রিন টেস্ট—সবকিছু মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ তরুণীর অডিশন নেয়। ধাপে ধাপে বাছাই শেষে অল্প কয়েকজনকে শর্টলিস্ট করা হয়, তারপর তাঁদের নিয়ে আলাদা করে লুক টেস্ট ও কেমিস্ট্রি টেস্ট নেওয়া হয় রণবীর সিংয়ের সঙ্গে।

‘ধুরন্ধর’ ছবির একটি দৃশ্য।

সেই পরীক্ষাগুলোতে স্বাভাবিক অভিনয়, ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি এবং চরিত্রের নির্দোষ অথচ রহস্যময় দিক ফুটিয়ে তোলার ক্ষমতায় এগিয়ে থাকেন সারা অর্জুন। আগে শিশুশিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও বড় পর্দায় এ ধরনের জটিল চরিত্রে তাঁকে দেখা যায়নি। নির্মাতারা ঠিক এমনই একটি ‘ফ্রেশ ফেস’ খুঁজছিলেন, যাকে দেখে দর্শক চরিত্রটিকে বিশ্বাস করবে, আগে থেকে কোনো ইমেজ মাথায় আসবে না। সেই ভাবনা থেকেই শেষ পর্যন্ত সারাকেই চূড়ান্ত করা হয়।

রাকেশ বেদিকে নিয়ে সংশয়
ছবিতে পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ জামিল জামালির চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাকেশ বেদি। এই চরিত্রে তাঁকে নেওয়া নিয়েও ছিল দ্বিধা। কারণ, আগে তিনি এমন চরিত্রে কাজ করেননি। অনেকেই পরিচালককে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে পরিচালক আদিত্য ধর তাঁর ওপর আস্থা রাখেন। ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতেই তাঁকে নেওয়া হয়। মুক্তির পর তাঁর অভিনয়ও প্রশংসা কুড়ায়।

তারকাবহুল কাস্ট
‘ধুরন্ধর’ ছবিটি শুধু গল্প বা নির্মাণেই নয়, তারকাবহুল কাস্টিংয়ের কারণেও আলাদা করে নজর কাড়ছে। রণবীর সিং, সারা অর্জুন ও অক্ষয় খান্নার পাশাপাশি ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন সঞ্জয় দত্ত, আর মাধবন ও অর্জুন রামপাল। প্রত্যেকেই নিজ নিজ চরিত্রে এনেছেন আলাদা মাত্রা। অভিজ্ঞতা, পর্দা-দাপট আর অভিনয়ের বৈচিত্র্যে এই তিন তারকার উপস্থিতি ছবির পরিসরকে আরও বড় করেছে। বিশেষ করে অ্যাকশন, ড্রামা ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের দৃশ্যে তাঁদের উপস্থিতি গল্পকে করেছে আরও ঘন ও বিশ্বাসযোগ্য। সব মিলিয়ে বলা যায়, শক্তিশালী এই কাস্টিংই ‘ধুরন্ধর’-কে শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং বড় মাপের এক তারকাসমৃদ্ধ সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে।

‘ধুরন্ধর’–এর সারা ও রণবীর। এক্স থেকে

সিকুয়েলে নতুন চমক
ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে আলোচনা। শোনা যাচ্ছে, ইয়ামি গৌতমকে দেখা যাবে ক্যামিও চরিত্রে। স্বল্প উপস্থিতি হলেও চরিত্রটি নাকি বেশ শক্তিশালী। আরও বড় চমক হতে পারেন ইমরান হাশমি। গুঞ্জন আছে, তিনি অভিনয় করবেন প্রধান খলনায়ক হিসেবে। তাঁর চরিত্রের নাম হতে পারে ‘বড়ে সাব’। সব মিলিয়ে ‘ধুরন্ধর’ এখন কেবল একটি ছবি নয়, বরং একটি সম্ভাবনাময় ফ্র্যাঞ্চাইজির পথে হাঁটছে।
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। প্রথম দিনের দর্শক প্রতিক্রিয়া আর প্রিভিউ শোর উচ্ছ্বাস মিলিয়ে বলা যাচ্ছে, ছবিটি ঘিরে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণের পথে এগোচ্ছেন নির্মাতারা। এখন দেখার বিষয়, বক্স অফিসেও এই উত্তেজনা কতটা সফলতায় রূপ নেয় এবং ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি কতটা বড় হয়ে ওঠে।