
চলচ্চিত্রজগতের কিছু গল্প ক্যামেরায় নয়, ভাগ্যে লেখা হয়। চিত্রনাট্য একই থাকে, কিন্তু বদলে যায় চরিত্র। যাঁকে আমরা পোস্টারে দেখার কথা ভাবি, তিনি কখনো ইতিহাসের পাতায় পিছিয়ে পড়েন, আর তাঁর জায়গায় অন্য কেউ এসে দাঁড়ান সেই ফ্রেমে। কখনো নির্মাতাদের সিদ্ধান্তে, আবার কখনো তারকারাই প্রজেক্ট থেকে সরে যান। এই মুহূর্তে রণবীর সিংয়ের ‘ডন ৩’ ছাড়ার খবর নিয়ে বলিউডে তুমুল আলোচনা চলছে। ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) তাঁর বিরুদ্ধে নন-কোঅপারেশন নোটিশও জারি করেছে। এই আবহে জেনে নেওয়া যাক, এমন কিছু তারকার কথা, যাঁরা শেষ মুহূর্তে সিনেমা ছেড়েছেন বা যাঁদের ছবির বাইরে করে দেওয়া হয়েছিল।
রণবীর সিং (‘ডন ৩’)
রণবীর সিংয়ের ‘ডন ৩’ ছাড়ার খবর বলিউডে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। সবাই জানতে চাইছেন, কেন এমন হলো? যদিও তাঁর ছবি ছাড়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনো সামনে আসেনি। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, চিত্রনাট্য নিয়ে রণবীর এবং নির্মাতাদের মধ্যে মতভেদ ছিল। সেই কারণেই তিনি ছবিটি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন (‘চলতে চলতে’)
‘চলতে চলতে’ ছবিতে প্রথমে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকে নেওয়া হয়েছিল। তিনি ছবির শুটিংও শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে তাঁকে ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় রানী মুখার্জিকে। সেই সময় ঐশ্বরিয়া ও সালমান খানের সম্পর্ক নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়, সালমান খান প্রায়ই ছবির সেটে চলে আসতেন। আর শুটিং চলাকালীন সেটে এসে ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে অশান্তি করতেন। এর ফলে ছবির শুটিং এবং প্রোডাকশনে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। পরে নির্মাতা ও শাহরুখ খান মিলে ঐশ্বরিয়াকে ছবিটি থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেন।
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস (‘ভারত’)
সালমান খান অভিনীত ‘ভারত’ ছবিতে প্রথমে ক্যাটরিনা কাইফের বদলে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শুটিং শুরুর মাত্র দশ দিন আগে তিনি ছবিটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ছবির পরিচালক আলি আব্বাস জাফর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, প্রিয়াঙ্কা খুব বিশেষ কারণে ছবিটি ছেড়েছেন। পরে তাঁর বিয়ের খবর সামনে আসে। সালমান খানও এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বিয়ে ও একটি বড় হলিউড প্রজেক্টের কারণেই প্রিয়াঙ্কা ছবিটি থেকে সরে দাঁড়ান।
আলিয়া ভাট (‘রাবতা’)
‘রাবতা’ ছবির জন্য নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন আলিয়া ভাট। কিন্তু তিনি পরে ছবিটি থেকে দূরে সরে যান। কারণ হিসেবে বলা হয়, ডেট সমস্যা এবং একাধিক অন্য প্রজেক্টে ব্যস্ততা। সেই সময় আলিয়ার হাতে ছিল ‘উড়তা পাঞ্জাব', ‘শানদার’, ‘কাপুর অ্যান্ড সনস’-এর মতো বড় কয়েকটি ছবি। তিনি নাকি তখন করন জোহরের প্রজেক্টগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিছু রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়, আলিয়া তখন আর একটি প্রেমের ছবি করতে চাইছিলেন না। পরে তাঁর জায়গায় নেওয়া হয় কৃতি শ্যাননকে।
কারিনা কাপুর খান (‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’)
হৃতিক রোশনের ডেবিউ ছবি ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’-এ প্রথমে কাস্ট করা হয়েছিল কারিনা কাপুরকে। তিনি ছবির কিছু অংশের শুটিংও করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি ছবিটি ছেড়ে দেন। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে বলা হয়, কারিনার মা ববিতা কাপুরের সঙ্গে ছবির পরিচালক, প্রযোজক ও হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশনের মতভেদ কারণে বেবো ছবি থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। শোনা যায়, ববিতা চাইতেন কারিনার এমন ছবির মাধ্যমে অভিষেক হবে, যেখানে সম্পূর্ণ ফোকাস শুধু তাঁর মেয়ের ওপরই থাকবে। পরে কারিনা ‘রিফিউজি’ দিয়ে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বলিউডে অভিষেক করেন। ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ ছবিতে কারিনা জায়গায় নেওয়া হয় আমিশা প্যাটেলকে। এদিকে আমিশা বেশ কিছু সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন যে কারিনা ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ ছবি থেকে সরে দাঁড়াননি, তাঁকে ছবি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। ববিতার হস্তক্ষেপের কারণেই নির্মাতারা কারিনাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে আমিশা দাবি করেছেন।
কার্তিক আরিয়ান (‘দোস্তানা ২’)
‘দোস্তানা’-র দ্বিতীয় কিস্তি তৈরির প্রস্তুতি চলছিল জোর কদমে। এই সিক্যুয়েল ছবিতে নেওয়া হয়েছিল কার্তিক আরিয়ান, জাহ্নবী কাপুর ও লক্ষ্যকে। কার্তিক ও জাহ্নবী শুটিংও শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিতর্ক শুরু হয়, যখন ধর্মা প্রোডাকশনস জানায় যে ছবির কাস্ট নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। এর পর থেকেই কার্তিক আরিয়ান ও করণ জোহরের মধ্যে মনোমালিন্যের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়, সৃজনশীল মতভেদ এবং কথিত অপেশাদার আচরণের কারণেই কার্তিককে ছবিটি থেকে সরানো হয়েছিল।