একসময় বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন গোবিন্দ ও নীলম কোঠারি। আশির দশক ও নব্বই দশকের শুরুর দিকে একসঙ্গে একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তাঁরা। ‘ইলজাম’, ‘লাভ ৮৬’, ‘খুদগর্জ’-এর মতো ছবিতে তাঁদের রসায়ন দর্শকের নজর কেড়েছিল। পর্দার সেই জনপ্রিয়তার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছিল আরেক গল্প—বাস্তবেও নাকি একে অপরের প্রেমে পড়েছিলেন তাঁরা।
বছরের পর বছর সেই গুঞ্জন বলিউডের আলোচিত প্রেমকাহিনিগুলোর একটি হয়ে ছিল। এবার সেই পুরোনো অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন নীলম। তাঁর বক্তব্য, তখন তিনি এতটাই অল্প বয়সী ছিলেন যে গোবিন্দ যে বিবাহিত, সেটিই জানতেন না।
সম্প্রতি টাইমস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নীলমকে বলা হয়, গোবিন্দ নাকি পর্দার বাইরে তাঁকে ভালোবাসতেন। উত্তরে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি তখন খুবই ছোট ছিলাম। জানতামই না যে তিনি বিবাহিত। পরে জানতে পেরেছিলাম।’
নীলমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ছিলেন তাঁর স্বামী অভিনেতা সমীর সোনিও। পুরোনো সেই গুঞ্জন নিয়ে তাঁরও বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই। সমীর বলেন, কয়েক দশক আগে আসলে কী ঘটেছিল, সেটিই যখন নিশ্চিত নয়, তখন সেই বিষয় আঁকড়ে থাকার কোনো কারণ দেখেন না তিনি। তবে তিনি নীলমকে মনে করিয়ে দেন, গোবিন্দ এখনো দাবি করেন যে তিনি একসময় নীলমের প্রেমে পাগল ছিলেন।
নীলম অবশ্য পরিষ্কার করেছেন, তাঁর জীবনের সেই সময়ে প্রেম বা সম্পর্কের কথা ভাবার সুযোগই ছিল না। ‘আমি খুবই ছোট ছিলাম, আর আমার বাবা-মা ছিলেন খুব কঠোর। তাই সম্পর্ক আমার জন্য কখনোই কোনো বিকল্প ছিল না,’ বলেন তিনি। তখন তাঁর পুরো মনোযোগ ছিল অভিনয় শেখা, সিনেমায় কাজ করা এবং হিন্দি ভাষা শেখার দিকে।
শুধু তা-ই নয়, অল্প বয়সের কারণে শুটিংয়েও পরিবারের একজন সদস্য তাঁর সঙ্গে থাকতেন। নীলম জানিয়েছেন, এর অর্থ এই নয় যে তাঁর পরিবার চলচ্চিত্রজগৎকে খারাপ বা অনিরাপদ জায়গা মনে করত; বরং বয়স কম হওয়ায় পরিবারের কাউকে সঙ্গে পাঠানো হতো। সেটে সহকর্মীরাও তাঁকে অনেকটা ছোট বোন বা শিশুর মতোই আগলে রাখতেন।
গোবিন্দ কী বলেছিলেন?
নীলমকে নিয়ে গোবিন্দর পুরোনো বক্তব্যই অবশ্য এই গুঞ্জনের অন্যতম বড় কারণ। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ‘স্টারডাস্ট’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন, নীলমের প্রতি তাঁর দুর্বলতা তৈরি হয়েছিল।
গোবিন্দর ভাষ্য ছিল, একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে তাঁরা নিয়মিত দেখা করতেন। নীলমকে যত চিনেছেন, ততই তাঁর প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। একপর্যায়ে নীলমের প্রেমে পড়ে যাওয়ার কথাও প্রকাশ্যে বলেছিলেন তিনি।
এই গল্পের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল গোবিন্দর গোপন বিয়ে। গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজার বিয়ে হয় ১৯৮৭ সালের ১১ মার্চ। তখন গোবিন্দর ক্যারিয়ার দ্রুত এগোচ্ছিল। পর্দায় রোমান্টিক নায়ক হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তার কথা ভেবে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। এমনকি গোবিন্দ যে বিবাহিত, নীলমও তা জানতেন না—পরবর্তী সময়ে গোবিন্দ নিজেই এ কথা বলেছিলেন।
পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ আরও স্বীকার করেছিলেন, নীলমের সঙ্গে কাজ করার সময় নিজের বৈবাহিক পরিচয় গোপন রাখা তাঁর ভুল ছিল। নীলমের প্রতি তাঁর আকর্ষণ এতটাই ছিল যে একসময় সুনীতার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও দ্বিধায় পড়েছিলেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
তবে নীলমের দিক থেকে সেই গল্পের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁর বয়স কম, পরিবার ছিল কঠোর আর ক্যারিয়ারের শুরুতে তাঁর প্রধান চিন্তা ছিল অভিনয় ও হিন্দি শেখা। ফলে গোবিন্দর ব্যক্তিগত অনুভূতি থাকলেও নীলমের পক্ষ থেকে সেটিকে প্রেমের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
পর্দার জুটি থেকে আলাদা জীবন
গোবিন্দ-নীলম জুটির জনপ্রিয়তা ছিল আশির দশকের বলিউডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তাঁরা বহু ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন এবং তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকের মধ্যে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছিল। সেই সময় বলিউডে একই জুটির একাধিক ছবি সফল হলে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হওয়া ছিল খুবই স্বাভাবিক।
পরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান নীলম। গয়নার নকশা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। অনেক বছর পর আবার দর্শকের সামনে ফেরেন নেটফ্লিক্সের রিয়েলিটি সিরিজ ‘ফ্যাবুলাস লাইভস অব বলিউড ওয়াইভস’-এর মাধ্যমে। পরে ‘ফ্যাবুলাস লাইভস ভার্সেস বলিউড ওয়াইভস’-এও দেখা যায় তাঁকে। এখন তিনি অভিনেতা সমীর সোনির স্ত্রী।
অন্যদিকে গোবিন্দ বলিউডে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার ধরে রেখেছেন। ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ থেকে ‘পার্টনার’—নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের সালের শুরুর সময়ে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।