প্রায় এক দশক আগে ‘সনম তেরি কসম’–এ রোমান্টিক নায়করূপে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন হর্ষবর্ধন রানে। দীর্ঘ বিরতির পর ‘এক দিওয়ানে কি দিওয়ানিয়ত’ ছবিতে সেই মায়াবী প্রেমিকরূপেই ফিরেছেন আবার। সম্প্রতি ফিল্ম ফেয়ার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই নতুন যাত্রা ও চলচ্চিত্রজীবনের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন হর্ষবর্ধন।
রোমান্সের খোঁজে
মিলাপ জাভেরি পরিচালিত ‘এক দিওয়ানে কি দিওয়ানিয়ত’–এর সুবাদে দর্শকের ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত হর্ষবর্ধন রানে। ছবির প্রচারণায় যে শহরেই যাচ্ছেন, তাঁকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাসের যেন শেষ নেই। কেন এই রোমান্টিক ছবিটি বেছে নিয়েছিলেন—প্রশ্নের জবাবে হর্ষবর্ধনের সোজাসাপটা উত্তর, ‘খাঁটি, সৎ ভালোবাসার গল্পের জন্য আমি সব সময় ক্ষুধার্ত। সেই টানেই এই ছবির অংশ হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এই গল্পের মাধ্যমে অনেক মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হবে; বাস্তবে তা–ই হয়েছে।’
চরিত্রে প্রাণ দেওয়ার প্রস্তুতি
‘এক দিওয়ানে কি দিওয়ানিয়ত’–এ হর্ষবর্ধন রানে প্রভাবশালী রাজনীতিক বিক্রমাদিত্য ভোসলে। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন সোনম বাজওয়া।
পর্দায় বিক্রমাদিত্যকে বাস্তব করে তুলতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন হর্ষবর্ধন, ‘বিক্রমাদিত্যর শৈশব থেকে শুরু করে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের পুরো গল্প নিজের মতো করে লিখে রেখেছিলাম। পরে পরিচালক মিলাপ জাভেরি ও চিত্রনাট্যকার মুস্তাক শেখ সেটি অনুমোদন করেন। এরপর আমি জনপ্রিয় একজন রাজনীতিকের আচরণ, শরীরী ভাষা আর জনসমক্ষে কথা বলার ধরন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করি। তাঁর হাঁটা, কথা বলা, এমনকি জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ার ভঙ্গিটাও আয়ত্ত করার চেষ্টা করেছি। শুটিংয়ের সময় মনে হতো, আমি যেন সত্যিকারের ক্ষমতার নিশ্বাস নিচ্ছি আর নিশ্বাস ফেলার সঙ্গে সঙ্গে সব ভয়, দ্বিধা ও সংশয় দূর হয়ে যাচ্ছে।’
শিকারি বাঘিনী
ছবিতে সোনম বাজওয়ার সঙ্গে হর্ষবর্ধন রানের রসায়ন দর্শকের মন ছুঁয়ে গেছে। রোমান্টিক দৃশ্যগুলোয় তাঁদের স্বাভাবিক উপস্থিতি যেন বাস্তবের আবেগ ছুঁয়ে যায়। পর্দার বাইরেও দুজনের মধ্যে সেই আন্তরিক বন্ধন স্পষ্ট।
সহশিল্পী সোনমকে নিয়ে উচ্ছ্বাসভরে হর্ষবর্ধন বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে যত অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছি, সোনম বাজওয়া নিঃসন্দেহে সেরা দুজনের একজন। ওর মধ্যে পাহাড়সম প্রতিভা, আবার একই সঙ্গে বিনয়ী ও পরিশীলিত মানুষ। শিল্পী হিসেবে সে যেমন মনোযোগী, তেমনি সংবেদনশীলও। নীরব থেকেও শুধু চোখের অভিব্যক্তিতে পুরো দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলতে পারে সোনম। কোনো দৃশ্য একবার ঠিক বুঝে নিলে সে হয়ে ওঠে শিকারি বাঘিনীর মতো—মনোযোগী, তীক্ষ্ণ আর ভয়ংকরভাবে নিবিষ্ট!’
বাণিজ্যসফল অভিনেতা
বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবল প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকার পথ খুঁজে পেয়েছেন হর্ষবর্ধন, ‘এখানে টিকে থাকতে হলে প্রযোজককে লাভের মুখ দেখাতে হবে। বাণিজ্যসফল অভিনেতা হয়ে ওঠাই আমার ইচ্ছা আর লক্ষ্য। আমি চাই ছবির জন্য প্রযোজক যে অর্থ ঢেলেছেন, তার যথাসম্ভব ফিরিয়ে দিতে। আর আমি চাই পুরোদস্তুর রোমান্টিক নায়ক হয়ে উঠতে।’