মডেলিং থেকে শুরু করে বলিউড, আন্তর্জাতিক মঞ্চ—সবখানেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। আজ তাঁর জন্মদিন। তিনি আর কেউ নন লারা দত্ত। জন্মদিন উপলক্ষে আলো ফেলা যাক তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ারে।
১৯৭৮ সালের ১৬ এপ্রিল ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে জন্মগ্রহণ করেন লারা দত্ত। তাঁর বাবা এল কে দত্ত ছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা। বাবার চাকরির কারণে দেশের বিভিন্ন শহরে তাঁর শৈশব কাটে। বেঙ্গালুরুতে স্কুলজীবন শেষ করে তিনি ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব মুম্বাইয়ে। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাজীবন শেষ হয়। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, বুদ্ধিদীপ্ত এবং মঞ্চে সাবলীল, যা পরবর্তী সময় তাঁর ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে দেয়।
লারার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ২০০০ সালে। সে বছর তিনি প্রথমে জিতেছিলেন ‘ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া’। এরপর একই বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিনিধিত্ব করে জয় করেন ‘মিস ইউনিভার্স’।
এই অর্জন শুধু লারার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং ভারতের জন্যও ছিল গর্বের মুহূর্ত। বিচারকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তাঁর আত্মবিশ্বাসী ও বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর তাঁকে অন্য প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা করে তোলে। অনেকেই মনে করেন, সেই সময়কার অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স ছিল এটি।
বিশ্বসুন্দরী হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বলিউডের দরজা খুলে যায় লারার জন্য। ২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন অক্ষয় কুমার ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। প্রথম ছবিতেই তিনি জিতে নেন ফিল্মফেয়ার সেরা নবাগত অভিনেত্রীর পুরস্কার। তবে শুরুটা যতটা ঝলমলে মনে হয়েছিল, পরবর্তী পথটা ততটা সহজ ছিল না।
প্রথম দিকে লারার অভিনয় নিয়ে সমালোচনা ছিল। অনেকেই তাঁকে ‘গ্ল্যামারাস কিন্তু সীমিত’ অভিনেত্রী হিসেবে দেখতেন। একের পর এক ছবি বক্স অফিসে ব্যর্থ হতে থাকলে তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
বলিউডে টিকে থাকা সহজ নয়—এই সত্য খুব দ্রুতই বুঝে যান লারা দত্ত। ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়টা তাঁর জন্য ছিল কঠিন। বেশ কিছু ছবি ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্যারিয়ারের এক সংকটময় পর্যায়ে পৌঁছান।
তবে এখানেই লারার দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে তিনি নিজের অভিনয়ের ধরন বদলাতে শুরু করেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে গিয়ে ভিন্নধর্মী ও বাস্তবধর্মী চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন।
২০০৬ সালে ‘ভাগম ভাগ’ এবং পরে ‘নো অ্যান্টি’ ছবিতে লারার কমেডি টাইমিং দর্শকদের নজর কাড়ে। বিশেষ করে কমেডি ঘরানায় তিনি নিজেকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
তারপর ‘পার্টনার’ ছবিতে অভিনয় করে আবারও আলোচনায় আসেন। এখানে লারার উপস্থিতি প্রমাণ করে, শুধু গ্ল্যামার নয়—অভিনয়ের ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লারা দত্ত অভিনয়ে পরিণত হয়ে ওঠেন। ‘বিল্লু’-তে তাঁর সংযত অভিনয় এবং ‘চলো দিল্লি’–তে তাঁর পারফরম্যান্স দর্শকদের প্রশংসা পায়। বিশেষ করে ‘চলো দিল্লি’ ছবিতে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, প্রযোজনাতেও যুক্ত ছিলেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন এক অধ্যায় যোগ করে, একজন অভিনেত্রী থেকে নির্মাতা হয়ে ওঠা।
আরও সুযোগ পাওয়া কি লারার উচিত ছিল?
এ প্রশ্নের জবাবে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘যা পেয়েছি, তাতে সন্তুষ্ট। বরং ২০ বছর পেছনের দিকে তাকালে নিজেকে আমার অত্যন্ত ভাগ্যবতী বলে মনে হয়। কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে পেছনের জীবনে ফিরে আমি কী বদলাতে চাই। আমার উত্তর হবে যে কিছুই বদলাতে চাই না। এই জীবনে যা পেয়েছি, তাতে আমি খুব খুশি। আমি আজ পর্যন্ত যেসব চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছি আর এখনো নিজেকে মেলে ধরছি, তাতে আমি ভীষণই খুশি। জীবনের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
মাঝে কিছুটা বিরতি পরলেও এখন চুটিয়ে কাজ করছেন লারা। ওটিটিতে বটেই নতুন নতুন সিনেমায় দেখা যাবে তাঁকে। ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ চলতি বছরই মুক্তি পাওয়ার কথা। এ ছাড়া আরও দুটি সিনেমার শুটিং চলছে।
হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে