বলিউডে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের জায়গা শক্ত করেছেন অভিনেত্রী শর্বরী বাগ। ‘মুঞ্জা’, ‘ভেদা’, ‘মহারাজ’-এর মতো প্রকল্পে কাজ করে তিনি এখন ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম আলোচিত নতুন মুখ। এবার ইমতিয়াজ আলী পরিচালিত ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা ছবির কারণে নতুন করে আলোচনায় তিনি। পাশাপাশি আগামী প্রকল্পের কারণেও বারবার খবরে উঠে আসছেন শর্বরী। আগামী দিনে তাঁকে আলিয়া ভাটের সঙ্গে আলফা ছবিতে দেখা যাবে। এক সাক্ষাৎকারে শর্বরী তাঁর ক্যারিয়ার, সাফল্য, বক্স অফিস এবং সহ-অভিনেত্রী আলিয়া ভাট সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলেছেন।
ম্যাড্ডক ফিল্মসের হরর-কমেডি ছবি ‘মুঞ্জা’র মূল নায়িকা হিসেবে দেখা গিয়েছিল শর্বরীকে। ছবিটি বক্স অফিসে ভালো সফলতা পেয়েছিল। ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ মুক্তির আগে বক্স অফিসের চাপ প্রসঙ্গে শর্বরী বলেন, ‘বক্স অফিস অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি ছবির সাফল্য প্রমাণ করে যে দর্শক সেটিকে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আমি মনে করি না, সংখ্যাই সবকিছু। একজন অভিনেতা হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দর্শকের ভালোবাসা এবং আমার কাজের প্রতি তাঁদের প্রতিক্রিয়া। তবে এটা সত্যি যে একটি বড় সাফল্য অনেক নতুন দরজা খুলে দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যখন একটি ছবি ভালো ব্যবসা করে, তখন নির্মাতা এবং প্রযোজকদের আস্থা বাড়ে। তাঁরা আপনাকে আরও বড় এবং চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে ভাবতে শুরু করেন। তাই সাফল্যের মূল্য অবশ্যই আছে, কিন্তু আমি শুধু বক্স অফিসের অঙ্ক দিয়ে নিজের কাজকে বিচার করি না।’
শর্বরী জানান, নিজের কাজের প্রতি তাঁর লক্ষ্য প্রতিটি ছবির ক্ষেত্রে একই থাকে। প্রতিটি ছবিতে সমান মন-প্রাণ আর একই রকম আবেগ ও নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘চেষ্টা থাকে, প্রতিটি ছবিতে যেন আমার চরিত্রটিকে সম্পূর্ণ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলতে পারি। আমার মনে হয়, ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ে বক্স অফিস এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এটা অবশ্যই সত্যি যে মুঞ্জা সফল হওয়া এবং ১০০ কোটি রুপি আয় করার ফলে অনেক নতুন দরজা খুলে গেছে। সেই সুযোগকে যত দ্রুত সম্ভব কাজে লাগানো, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তার সুফল পাওয়া এবং আরও ভালো কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ। আর আমি সেটাই করেছি।’
ইমতিয়াজ আলীর ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ দেশভাগের পটভূমিকায় নির্মিত এক প্রেমকাহিনি। বেদাংগ রায়না ও শর্বরী বাগ অভিনীত রোমান্টিক ছবিতে বলা হয়েছে ভালোবাসা মানে অন্তহীন অপেক্ষা। আজকের প্রজন্মের শর্বরীর কাছে প্রেমের সংজ্ঞা কী? ‘ভালোবাসা তো ভালোবাসাই—সেটা সে সময়ের হোক, আজকের হোক বা আগামী দিনের। দুজন মানুষের মধ্যে যে ভালোবাসা থাকে, তা অত্যন্ত মূল্যবান। হ্যাঁ, আজ হয়তো ভালোবাসার ভাষা কিছুটা বদলেছে, কিন্তু যখন দুটি হৃদয় একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়, তখন অনুভূতিটা একই থাকে। কারণ, ভালোবাসা সর্বজনীন। তবে আমি এটাও মনে করি যে আজ ভালোবাসা অনেক সহজ হয়ে গেছে। দুজন মানুষের দেখা হওয়া সহজ হয়েছে, একে অপরের সঙ্গে কথা বলা সহজ হয়েছে। তাই মনে হয়, আজকাল সবকিছুই কত সহজ। আপনি যদি কাউকে গভীরভাবে ভালোবাসেন, তাহলে তার সঙ্গে একবার দেখা হোক বা ১০০ বার—সেই অনুভূতি তো একই থাকবে,’ একটানে বলে গেলেন শর্বরী।
ছবির নাম ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’, মানে আবার ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে। শর্বরী নিজে কোথায় আবার ফিরে যেতে চান, আবেগের সুরে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য সেই জায়গাটি হলো আমার পৈতৃক বাড়ি। আমাদের গ্রাম মোরগাঁওয়ে আমাদের একটি বাড়ি আছে। বাড়িটি ১০০ বছরের বেশি পুরোনো। আমরা মারাঠিতে একে ‘ওয়াড়া’ বলি। এখনো প্রতিবছর গণপতির সময় আমরা সেখানে যাই। ওটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। সেখানে গেলে অন্য রকম শান্তি অনুভব করি। সেখানে আমার পূর্বপুরুষদের সবার ছবি টাঙানো আছে। তাঁদের কলেজের ডিগ্রিগুলোও রাখা আছে। অনেক সময় মনে হয়, যদি অতীতে ফিরে যেতে পারতাম, তাহলে দেখতে চাইতাম বাড়িটা আগে কেমন ছিল। কীভাবে সেটি সাজানো হতো। কারণ, সেখানে এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে হয়তো দোলনা ঝোলানো থাকত বা বিছানা পাতা থাকত। তাই আমার খুব ইচ্ছা করে, যদি সেসব দেখতে পেতাম।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শর্বরী বলেন, একই ধরনের চরিত্রে নিজেকে আটকে থাকতে চান না, বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে চান, ‘একজন অভিনেত্রীর সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো বৈচিত্র্য, আমি সেই বৈচিত্র্য বজায় রাখতে চাই।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দর্শকের প্রত্যাশা নিয়েও কথা বলেছেন শর্বরী, ‘আজকের সময়ে দর্শক অনেক বেশি সচেতন এবং তাঁরা ভালো কনটেন্ট দেখতে চান। তাই শিল্পীদেরও নিজেদের সেরাটা দিতে হয়। আমি চেষ্টা করি এমন কাজ বেছে নিতে, যা আমাকে উত্তেজিত করে এবং দর্শকদের কাছেও নতুন কিছু পৌঁছে দিতে পারে।’
আলিয়া ভাটের সঙ্গে ‘আলফা’ ছবিতে অভিনয় করছেন শর্বরী। এই প্রথম নারীকেন্দ্রিক স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ছবি নির্মাণ করছে যশরাজ ফিল্মস। শিব রাওয়েল পরিচালিত এই ছবিতে আলিয়ার সঙ্গে শর্বরীকে রীতিমতো পাল্লা দিয়ে অভিনয় করতে দেখা যাবে। আলিয়া ভাটের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে শর্বরী বলেছেন, ‘আলিয়া অসাধারণ অভিনেত্রী এবং দারুণ সহকর্মী। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি কখনো শুধু নিজের কথা ভাবেন না। সব সময় ছবির সামগ্রিক দিকটা ভাবেন।’