
ভারতের আলোচিত টেলিভিশন অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডে দাবি করেছেন, জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ভাবিজি ঘার পার হ্যায়’ ছাড়ার পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় তাঁর নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া এমএমএস ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যার প্রভাব পড়েছিল তাঁর ব্যক্তিজীবনেও।
বর্তমানে রিয়েলিটি শো ‘লক আপ: সাচ ইয়া সাজা’-তে অংশ নেওয়া শিল্পা সহপ্রতিযোগী বরুণ যাদবের সঙ্গে আলাপচারিতায় জীবনের সেই কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন।
এই মন্তব্য এসেছে কয়েক মাস পর, যখন শিল্পা এক পডকাস্টে বলেছিলেন, ‘ভাবিজি ঘার পার হ্যায়’-এর প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে তিনি একসময় যে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন, সেটি সত্য ছিল না। ওই বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনাও হয়।
‘রিপোর্টার বলেছিলেন, এটা নাকি আমার ভিডিও’
শিল্পার ভাষ্য, ২০১৫-১৬ সালে ধারাবাহিকটি থেকে তাঁর বিদায়ের পর তাঁকে ঘিরে নানা বিতর্ক শুরু হয় এবং তিনি চারদিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়েন।
শিল্পা বলেন, ‘একদিন একজন সাংবাদিক আমাকে একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠান। আমি জানতে চাই, এটা কী? তিনি বলেন, “এটা আপনার ভিডিও।” আমি অবাক হয়ে বললাম, আমার ভিডিও? তিনি বলেন, “খুলে দেখুন।”’
ভিডিওটি ডাউনলোড হওয়ার সময় শিল্পার মনে নানা আশঙ্কা তৈরি হয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমি ভাবছিলাম, এটা কি আমার চেঞ্জিং রুমের কোনো ভিডিও? মুহূর্তের জন্য রক্ত হিম হয়ে গিয়েছিল। গাড়িতে বসে ভিডিওটি চালালাম। দেখি ঝাপসা একটি ভিডিও, যেখানে এক নারী ও একজন পুরুষ অন্তরঙ্গভাবে শুয়ে আছেন। বললাম, এটা আবার কী! ওই সাংবাদিক বললেন, “এটাই আপনার ভিডিও।” বললাম, আপনি কি পাগল? বিছানার চাদরটা দেখুন, কী নোংরা! এটা আমি হতে পারি না।’
সাইবার সেলের দ্বারস্থ হন
শিল্পার দাবি, ঘটনার পর তিনি সাইবার সেলের সহায়তা নেন। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ভিডিওটি প্রকাশ করবেন কি না। আমি সঙ্গে সঙ্গে সাইবার সেলে যাই এবং সেখানে ছয়-সাত ঘণ্টা কাটাই। পরে জানতে পারি, এটি একটি হিন্দি প্রাপ্তবয়স্ক ওয়েবসাইটের ভিডিও। সেখানে থাকা এক নারীর কিছু নির্দিষ্ট অ্যাঙ্গেলের স্থিরচিত্র নিয়ে ঝাপসা করা হয়েছিল, যাতে দেখতে আমার মতো লাগে। এরপর সেটিকেই “ভাবিজির এমএমএস ফাঁস” বলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।’
বিব্রতকর পরিস্থিতি
এ ঘটনার কারণে পরিবারকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলে জানান শিল্পা।
শিল্পা বলেন, ‘আমার মা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বিষয়টি সত্য কি না। এমনকি আমাদের আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীও মাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তাঁর মেয়ের এমএমএস কি সত্যিই ফাঁস হয়েছে। এমন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেওয়া যায়? আমি অনেক কিছু সহ্য করেছি।’
শিল্পা আরও দাবি করেন, ‘বিগ বস’-এ অংশ নেওয়ার আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছিল। ‘আমি জামিন নিয়ে শোতে গিয়েছিলাম। আমাকে যে মাত্রায় হয়রানি করা হয়েছে, তা কল্পনাও করা কঠিন,’ বলেন তিনি।
‘ভাবিজি ঘার পার হ্যায়’ বিতর্ক
২০১৬ সালে ‘ভাবিজি ঘার পার হ্যায়’ ছেড়ে দেন শিল্পা শিন্ডে। সে সময় একচেটিয়া চুক্তি এবং বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়।
পরে প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও আনেন শিল্পা। একই সঙ্গে চুক্তি ও পারিশ্রমিক-সংক্রান্ত আইনি বিরোধেও জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আদালতের বাইরে মীমাংসা হয়।
চলতি বছরের শুরুতে ভারতী সিংয়ের পডকাস্টে শিল্পা বলেন, সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে তাঁর করা যৌন হয়রানির অভিযোগটি সত্য ছিল না। ওই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে শিল্পা জানান, প্রযোজক বেনাফার কোহলি ও সঞ্জয় কোহলি তাঁকে ফোন করে ‘সত্য বলার’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে ‘লক আপ: সাচ ইয়া সাজা’-তে অংশ নেওয়া শিল্পার দাবি, এই রিয়েলিটি শোতে যোগ দেওয়ার জন্য নির্মাতারা তাঁকে একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
এনডিটিভি অবলম্বনে