সিনেমার দৃশ্যে নাসিরুদ্দিন শাহ। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে নাসিরুদ্দিন শাহ। আইএমডিবি

গ্যাংস্টারের টাকায় সিনেমা! নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে টাকা ফেরত চেয়েছিলেন দাউদ ইব্রাহিম

বলিউডের অতীতের এক অন্ধকার অধ্যায় আবার আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি অভিনেতা-লেখক এম এম ফারুকী ওরফে লিলিপুট এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, একসময় তাঁর একটি সিনেমা ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন সরাসরি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে টাকা ফেরত চেয়েছিল। আর সেই ঘটনার পেছনে ছিল ভারতের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের চক্র।

বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়া

১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় পুলিশের নানা তদন্তে উঠে আসে যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অনেক গ্যাং তাদের অবৈধ অর্থ চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করত। বিশেষ করে দাউদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ডি-কোম্পানির নাম প্রায়ই শোনা যেত। এই সময় বলিউডের অনেক প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা এমনকি গায়ক ও সংগীত পরিচালকও বিদেশ থেকে ফোনে হুমকি পেতেন। কখনো কখনো চাঁদা দাবির ঘটনাও ঘটত, এমনকি কিছু শিল্পীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন সময় সংবাদে এসেছে।

একটি সিনেমা ঘিরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি
লিলিপুটের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একসময় একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছিলেন। পরে জানা যায়, সেই ছবির পেছনে যে অর্থ বিনিয়োগ হয়েছিল তার একটি অংশ নাকি আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজনের। ছবিটি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশামতো এগোয়নি। তখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন নাকি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর কাছে দাবি তোলে—তিনি ছবির জন্য যে অগ্রিম অর্থ পেয়েছেন তা যেন ফেরত দেন।

নাসিরুদ্দিন শাহর অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা
লিলিপুটের দাবি অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি নাসিরুদ্দিন শাহর জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর হয়ে উঠেছিল। কারণ, তিনি নিজে জানতেনই না যে ছবিটির অর্থায়নের সঙ্গে আন্ডারওয়ার্ল্ড জড়িত থাকতে পারে। বলিউডে কাজ করা অনেক অভিনেতাই তখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন—যেখানে প্রযোজকের পেছনের অর্থ কোথা থেকে আসছে, তা তাঁরা আগে থেকে জানতেন না।

‘ভুল মানুষের সঙ্গে ছিলাম’
লিলিপুট পরে স্বীকার করেন, সে সময় তিনি ভুল মানুষের সঙ্গে কাজ করছিলেন। তাঁর কথায়, তখন চলচ্চিত্রজগতে অনেক ধরনের লোক ঘুরে বেড়াত—যাদের উদ্দেশ্য সব সময় পরিষ্কার ছিল না। তিনি বলেন, তখনকার পরিবেশে একজন নতুন নির্মাতার পক্ষে বুঝে ওঠা কঠিন ছিল কোন প্রযোজক বা অর্থদাতা সত্যিই বৈধ ব্যবসায়ী, আর কে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্ত।

এম এম ফারুকী ওরফে লিলিপুট। অভিনেতার ফেসবুক থেকে

পরিবর্তিত হয়েছে বলিউড
বিশ্লেষকদের মতে, নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে ও দুই হাজারের দশকে বলিউডের অর্থায়ন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসে। করপোরেট বিনিয়োগ ও স্টুডিও ব্যবস্থার কারণে চলচ্চিত্রে অবৈধ অর্থের প্রভাব অনেকটাই কমে যায়। লিলিপুটের এই মন্তব্য আবার মনে করিয়ে দিল সেই সময়ের কথা, যখন বলিউড শুধু গ্ল্যামার ও তারকার আলোতেই ভরপুর ছিল না—পর্দার আড়ালে চলত ভয়, চাপ ও অপরাধজগতের প্রভাবও।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে