‘ভাজা ২’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি
‘ভাজা ২’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

২০ দিনে ২০০ কোটি পার, তারকা ছাড়াই ঝড় তুলল যে দক্ষিণি ছবি

মালয়ালাম সিনেমার পর্দায় যেন এক অদ্ভুত উত্থানের গল্প লিখছে ‘ভাজা ২: বায়োপিক অব আ বিলিয়ন ব্রোস’। কোনো বড় তারকা ছাড়াই বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে সিনেমাটি। সেটা এতটাই যে মুক্তির মাত্র ২০ দিনেই অল্প বাজেটের সিনেমাটি আয় করেছে ২০০ কোটি রুপির বেশি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু হওয়া একদল তরুণ নির্মাতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্বপ্ন, আজ তা রূপ নিয়েছে বক্স অফিসের ঝোড়ো বাস্তবতায়। ২০০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে ছবিটি এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক সাফল্যের গল্প নয়—এটি হয়ে উঠেছে সময়ের এক সাংস্কৃতিক দলিল।

একসময় যাকে নিছক ‘ইন্টারনেটের জনপ্রিয়তা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই শক্তিই আজ বড় পর্দায় নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। হাশির, বিনায়ক, অ্যালান ও অজিন—এই চার তরুণ মুখ মূলত পরিচিত ছিলেন ডিজিটাল দুনিয়ায়। তাঁদের ভিডিও, রিলস আর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লাখো তরুণের সঙ্গে তৈরি করেছিল এক আত্মীয়তার সম্পর্ক। সেই সম্পর্কই পর্দায় রূপ পেল এক নতুন ভাষায়, যা দর্শক সহজেই নিজের জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পেরেছেন।

পরিচালক স্যাভিন এসএ ও চিত্রনাট্যকার ভিপিন দাসের এই সিকুয়েল ছবিতে আগের ছবির আবেগ আর হাস্যরসকে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে গেছেন। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে তরুণ প্রজন্মের চিরন্তন দ্বন্দ্ব—পরিবারের প্রত্যাশা, সমাজের চাপ আর নিজের স্বপ্নের টানাপোড়েন। এই দ্বন্দ্বকে তাঁরা এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা একদিকে দর্শকদের বিনোদন দেয়, অন্যদিকে ভাবায়।

‘ভাজা ২’ সিনেমার দৃশ্য। আইএমডিবি

ছবিটি ২০০ কোটির ক্লাবে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে মালয়ালাম সিনেমার ইতিহাসে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এর আগে এই তালিকায় ছিল ‘লোকাহ চ্যাপটার ১’, ‘এল২: এমপুরান’, ‘মানজুমাল বয়েজ’, ‘থুডারাম’।

‘ভাজা ২’ প্রমাণ করেছে, বড় বাজেট বা তারকানির্ভরতা ছাড়াও সাফল্যের অন্য পথ তৈরি করা সম্ভব।

তবে এই যাত্রা এখানেই থেমে থাকার নয়। বর্তমানে মালয়ালাম সিনেমার সর্বোচ্চ আয় করা ছবির তকমা ধরে রেখেছে ‘লোকাহ’; কিন্তু এই সিনেমা যেভাবে ব্যবসা করছে, তাতে আগের সব রেকর্ডই হুমকির মুখে।

এটি ২০২৪ সালের ‘ভাজা’–এর সিকুয়েল, যেখানে বন্ধুত্ব, কৈশোর ও বেড়ে ওঠার গল্পকে কমেডি-ড্রামার আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে।

সিনেমাটির মূলে রয়েছে ‘ব্যর্থ’ তরুণদের গল্প। কিন্তু দ্বিতীয় কিস্তিতে সেই ব্যর্থতার ভেতর থেকেই উঠে আসে এক অপ্রত্যাশিত সাফল্যের আখ্যান।

লেখক বিপিন দাস এবং নবাগত পরিচালক সাভিন এসএ প্রথম ছবির সফল ফর্মুলা থেকে কিছু অংশ নিয়েছেন—বিশেষ করে তরুণদের ভুল পথে যাওয়া ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করার গল্প। তবে দ্বিতীয় পর্বে তাঁরা সেই কাঠামোর ভেতরে আরও অনেক স্তর যোগ করেছেন। কিছু জায়গায় গল্প একটু বেশি উপদেশমূলক হয়ে উঠলেও অধিকাংশ অংশই স্বতঃস্ফূর্ত, যেন বাস্তব বন্ধুদের জীবনের ঘটনা থেকেই উঠে এসেছে।

ছবির অন্যতম শক্তি হলো এর সময়োপযোগী বিষয়বস্তু। বিদেশে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার প্রবণতা, সেই স্বপ্নের সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব—এই বিষয়গুলো ছবিতে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা অনেক তরুণ দর্শকের সঙ্গে সহজেই মিলে যায়। আবার ভাইবোনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ছবিতে এক উষ্ণ ও মানবিক ভঙ্গিতে তুলে ধরা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত বোঝাপড়া ও গ্রহণযোগ্যতার দিকে নিয়ে যায়। যদিও এসব পরিস্থিতির কিছু অংশ ক্লিশে, তবু উপস্থাপনার গুণে সেগুলো কার্যকর হয়ে ওঠে।

ফিল্মফেয়ার অবলম্বনে