
গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাং ক্রমে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে গোটা বলিউডে। এর আগে বলিউড সুপারস্টার সালমান খান, চিত্রপরিচালক রোহিত শেঠির বাড়ির বাইরে গুলি করেছিল বিষ্ণোইয়ের দলবল।
সম্প্রতি রণবীর সিংকে হুমকি দেওয়ার ঘটনার পর এবার সালমান খানের ভগ্নিপতি আয়ুশ শর্মার কাছে হুমকিমূলক ই–মেইল পাঠানো হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ প্রোটন মেইলের মাধ্যমে পাঠানো ওই ই–মেইলের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এর সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ই–মেইল প্রেরক নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে আয়ুশ শর্মার কাছে কোটি টাকার চাঁদা দাবি করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত সালমান খান বা আয়ুশ শর্মার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।
ক্রিপ্টোকারেন্সিতে চাওয়া হয়েছে চাঁদা
ই–মেইল পাঠানো ব্যক্তি আয়ুশ শর্মার কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে চাঁদা দাবি করেছেন। তিনি প্রোটোনমেইল ব্যবহার করেছেন, যা একটি ভিপিএন পরিষেবার অংশ, ফলে প্রেরকের পরিচয় কিছুটা গোপন রয়েছে। তদন্ত সম্পর্কে পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ক্রাইম ব্রাঞ্চের দল পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছে এবং আইনগতভাবে যা যা প্রয়োজন, তা করছে। সাইবার দল ই–মেইল পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। এদিকে পুলিশ প্রথমে জানিয়েছিল যে এই চেষ্টা কোনো আন্ডারওয়ার্ল্ড গোষ্ঠী বা গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, ই–মেইল পাঠানো ব্যক্তি পরে নিজেকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য বলে দাবি করেছেন। পুলিশ এখনো তদন্ত করছে যে এই দাবি সত্য কি না। কারণ তাদের ধারণা, কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এটা করতে পারে।
মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছে। তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পুলিশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বলিউডের একাধিক তারকাকে লক্ষ্য করে যেসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তার মূল উদ্দেশ্য চাঁদাবাজি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ই–মেইলের উৎস ও প্রযুক্তিগত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে রোহিত শেঠির বাড়ির বাইরে গুলির ঘটনা সামনে আসে। সেই ঘটনার দায়ও কথিতভাবে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং নিয়েছিল বলে জানা যায়। অন্যদিকে রণবীর সিংও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কাছ থেকে ভয়েস নোটের মাধ্যমে হুমকি পেয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনার জেরে বলিউড মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বলিউডে বাড়ছে উদ্বেগ
গত কয়েক বছরে বলিউডের কয়েকজন শীর্ষ তারকা, প্রযোজক ও ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে সালমান খান একাধিকবার হুমকি পেয়েছেন বলে পুলিশি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। বিটাউন তারকাদের আবাসনের আশপাশে সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্তের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি
একের পর এক হুমকির ঘটনার পর এখন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন সিনে এমপ্লয়িজ (এফডব্লিউআইসিই) মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফরনবিসকে চিঠি লিখেছে। এই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও ডিজিটাল মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির বহু পরিচিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নাকি হুমকি পেয়েছেন এবং তাঁরা গুরুতর নিরাপত্তা আতঙ্কের মুখোমুখি হয়েছেন। এর ফলে ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরে সামগ্রিক মনোবলে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আর সবাই এসব ঘটনা ঘিরে রীতিমতো ভীত।’ এমন পরিস্থিতিতে সংস্থাটি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই সমস্যাগুলোর প্রতি নজর দেওয়া এবং ইন্ডাস্ট্রির সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
কে এই লরেন্স বিষ্ণোই?
লরেন্স বিষ্ণোই উত্তর ভারতের এক কুখ্যাত গ্যাংস্টার, যাঁর বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি ও অপরাধী চক্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তাঁর গ্যাং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি। অতীতে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম দেশজুড়ে আলোচনায় আসে।
পুলিশের দাবি, এই চক্র প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গোপন যোগাযোগ রক্ষা করাও তাদের কৌশলের অংশ।
বর্তমানে আয়ুশ শর্মাকে পাঠানো হুমকিমূলক ই–মেইল নিয়ে তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বলিউডের অন্যান্য তারকার ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।