
৭০ বছরে পা দিয়েছেন তেলেগু সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ব্রহ্মানন্দম কান্নেগান্তি। হাজারের বেশি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জিতেছেন দর্শকের হৃদয়। কমেডি সিনেমার অনবদ্য এই অভিনেতা পর্দায় যতটা হাস্যরসাত্মক, তাঁর জীবনদর্শন ততটাই নীতিবোধসম্পন্ন। জন্মদিনে অভিনেতা সম্পর্কে কিছু জিনিস জেনে নেওয়া যাক।
অভিনয়জীবন কেবল কমেডি নয়
ব্রহ্মানন্দম কান্নেগান্তি ১ হাজার ২০০–এর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ছবির প্রতিটি ফ্রেমে তাঁর হাসি যেন দর্শকের মনকে স্পর্শ করে। তিনি বিশ্বাস করেন, একজন কৌতুক অভিনেতা কেবল তখনই সফল, যখন তিনি দর্শককে সত্যিই হাসাতে পারেন। তাঁর মতে, ‘যে মানুষকে হাসাতে পারে, সে কৌতুক অভিনেতা—নবীন হোক বা প্রবীণ।’ তবে তিনি মনে করেন, ‘নিজেকে কৌতুক অভিনেতা মনে করলে হবে না; দর্শক মেনে নিলেই আপনি সেই খেতাবের অধিকারী।’
কেবল কমেডি নয়—সিরিয়াস চরিত্রেও তিনি অদ্বিতীয়। ‘রাঙ্গা মার্তান্ডা’ ছবিতে তিনি সে প্রমাণ দিয়েছেন। সেখানে তাঁর অভিনয় ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। প্রথম ফ্রেম থেকে শেষ ফ্রেম—একটুও হাসি নেই। এ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি। অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘প্রকাশ রাজ আমাকে বলেছিলেন, “তোমার ভেতরের অভিনেতাকে প্রথম দেখলাম আমি।” এটা আমার কাছে বিরাট সম্মান।’ যদিও এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব পরিচালককে দিয়েছেন এই অভিনেতা। বলেন, ‘আমার মতো একজন কমেডিয়ানকে সিরিয়াস চরিত্রে কাস্ট করা পরিচালকের সাহসী পদক্ষেপ মনে হয়েছে। যদি আমি ভালো অভিনয় করে থাকি, তবে এর কৃতিত্ব তাঁর। কারণ, আমার মধ্যেই তিনিই এটি খুঁজে পেয়েছেন।’
মিমের মাধ্যমে এ প্রজন্মে পরিচিতি
ব্রহ্মানন্দমের ছবি ও অভিব্যক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে অনেক মিম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো পেয়েছে জনপ্রিয়তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় না থাকলেও সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন অভিনেতা। নিজেও উপভোগ করেন। এ নিয়ে অভিনেতা বলেন, ‘মিমের পুরো কৃতিত্ব তাঁদের, যাঁরা এই মিম তৈরি করেন। এটি ছবিতে অভিনয় করার চেয়েও কঠিন।’ মিম নিয়ে অভিনেতা দিয়েছেন অবাক করা তথ্য। শুধু বিনোদন নয়, এই মিমগুলো নাকি মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার জন্যও ব্যবহার হচ্ছে! অভিনেতা বলেন, ‘রাজাহমুন্দ্রির (অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের শহর) এক খ্যাতনামা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কাররি রামা রেড্ডি তাঁর হাসপাতালে আমার প্রায় ১২টি ছবি রেখেছেন। রোগীদের মেজাজ বোঝার জন্য তিনি এই ছবিগুলো ব্যবহার করেন। তাঁরা আমার অনুমতি নিয়েই এটি করছে, আমি এটিকে মিমের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।’
জীবনদর্শন
ব্রহ্মানন্দমের আধ্যাত্মিকতা এবং দর্শন পরিষ্কার—তিনি সত্যকে আধ্যাত্মিকতার সমার্থক মনে করেন। জীবনদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, সাফল্য ও ব্যর্থতা একই মুদ্রার দুই পিঠ। তাঁর মতে, ‘ভালো কাজের ফলাফলও প্রকৃতপক্ষে আমাদের কাছে আসে, যদি আমরা সৎ ও পরিশ্রমী হই।’
অভিনেতা সফলতাকে সংজ্ঞায়িত করেন ব্যর্থতা দিয়ে। তাঁর কথায়, ‘সফলতা বোঝার জন্য প্রথমে ব্যর্থতাকেও বোঝা প্রয়োজন। সফলতা এবং ব্যর্থতা আলাদা কিছু নয়; এরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। আমি শুধু সফলতা অর্জনের জন্য কাজ করিনি, বরং ব্যর্থতার ভয় ও তা এড়ানোর ইচ্ছা আমাকে কঠোর পরিশ্রমের জন্য অনুপ্রাণিত করেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমার সফলতা সৃষ্টিকর্তার দয়া।’
নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে