
বলিউডের ইতিহাসে এমন কিছু সিনেমা আছে যেগুলো মুক্তির সময় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোই দর্শকদের কাছে একধরনের ‘কাল্ট ফেভারিট’ হয়ে উঠেছে। তেমনই এক ছবি হলো রাজকুমার কোহলি পরিচালিত ‘জানি দুশমন: এক আখো কী কাহানি’। মুক্তির সময় যাকে প্রায় সবাই নাকচ করে দিয়েছিল, কিন্তু বছরের পর বছর পরে ইন্টারনেট ও মিম সংস্কৃতির কারণে এটি এক অদ্ভুত জনপ্রিয়তা পায়।
এই ছবির কেন্দ্রীয় আলোচনায় থাকা তারকাদের একজন ছিলেন অক্ষয় কুমার। সম্প্রতি তিনি এক সাক্ষাৎকারে পুরোনো সেই সময়ের কথা স্মরণ করে জানান, তখন তিনি এই ছবির জন্য দিনে প্রায় ৮ থেকে ৯ লাখ রুপি পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতেন। সেই সময়ের জন্য এটি ছিল বড় অঙ্কের টাকা।
অক্ষয় জানান, তিনি তখন এককালীন পারিশ্রমিকে নয়, বরং দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করতেন। অর্থাৎ তিনি যত দিন শুটিং করতেন, তত দিনের টাকা পেতেন। এই কাঠামোটি তখন বলিউডে খুব অস্বাভাবিক ছিল না, বিশেষ করে একাধিক তারকাসমৃদ্ধ ছবিতে।
অক্ষয় আরও একটি মজার ও বাস্তব ঘটনা শেয়ার করেন, যা ‘জানি দুশমন’ সিনেমার শুটিংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর চরিত্র একপর্যায়ে মারা যায়, এমনকি গল্প অনুযায়ী তাঁকে সর্পরূপী চরিত্রের হাতে হত্যা করা হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, তিনি আবারও গল্পে ফিরে আসেন। এর পেছনে ছিল খুব বাস্তব একটি কারণ—শুটিং চলাকালে প্রযোজকের প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত শিডিউলের, আর অভিনেতারও তখন আর্থিক প্রয়োজন ছিল।
অক্ষয় বলেন, তখন তিনি একটি ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই কারণে তিনি পরিচালক রাজকুমার কোহলির কাছে গিয়ে বলেন যে তাঁর কাজ শেষ, কিন্তু যদি অতিরিক্ত শুটিং থাকে তিনি করতে রাজি আছেন। এরপর সিদ্ধান্ত হয় তাঁর চরিত্রকে কোমাতে রাখা হবে। ফলে তিনি আবার গল্পে ফিরে আসেন এবং আরও কিছু অ্যাকশন দৃশ্যে অংশ নেন।
এই ছবিতে ছিলেন সানি দেওল, আরাশাদ ওয়ার্সি, মনীষা কৈরালাসহ অনেক পরিচিত মুখ। এত বড় কাস্ট থাকা সত্ত্বেও সিনেমাটি তখন সমালোচকদের কাছ থেকে ভালো রিভিউ পায়নি। গল্প, ভিএফএক্স এবং অতিরঞ্জিত উপস্থাপনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এখন অন্তর্জালে সিনেমাটির রিলস, শর্টস আর মিম ব্যাপক জনপ্রিয়।
চলচ্চিত্রটির আরেকটি বিশেষ দিক হলো এর ধারাবাহিক অতিরঞ্জিত গল্প বলা। একদিকে সাপ, অন্যদিকে প্রতিশোধ, আবার অতিপ্রাকৃত ঘটনা—সব মিলিয়ে এটি একধরনের ‘ফ্যান্টাসি হরর অ্যাকশন’ ঘরানার মিশ্রণ তৈরি করেছিল। তবে সেই সময়ের দর্শকরা এটিকে সিরিয়াসভাবে গ্রহণ করেনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্ষয় কুমারের মোট সম্পত্তির পরিমাণ আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ কোটি রুপি। তিনি ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেওয়া অভিনেতাদের একজন যিনি প্রতি ছবির জন্য ৬০ থেকে ১৪৫ কোটি রুপি পর্যন্ত নিয়ে থাকেন। তাঁর আয়ের মূল উৎস চলচ্চিত্র, ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট এবং নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা।
অক্ষয়কে সবশেষ দেখা গেছে গত শুক্রবার মুক্তি পাওয়া প্রিয়দর্শনের ‘ভূত বাংলা’ সিনেমায়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে