‘রকস্টার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও সাবিলা নূর। ছবি: ফেসবুক থেকে
‘রকস্টার’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন শাকিব খান ও সাবিলা নূর। ছবি: ফেসবুক থেকে

‘দর্শকদের কেমন লাগছে, সেটা বুঝতে আরও সময় লাগবে’

ঈদের ঠিক আগের দিন হঠাৎই দেখা যায় শঙ্কার মেঘ। গত ঈদুল ফিতরে শাকিব খান অভিনীত আবু হায়াত মাহমুদের সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আ ইন ঢাকা’ ডিসিপি-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রথম কয়েক দিন মাল্টিপ্লেক্সে চলেনি। এবার সিনেমাপ্রেমীদের মনে তৈরি হয়েছিল তেমন শঙ্কা। গত বুধবার ঢাকার মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স তাদের ফেসবুক পেজে এক বার্তার পর ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা শাকিব খানের ‘রকস্টার’ সিনেমার প্রদর্শনী নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। স্টার সিনেপ্লেক্সের ফেসবুক পেজে লেখা হয়, রকস্টার ও মাসুদ রানা-এর কনটেন্ট ফাইল এখনো তাদের হাতে পৌঁছায়নি। ফলে আপাতত সিনেমা দুটির শো-সূচি প্রকাশ কিংবা টিকিট বিক্রি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এর পর থেকেই শাকিব–ভক্ত আর সিনেমাপ্রেমী উদ্বেগ প্রকাশ করতে থাকেন। কিন্তু সেটা বেশিক্ষণ থাকেনি। ঈদের আগের রাত থেকেই টিকিট বিক্রি শুরু করে মাল্টিপ্লেক্সটি। তবে কে জানত, ক্ষণিকেরই সেই উদ্বেগ রূপ নেবে উৎসবে।

এবারের ঈদে সর্বোচ্চসংখ্যক হল পেয়েছে ‘রকস্টার’। মাল্টিপ্লেক্স চেইন, একক হলসহ মোট ১০৩টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে সিনেমাটি। গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি পেয়েছিল ১৮টি শো। অনেকেই সিনেমাটি দেখতে চেয়েও টিকিট পাননি। দর্শক–চাহিদায় এক দিনের ব্যবধানেই দ্বিগুণ হয়েছে ‘রকস্টার’–এর শো! প্রথম দিন ১৮টি প্রদর্শনী থাকলেও এখন সেটি বেড়ে হয়েছে ৩৬টি।

মুক্তির পর গত দুই দিনে সিনেমাটি দেখে শাকিব খানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অনেক দর্শক। সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ সময়ই অ্যাকশনের মেজাজে দেখা গেছে অভিনেতাকে। খোলনলচে পাল্টে এবার তিনি হাজির হয়েছেন সংগীতশিল্পীর চরিত্রে। সিনেমাটিতে আগের দৃশ্যে অভিনয়, গানে পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন অনেক দর্শক।

‘রকস্টার’–এর পোস্টারে শাকিব খান ও সাবিলা নূর। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সৌজন্যে

এদিকে মুক্তির প্রথম দিনেই দর্শক প্রতিক্রিয়া দেখতে হলে গিয়েছিলেন সিনেমাটির নির্মাতা আজমান রুশো ও অভিনেত্রী সাবিলা নূর। এ সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নির্মাতা জানান, এ সিনেমার মাধ্যমে নতুন শাকিবকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সিনেমায় অ্যাকশন বা আইটেম গান নেই। এত দিন ধরে যে ধারা চলে আসছিল, সেখান থেকে আমরা নতুন কিছু দর্শকদের দিতে চেয়েছি। এখন ভালো লাগা বা খারাপ লাগা আপেক্ষিক ব্যাপার। মাত্র একটি বা দুটি শো শেষ হয়েছে, সিনেমাটি দর্শকদের কেমন লাগছে, সেটা বুঝতে আরও সময় লাগবে।’

রকস্টার নিয়ে নিজের দর্শন তুলে ধরে নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমরা আসলে প্রচলিত বাণিজ্যিক ধারার বাইরে গিয়ে সামগ্রিক ভিশন, ভিজ্যুয়াল ও গল্প বলার ভঙ্গিটা একটু পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। হলিউড বা বলিউডের মতো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও যেন ভিন্ন ভিন্ন জনরার সিনেমা তৈরি হতে পারে, সেই উদ্দেশ্য এবং ঝুঁকি নিয়েই এই সিনেমা বানানো।’

এদিকে মুক্তির দিনেই ঈদের রাতে এসেছে ‘রকস্টার’–এর নতুন গান, ‘আমি যাব হারিয়ে’। রোমান্টিক গানটির ভিজ্যুয়াল আর শাকিব–সাবিলার রসায়নে মুগ্ধ নেট–দুনিয়া। দেশি ভক্তরা তো বটেই বিভিন্ন দেশের ইউটিউবারও গানটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। রোমান্টিক ঘরানার ‘আমি যাব হারিয়ে’ গেয়েছেন অঙ্কন কুমার। আজমান রুশো ও অঙ্কন কুমারের লেখা গানটির সুর করেছেন জাহিদ নীরব। এর আগে আসা ‘পিরিতি’ ও ‘আমাকে উড়িয়ে দাও’ গান দুটিও একইভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

সিনেমায় শাকিব খানকে দেখা গেছে এক সংগীতশিল্পীর চরিত্রে। আজমান রুশোর গল্পে নির্মিত ছবিতে একজন সংগীতশিল্পীর জীবনসংগ্রাম, উত্থান–পতন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। আজমান রুশো জানান, নির্মাণে আসার আগে তিনি নিজেও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিজের জীবন ও বাস্তব জীবনের রকস্টারদের নানা অভিজ্ঞতার মিশেলে তিনি এই গল্প তৈরি করেছেন। সিনেমাটিতে শাকিবের সঙ্গে আরও আছেন সাবিলা নূর, তানজিয়া মিথিলা ও সুনিধি নায়েক।
সিনেমাটির বেশির ভাগ গানের কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন আহমেদ হাসান সানি। গানগুলোয় কণ্ঠও দিয়েছেন তিনি। সংগীত পরিচালনায় আছেন জাহিদ নিরব। অঞ্জন চৌধুরী নিবেদিত সান মোশন পিকচার্স লিমিটেড প্রযোজিত সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন নুসরাত মাটি। সংলাপ লিখেছেন আয়মান আসিব ও সামিউল ভূঁইয়া। সিনেমাটির এক্সক্লুসিভ স্ট্রিমিং পার্টনার চরকি। সিনেমাটির সব গান মুক্তি পাচ্ছে এসভিএফ মিউজিক, চরকি, বিলিং মিউজিকের অফিশিয়াল চ্যানেলে।

‘রকস্টার’–এ সাবিলা ও শাকিব। ভিডিও থেকে