‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার দৃশ্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার দৃশ্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার দৃশ্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার দৃশ্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে

নতুন অতিথি আগমনের সুখবরের মধ্যেই আরেকটি ভালো খবর

দক্ষিণি অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু প্রথমবারের মতো মা হচ্ছেন। গত বছরের ১ ডিসেম্বর ‘ফ্যামিলি ম্যান’ পরিচালক রাজ নিদিমরুকে বিয়ে করেন অভিনেত্রী। সংসারে নতুন অতিথি আগমনের এই সুখবরের মধ্যেই আরেকটি ভালো খবর—সামান্থার নতুন সিনেমা ‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ দারুণ ব্যবসা করছে।

নারীকেন্দ্রিক সিনেমার নতুন দিগন্ত?
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নায়িকাকেন্দ্রিক সিনেমা নতুন কিছু নয়। কিন্তু বক্স অফিসের হিসাব-নিকাশে এখন পর্যন্ত পুরুষ তারকাদের ছবিকেই বেশি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হয়। সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অভিনেত্রী সামান্থার নতুন সিনেমাটি।

মুক্তির মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ছবিটি ভারত ও বিদেশের বক্স অফিসে চমক দেখিয়েছে। শুধু তা–ই নয়, ছবির সাফল্যের পর সামান্থা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা এখন দক্ষিণের চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রত্যাবর্তনের ছবিতে বাজিমাত
গত কয়েক বছর সামান্থার জীবনে ছিল নানা উত্থান-পতন। ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন, শারীরিক অসুস্থতা এবং দীর্ঘ বিরতির পর তিনি ফিরেছেন এমন একটি ছবি নিয়ে, যা তাঁর জন্য শুধু অভিনয়ের নয়, আত্মপ্রকাশেরও নতুন অধ্যায়।
পরিচালক বি ভি নন্দিনী রেড্ডির সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ১৯ জুন। তেলেগুর পাশাপাশি তামিল সংস্করণও মুক্তি দেওয়া হয়।

ছবিটি মুক্তির আগে থেকেই আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। কারণ, এটি সামান্থার নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ত্রালালা মুভিং পিকচার্সের অন্যতম বড় প্রজেক্ট। ফলে ছবিটির সাফল্য বা ব্যর্থতা সরাসরি জড়িয়ে ছিল অভিনেত্রীর নতুন পরিচয়ের সঙ্গে।

‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার পোস্টার। ইনস্টাগ্রাম থেকে

দ্বিতীয় দিনেই ৪০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি
বক্স অফিসের হিসাবে প্রথম দিনেই ভালো সূচনা করেছিল ছবিটি। তবে দ্বিতীয় দিনের ফলাফল বিশ্লেষকদের আরও বেশি অবাক করেছে।
প্রথম দিনে ৫ কোটি ৩৫ লাখ রুপি নেট আয় করা ছবিটি দ্বিতীয় দিনে আয় করেছে ৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি। অর্থাৎ, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৪০.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
দুই দিনে ছবিটির ভারতীয় নেট আয় দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। গ্রস আয় প্রায় ১৪ কোটি ৯০ লাখ রুপি।

ভারতের বাইরেও ছবিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দ্বিতীয় দিনে বিদেশি বাজার থেকে এসেছে প্রায় চার কোটি রুপি। ফলে দুই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে মোট আয় ১০ কোটি ৬০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছে।
সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী ছবিটির মোট আয় ইতিমধ্যে ২৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি ছাড়িয়েছে।

গল্পে পরিবার, আবেগ আর লড়াই
সিনেমাটি মূলত এক নারীর গল্প, যে নিজের অতীত থেকে পালিয়ে একটি নতুন জীবন গড়তে চায়। নতুন একটি পরিবারের অংশ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করলেও তার অতীতের ছায়া আবার ফিরে আসে। এরপর শুরু হয় নিজের মানুষদের রক্ষার লড়াই।

ছবিটির বিশেষত্ব হলো, এটি পুরোপুরি অ্যাকশন–নির্ভর নয়; বরং পারিবারিক সম্পর্ক, আবেগ, আত্মত্যাগ এবং নারীর মানসিক শক্তিকে গল্পের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
এই কারণেই অনেক দর্শক ছবিটিকে প্রচলিত দক্ষিণি ‘ম্যাস এন্টারটেইনার’-এর চেয়ে আলাদা হিসেবে দেখছেন।

‘মা ইনতি বাঙ্গারাম’ সিনেমার দৃশ্য। ইনস্টাগ্রাম থেকে

সমালোচকেরা কী বলছেন?
মুক্তির পর ছবিটি মোটের ওপর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। সমালোচকদের মতে, ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি সামান্থার অভিনয়। আবেগঘন দৃশ্য থেকে শুরু করে অ্যাকশন—সব ক্ষেত্রেই তিনি পরিণত অভিনয়ের পরিচয় দিয়েছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর অভিনয় গল্পকে অন্য মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
তবে সমালোচনার জায়গাও আছে। অনেকের মতে, ছবির কিছু মোড় সহজেই অনুমান করা যায়। দ্বিতীয়ার্ধের কিছু অংশ আরও সংক্ষিপ্ত হলে ছবিটি বেশি গতিশীল হতে পারত।

নারী দর্শকের ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত সামান্থা
ছবির সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সামান্থা। তিনি লিখেছেন, একটি সিনেমাকে প্রথম দিনেই এত ভালো সাড়া পেতে দেখা তাঁর জন্য অত্যন্ত বিনয়ী ও আবেগময় অভিজ্ঞতা।
তাঁর মতে, এখন দর্শকেরা আর ছবিকে শুধু ‘নায়ককেন্দ্রিক’ বা ‘নায়িকাকেন্দ্রিক’ হিসেবে বিচার করছেন না; ভালো গল্প পেলেই তাঁরা হলে যাচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছেন নারী দর্শকের অংশগ্রহণ দেখে।

সামান্থা লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে শোনা গেছে যে সিনেমার উদ্বোধনী আয় মূলত পুরুষ দর্শকেরা নির্ধারণ করেন। কিন্তু এবার বিপুলসংখ্যক নারী দর্শক ছবিটি দেখতে হলে গেছেন, যা তাঁকে আশাবাদী করেছে।
ছবিতে সামান্থার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন গুলশান দেবাইয়া।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে