ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পেয়েছে ‘ও’রোমিও’। বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত রোমান্টিক থ্রিলার ছবিটিকে ঘিরে শুরু থেকেই আলোচনা ছিল। তবে মুক্তির পর ‘ও’রোমিও’ নিয়ে দর্শক-সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। কেউ ছবিটির আবহ, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন, আবার কারও মতে গল্পের গতি আরও দৃঢ় হতে পারত। তবে সব মহলেই প্রশংসা কুড়িয়েছে শহীদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরির অভিনয়। ছবিতে শহীদ কাপুরের বিপরীতে ‘আফসা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তৃপ্তি। সম্প্রতি ভারতীয় দৈনিক অমর উজালাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর অভিনীত চরিত্র আফসা, সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, বক্স অফিস ও অনলাইন ট্রোলিং নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন তৃপ্তি।
আফসা প্রসঙ্গে তৃপ্তি বলেন, ‘এটা বেশ চ্যালেঞ্জিং একটি চরিত্র ছিল। আমার মনে হয়, কঠিন চরিত্রই একজন অভিনেতাকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। তার ওপর এটা বিশাল ভরদ্বাজের ছবি, তাই না বলার প্রশ্নই ওঠে না। জীবনে কখনো ভাবিনি নানা পাটেকর আর ফরিদা জালালের মতো শিল্পীদের সঙ্গে এক পর্দায় কাজ করার সুযোগ পাব। এই ছবি আমাকে অভিনেত্রী হিসেবে আরও মজবুত ও সমৃদ্ধ করেছে।’
চরিত্রটির প্রস্তুতি নিয়ে তাঁর ভাষ্য, ‘এই ছবির জন্য অনেক কর্মশালায় অংশ নিয়েছি।
বিশাল স্যারও কর্মশালায় থাকতেন। আমরা আফসা চরিত্রটিকে ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে এই মেয়েটার মনের দিকটা নিয়ে আমাদের মধ্যে বেশি আলোচনা হতো। আমার মনে হয়, এই প্রস্তুতিটা খুব কাজে লেগেছে। যখন চরিত্রের পেছনের গল্প আর তার ভেতরের জগৎ পরিষ্কার থাকে, তখন ক্যামেরার সামনে অভিনয়টা খুব স্বাভাবিক হয়ে যায়।’
শহীদ কাপুরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তৃপ্তি বলেন, ‘প্রথম দিনেই আমাদের একটা আবেগঘন দৃশ্য করতে হয়েছিল। আমি নিজের জগতে ছিলাম, শহীদের সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলিনি। শহীদ বুঝেছিলেন যে আমি দৃশ্যের জন্য মন দিচ্ছি। অনেক সময় দৃশ্য করতে গিয়ে ভয় লাগত, চাপ তৈরি হতো। উনি কিছু না বলেই বুঝে যেতেন আর পরিবেশটা হালকা করে দিতেন।’
ছবি মুক্তির দিন নিজের মানসিক অবস্থার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী, ‘যেদিন আমার কোনো ছবি বা কাজ মুক্তি পায়, সেদিন মাথার মধ্যে অনেক কিছু ঘোরে। বলব না যে আমার কিছুই যায় আসে না। খুবই যায় আসে। যতই ভাবি চিন্তা করব না, তবু চিন্তা চলে আসে। এমন সময়ে আমি বন্ধুদের সঙ্গে থাকতে পছন্দ করি। ওরা খুব সৎ। আমি ভুল করলে সরাসরি বলে দেয়।’
অনলাইন ট্রলিং নিয়েও সরব তিনি। ‘আমি অনেক কিছুই উপেক্ষা করি; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমিও মানুষ। আমারও খারাপ লাগে। কখনো কখনো খুব কাঁদিও। কেউ যদি আমার কাজের সমালোচনা করে, তাতে কষ্ট পাই না; কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে সেটি খুব খারাপ লাগে। একদমই ভালো লাগে না। তবে আমাকে খুব সহজে কেউ কাঁদাতে পারে না’, বলেন তৃপ্তি।
মুম্বাইয়ের কুখ্যাত গ্যাংস্টার হুসেইন উস্তারাকে ঘিরে নির্মিত ‘ও’রোমিও’ মুক্তির দিনেই ১৫ কোটি টাকা আয় করে। দ্বিতীয় সপ্তাহে দৈনিক আয় কিছুটা কমলেও সামগ্রিকভাবে ছবিটি স্থিতিশীল ব্যবসা ধরে রেখেছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী উদ্বোধনের পর মুখে মুখে প্রচার মাঝারি থাকায় দ্বিতীয় সপ্তাহে গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো সাড়া পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী মোট আয় বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯০ কোটির বেশি ছাড়িয়েছে।