
জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন নয়, একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন বলিউড তারকা আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাট। তবে বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল যতটা সাদামাটা, কনের হাতে থাকা আংটিটি ছিল ঠিক ততটাই ব্যতিক্রমী। মাদাগাস্কার থেকে আনা বিরল প্রাকৃতিক রুবি, ৪০টি হীরা, শতাধিক কারিগরের দীর্ঘ সময়ের নিখুঁত কারুকাজ—সব মিলিয়ে গৌরীর বিয়ের আংটিটি এখন বলিউডের নতুন আলোচনার বিষয়।
৫ জুলাই মুম্বাইয়ের পালি হিলে সমুদ্রমুখী নিজ বাসভবনে দীর্ঘদিনের সঙ্গী গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন ৬১ বছর বয়সী আমির খান। দুই পরিবারের সদস্য, তিন সন্তান ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। অতিথি ছিলেন প্রায় ১৫০ জন। বলিউডের চাকচিক্য থেকে দূরে থেকে ব্যক্তিগত পরিসরেই নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিলেন এই যুগল।
সবার নজর কেড়েছে যে আংটি
বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে গৌরী স্প্র্যাটের অনামিকায় থাকা আংটিটি। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এটি আমির খানের বিশেষ উপহার।
আংটিটি তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল গয়নার ব্র্যান্ড কুইন। ব্র্যান্ডটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অমিত কুমার হিন্দুস্তান টাইমসকে জানিয়েছেন, আংটির মূল আকর্ষণ একটি বিরল প্রাকৃতিক রুবি, যা বিশেষভাবে মাদাগাস্কার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিন মাস ধরে খোঁজা হয়েছে বিরল রুবি
অমিত কুমারের ভাষ্য, উপযুক্ত মান, রং ও গুণগত বৈশিষ্ট্যের একটি রুবি খুঁজে পেতে তিন মাসেরও বেশি সময় লেগেছে। অবশেষে মাদাগাস্কার থেকে সংগ্রহ করা হয় সেই রত্ন।
আংটির কেন্দ্রে বসানো হয়েছে ক্যাবোশন-কাট প্রাকৃতিক রুবি। সাধারণ রুবির মতো এতে বহু দিক থেকে আলোর প্রতিফলন হয় না। বরং এর ওপরের অংশ মসৃণ ও গম্বুজাকৃতির হওয়ায় রত্নটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। রুবিটির নিচে সোনার তৈরি মুকুটের আদলে একটি বিশেষ কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যা পুরো নকশায় রাজকীয় আবহ এনে দিয়েছে।
৪০টি হীরা, ১৩১ কারিগরের ২৫৬ ঘণ্টার পরিশ্রম
রুবির চারপাশে বসানো হয়েছে ৪০টি প্রাকৃতিক হীরা। পাশাপাশি নকশায় ব্যবহার করা হয়েছে আরও কয়েকটি মূল্যবান রত্ন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, আংটিটি তৈরি করতে কাজ করেছেন ১৩১ জন দক্ষ কারুশিল্পী।
ব্র্যান্ডটির দাবি, পুরো আংটি হাতে তৈরি করতে লেগেছে ২৫৬ ঘণ্টা। প্রতিটি অংশে সূক্ষ্ম কারুকাজ নিশ্চিত করতে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এটি শুধু একটি বিয়ের আংটি নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণযোগ্য একটি পারিবারিক ঐতিহ্য হিসেবেও ভাবা হয়েছে।
শুধু অলংকার নয়, সম্পর্কের প্রতীক
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৌরীর ব্যক্তিগত রুচি ও আমিরের পছন্দকে সামনে রেখেই আংটির নকশা চূড়ান্ত করা হয়। বিরল রুবি বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তও ছিল সচেতন। আংটিটি যেন কেবল দামি গয়না না হয়ে তাঁদের সম্পর্কের গভীরতার প্রতীক হয়ে ওঠে, সেই ভাবনা থেকেই এর নকশা করা হয়েছে।
২৫ বছরের পরিচয়, তারপর প্রেম
আমির খান ও গৌরী স্প্র্যাটের পরিচয় প্রায় ২৫ বছরের। দীর্ঘ সময় যোগাযোগ না থাকলেও কয়েক বছর আগে আবারও তাঁদের দেখা হয়। পুরোনো বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।
২০২৫ সালে নিজের ৬০তম জন্মদিনে প্রথমবারের মতো গৌরীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন আমির। পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গৌরীর মধ্যে তিনি এমন একধরনের শান্তি ও স্থিরতা খুঁজে পেয়েছেন, যা তাঁর জীবনের এই পর্যায়ে খুব প্রয়োজন ছিল।
ঘরোয়া বিয়ে, আলোচনায় আন্তরিকতা
বিয়ের দিন আমিরকে দেখা যায় আইভরি রঙের ধুতি-পাঞ্জাবি ও একটি ব্রোচে। অন্যদিকে গৌরী পরেছিলেন প্যাস্টেল রঙের লেহেঙ্গা ও বহু স্তরের হার। তবে সব আড়ম্বর ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে তাঁর আঙুলের আংটিটি।
বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমিরের তিন সন্তান—জুনায়েদ, ইরা ও আজাদ। এ ছাড়া দুই পরিবারের সদস্য এবং হাতে গোনা কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিলাসবহুল আয়োজনের চেয়ে পারিবারিক উষ্ণতাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন নবদম্পতি।
ব্যস্ততা নতুন ছবির কাজেও
ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেও পেশাগত দিক থেকেও ব্যস্ত সময় পার করছেন আমির খান। তাঁর প্রযোজনা সংস্থার ব্যানারে নির্মিত হচ্ছে ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’। রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত ছবিটিতে অভিনয় করছেন সানি দেওল, শাবানা আজমি, প্রীতি জিনতা ও আলী ফজল। সংগীত পরিচালনা করেছেন এ আর রাহমান, গানের কথা লিখেছেন জাভেদ আখতার। দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত ছবিটি আগামী ১৪ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা।