বিশেষ একটি চরিত্রে হ্যাটট্রিক করলেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি। পাশাপাশি তিনি প্রথমবারের মতো একটি হিন্দি গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছেন। অভিনয় ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বললেন এই অভিনেত্রী।

বায়োপিক, ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ ও এই নতুন চুক্তিবদ্ধ হওয়া ‘মুজিব ভাই’—এই তিন সিনেমাতেই আপনি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী?
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের সময় একটি চরিত্রের জন্য অনেক মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। আমি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়ে আত্মহারা ছিলাম। ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ ও ‘মুজিব ভাই’ সিনেমায় আবার একই চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি। এটাই আমার কাছে অবাক লাগে। আমি সৌভাগ্যবানদের একজন। মাঝেমধ্যে আমার বিশ্বাস হয় না, এত ভালো সুযোগ আমি পাচ্ছি। দিন দিন চরিত্রটিতে আমি বরাদ্দ হয়ে যাচ্ছি।
একই চরিত্রে তিন ছবিতে অভিনয়, কতটা চ্যালেঞ্জিং?
যত ভিন্নতাই আনা হোক, চরিত্র তো একটাই। কিন্তু আমি চেষ্টা করি যেন কোনোভাবেই তিনটা সিনেমা দেখে মানুষ যেন এক না বলেন। প্রথম সিনেমা থেকে এখন আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে। বঙ্গমাতা যেমন ছিলেন, তেমন বাস্তবিকভাবে অন্যগুলোতে নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এবারও একই চেষ্টা থাকবে। এটাই আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
‘মুজিব ভাই’–এ আপনার চরিত্রের নতুন কোন দিকগুলো গুরুত্ব পাবে?
আগে আমি ১৭ বছর বয়সী ফজিলাতুন্নেছার চরিত্রে অভিনয় করেছি। এবার হয়তো আরও কিছুটা বয়স বাড়বে। কারণ, নতুন গল্পে বঙ্গবন্ধুকে দেখা যাবে, তিনি রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি সচেতন। নতুন গল্পে বঙ্গবন্ধুকে আরও বেশি জেলে যাওয়া–আসার মধ্যে থাকতে দেখা যাবে। এই সময়ে বঙ্গমাতার ভূমিকা কী, সেটাই আমার মধ্য দিয়ে সিনেমায় তুলে ধরা হবে। আমার চরিত্রটি ঘরে ও বাইরে—দুই জায়গাতেই সরব থাকবে। এগুলো আগে অন্য সিনেমায় করিনি।
বায়োপিকের কিছু অংশের শুটিং ঢাকায় হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে আপনার কোনো অংশ রয়েছে?
মনে হয় না। আমার অংশ মুম্বাইতেই শেষ হওয়ার কথা।
‘মুজিব ভাই’ সিনেমার শুটিং কবে?
তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। তবে এই মাসেই শুরু হওয়ার কথা। যেকোনো সময় শুটিং শুরু হলেও আমি অংশ নিতে পারব। কারণ, আমি গল্প ও চরিত্রের মধ্যেই রয়েছি। বারবার চিত্রনাট্য পড়ছি।
হিন্দি গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করলেন...
হ্যাঁ, অনেক ছোট থাকতে একবার মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছিলাম। এতই ছোট ছিলাম যে সেটা কবে, তা–ও ভালো করে মনে নেই। বড় হওয়ার পর প্রথম হিন্দি গানের মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করলাম। আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। আমরা প্রায়ই হিন্দি গান দেখি। এখন আমাকেই দর্শক হিন্দি গানে দেখবেন, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।
ফেসবুকে দেখলাম কবিতা লিখছেন, মানুষ প্রেমে পড়লে শুনি কবিতা লেখে...
হা হা হা। এগুলো সব আমার লেখা নয়, বেশির ভাগ সংগৃহীত। কোনো কবিতা বা গানের লাইন ভালো লাগলে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করি। আর প্রেম নয়, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি। বিয়েশাদি নিয়ে তো একদমই ভাবছি না। অনেকেই লেখেন, আমি প্রেম করি। গুজবে কান দেবেন না। প্রেমে জড়ালে আমার মুখ থেকেই শুনবেন। ছোট দীঘিকে যেভাবে মানুষ কাজ দিয়ে চিনেছেন, বড় দীঘিকেও মানুষ সেভাবেই নতুন কাজ দিয়ে চিনবেন, সেই চেষ্টা করছি।
তৌহিদ আফ্রিদির সঙ্গে প্রায়ই আপনাকে দেখা যায়...
আমরা দুই বছর ধরে ভালো বন্ধু। আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অন্য রকম।
আপনারা একসঙ্গে টিকটক করেন, পর্দায় কখনো দেখা যাবে?
আমি বড় পর্দার মানুষ। যখন সময় পাই একসঙ্গে টিকটক করি। আমি জানি না ও কোনো দিন সিনেমা করবে কি না। মাঝেমধ্যে ওকে বলি অভিনয় করার কথা। সে নিজেও কনফিউজড। সে যদি নাম লেখায় আর ডিরেক্টর, প্রযোজক চাইলে দর্শক অবশ্যই আমাদের টিকটকের বাইরে বড় পর্দায়ও দেখবেন।