জানকি বোড়িওয়ালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
জানকি বোড়িওয়ালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

জেন-জিদেরই কেন সবচেয়ে ‘পারফেক্ট’ প্রজন্ম মনে করেন জানকি

গুজরাটি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ জানকি বোড়িওয়ালা ধীরে ধীরে বলিউডেও নিজের জায়গা তৈরি করছেন। হিন্দি ছবি ‘শয়তান’-এ তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়ে। গুজরাটি ছবি ‘বশ’-এ তুখোড় অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার জিতেছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। সর্বশেষ ‘মারদানি ৩’ ছবিতেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে।
সম্প্রতি নবভারত টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবনের শুরু, কঠিন চরিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা, সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ ও জেন-জি প্রজন্ম নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন জানকি। জানান, ছোটবেলা থেকে অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল দন্তচিকিৎসক হওয়া। সে অনুযায়ী পড়াশোনাও শুরু করেছিলেন। তবে বাড়িতে সিনেমার পরিবেশ ছিল। তাঁর বাবা ছিলেন চলচ্চিত্রপ্রেমী। প্রায়ই বাড়িতে সিনেমা দেখা হতো। সে সূত্রেই একদিন বাবার অনুরোধে একটি অডিশনে অংশ নেন।

প্রথম অডিশনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে জানকি বলেন, ‘প্রথম অডিশনটা খুব ভালো হয়নি। আমি নিজেই বুঝতে পারছিলাম যে আমি খুব নার্ভাস। তবে পরিচালক আমার মধ্যে কিছু একটা দেখেছিলেন। আমাকে প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়। তারপর গুজরাটি ছবিতে সুযোগ পাই। ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।’
‘শয়তান’ ছবির চরিত্রটিকেই নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো কাজ বলে মনে করেন জানকি। একই গল্পের গুজরাটি সংস্করণে অভিনয়ের পর হিন্দি সংস্করণেও একই চরিত্রে অভিনয় করা তাঁর জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

জানকি বোড়িওয়ালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

চরিত্রটির মানসিক চাপ ও শারীরিক ধকলের কথা বলতে গিয়ে জানকি বলেন, ‘চরিত্রটি আমার শরীরকে পুরো নিংড়ে নিয়েছিল। শুটিংয়ের সময় আমাকে শারীরিকভাবে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রতিদিন ক্লান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরতাম। শরীরে ছোটখাটো আঘাত লেগেই থাকত। মা খুব ভয় পেতেন। কিন্তু আমি জানতাম, এই চরিত্র আমাকে অনেক কিছু শেখাবে।’ তাঁর ভাষায়, ‘একজন অভিনেতার জন্য এমন চরিত্রই আসল পরীক্ষা।’
‘মারদানি ৩’ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন জানকি। নারী নির্যাতন ও অপরাধের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে কাজ করতে গিয়ে তিনি আবেগতাড়িত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যখন পড়ি বা শুনি, খুব কষ্ট হয়। রাগও হয়। মনে হয়, আমরা সমাজ হিসেবে আরও সচেতন হতে পারতাম।’

সহ-অভিনেতাদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান জানকি। বিশেষ করে ‘মারদানি ৩’-এর শুটিংয়ে রানী মুখার্জির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে অনুপ্রেরণাদায়ক, ‘ওনার প্রাণশক্তি, পেশাদারত্ব আর কাজের প্রতি নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করেছে। সেটে উনি খুব মনোযোগী, আবার একই সঙ্গে সবার প্রতি আন্তরিক।’
জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধি জানকি। এ প্রজন্ম নিয়ে প্রচলিত সমালোচনার জবাব দিতেও পিছপা নন জানকি, ‘অনেকে বলেন, আমরা সিরিয়াস নই বা খুব বেশি আরামপ্রিয়। কিন্তু আমি মনে করি, আমরা সবচেয়ে পারফেক্ট প্রজন্ম।’ কেন এমন মনে করেন? জানকির ব্যাখ্যা, ‘আগের প্রজন্মগুলো অনেক দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে নিজেদের ইচ্ছাগুলো চাপা দিয়ে রাখত। আমরা সেটা করি না। আমরা কাজও করি, আবার জীবনটাও উপভোগ করি। নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের কথাও ভাবি। নিজের সীমারেখা টেনে দিতে জানি।’ তাঁর মতে, এই ভারসাম্যই জেন-জি প্রজন্মের সবচেয়ে বড় শক্তি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানকি বলেন, নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো ঘরানায় আটকে রাখতে চান না। বাণিজ্যিক ও বিষয়ভিত্তিক—দুই ধরনের ছবিতেই কাজ করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি এমন চরিত্র চাই, যেগুলো আমাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেবে। যেগুলো করতে গিয়ে আমি ভয় পাব, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভয় জয় করতে পারব।’

জানকি বোড়িওয়ালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে