মালয়ালম অভিনেত্রী কল্যাণী প্রিয়দর্শনের বলিউডে অভিষেক হতে পারে—এমন জল্পনা বেশ কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে। রণবীর সিং অভিনীত সম্ভাব্য ছবি প্রলয়-এর সঙ্গে তাঁর নাম উঠে এসেছে। যদিও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। তবে বলিউডসহ বিভিন্ন ভাষার সিনেমা থেকে যে প্রস্তাব পাচ্ছেন, তা স্বীকার করেছেন এই দক্ষিণি অভিনেত্রী। এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের নতুন যাত্রা নিয়ে কথা বলেছেন কল্যাণী।
মালয়ালম সিনেমার ইতিহাসে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে কল্যাণী প্রিয়দর্শন অভিনীত সুপারহিরো ছবি ‘লোকাহ: চ্যাপ্টার ১-চন্দ্র’। সর্বকালের সর্বোচ্চ আয় করা মালয়ালম ছবি হওয়ার পাশাপাশি এটি ভারতের প্রথম নারী সুপারহিরো চলচ্চিত্র। বড় পর্দার পর ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও সমান দাপট দেখিয়েছে ছবিটি।
ছবিটির আশাতীত সাফল্যে নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করছেন কল্যাণী। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি যে আমরা এমন একটি ছবি বানাতে পেরেছি, যেটা শুধু ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই নয়, দর্শকদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মানুষ একবার নয়, একাধিকবার প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখেছেন। আর এমন একটা সময়ে ছবিটি সফল হয়েছে, যখন মানুষের সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখার প্রবণতা কমে গেছে।’
ভারতে সুপারহিরো ঘরানার সিনেমা কেন দেরিতে জনপ্রিয় হলো—এ প্রসঙ্গে কল্যাণীর মত, ‘আমাদের দেশের প্রায় সব নায়কই কোনো না কোনোভাবে সুপারহিরো। তাঁরা মাধ্যাকর্ষণ অমান্য করে এমন সব কাজ করেন, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। আমরা সেগুলোকে কখনো আলাদা করে সুপারহিরো ছবি বলিনি, শুধু নায়কের গল্প হিসেবেই দেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে বাস্তব কাহিনির প্রতি ঝোঁক বেশি। তাই অ্যাকশনকে বিশ্বাসযোগ্য করতে সুপারহিরো ঘরানার আশ্রয় নিতে হয়েছে। তা না হলে অন্তত আমাদের রাজ্যে ছবিটা চলত না।’
ছবি মুক্তির আগে যে ভয় কাজ করছিল, সেটাও অকপটে স্বীকার করেন কল্যাণী, ‘নারী সুপারহিরো ছবি বললেই তুলনা করার মতো কোনো দেশীয় উদাহরণ ছিল না। আমরা জানতাম আন্তর্জাতিক ছবিগুলোর সঙ্গে ‘লোকাহ’র তুলনা হবে। আর সেসব ছবির বাজেট আমাদের চেয়ে ২০-৩০ গুণ বেশি। তাই প্রথম দিকের সব সাক্ষাৎকারেই বারবার বলেছি, এটা ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ নয়, আমার চরিত্র ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’-এর মতো নয়।’
তবে শেষ পর্যন্ত তুলনাগুলো ইতিবাচক হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ তথা বলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা প্রিয়দর্শনের মেয়ে কল্যাণী। বাবার পরিচয়ের বাইরে গিয়ে অল্প সময়েই নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন তিনি। কমেডি চলচ্চিত্রের দুনিয়ায় প্রিয়দর্শন অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নাম। সেই ঘরানায় কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন কল্যাণী। তিনি বলেন, ‘ওই ক্ষেত্রেও আমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। ছোটবেলা থেকে কমেডি ছবি দেখেই বড় হয়েছি। এ ঘরানা আমার খুব কাছের। নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝে, শিখে এ ধরনের ছবিতে কাজ করতে চাই।’
‘লোকাহ’র সাফল্য কল্যাণীর সামনে খুলে দিয়েছে নতুন অনেক দরজা। শুধু মালয়ালম নয়, হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষার সিনেমা থেকেও তাঁর কাছে প্রস্তাব আসছে। ভালো গল্পের জন্য তাঁকে ভাবা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কীভাবে এটা হয়—ভালো গল্প যেন সব সময়ই আমাকে খুঁজে পায়। যে ভাষারই হোক না কেন। আমি স্ক্রিপ্টের ব্যাপারে খুবই লোভী একজন অভিনেত্রী। গল্প ভালো হলে সেটা মারাঠি, হিন্দি, কন্নড়, তামিল, তেলেগু বা মালয়ালম—যে ভাষারই হোক, আমি করতে চাই।’
হিন্দি ছবিতে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানান কল্যাণী। তাঁর ভাষায়, ‘হিন্দি ছবিতে কাজ করতে আমি অবশ্যই চাই। কিন্তু আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গল্প আর গল্প বলার ধরন। কখনোই ভাষাকে বাধা হিসেবে দেখিনি। সিনেমায় আবেগটাই সবচেয়ে সর্বজনীন।’ কল্যাণীর মতে, ‘প্যান ইন্ডিয়ান ছবির জনপ্রিয়তার পেছনেও এ আবেগই মূল কারণ। আজ বিভিন্ন ভাষার মানুষ অন্য ভাষার ছবিও দেখছেন। কারণ, আবেগ শব্দের সীমা ছাড়িয়ে যায়।’
‘লোকাহ’র সাফল্যের পর হিন্দি ছবির প্রস্তাব বেড়েছে কি না—এমন প্রশ্নে কল্যাণীর উত্তর, ‘প্রস্তাব বেড়েছে না কমেছে, সেটা বলা কঠিন। প্রস্তাব আগেও ছিল, এখনো আছে। কিন্তু আমি একসঙ্গে অনেক ছবিতে কাজ করতে পারি না। যে ছবিতে কাজ করি, সেটাকে পুরো সময় দিতে চাই।’
‘লোকাহ’ সুপারহিরো ইউনিভার্সের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন কল্যাণী, ‘আমরা শুরু থেকেই জানতাম, গল্পটা কোথায় গিয়ে শেষ হবে। শুনেছি, ডমিনিক অরুণ চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেছেন এবং প্রথম কয়েকটি দৃশ্যের খসড়াও তৈরি হয়েছে। মজার বিষয় হলো, প্রতি সপ্তাহেই আমরা ওনাকে ফোন করে জানতে চাই, কতটা এগিয়েছে!’